ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো আন্তর্জাতিক কিংবা জাতীয় দিবসগুলোকে কেন বিশেষ দিন মনে করা হয়! দিবস আসলে সেই দিনগুলোকেই করা হয় যে দিনগুলো বিশেষ কোন স্মৃতিময় কিংবা বিশেষ কোন ঘটনাকে মনের মাঝে সবসময় ধারন করার উদ্দেশ্যে দিবস ধার্য করা হয়!

এই যেমন ধরুন একুশে ফেব্রুয়ারি! কেন পালন করা হয় একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে? কারন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে বাংলাদেশে শহীদ হয়েছিলো কতকগুলো সাহসি যুবক! প্রথমে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হলেও পরবর্তীতে জাতিসংঘ দিবসটাকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়!

এবার আসি, যদি দিবসগুলো না থাকতো তাহলে কী হতো? ধরুন একুশে ফেব্রুয়ারি বলে কোন দিবস নাই! কি হতো তাহলে? না, কিছুই হতো না! কয়েক কোটি টাকার ফুল বিক্রি হতোনা এইযা! এটা কোন সমস্যা না! সাথে সাথে আরো কিছু জিনিস অবশ্য হতো, সেটা হলো মানুষের ফুল দেওয়া দেখে, মাইকে গান শুনে ইতিহাস না জানা মানুষটা আর কাউকে জিজ্ঞাসা করতো না ওইদিন কি হয়েছিলো! বুঝতে শিখতে শুরু করা বাচ্চাগুলো জানতে চাইতো না ইতিহাস! জিজ্ঞাসা করতো না, আচ্ছা সবাই এই গান কেন বাজাচ্ছে, এইদিন কি হয়েছিলো?

এবার বিপরীতার্থক যুক্তি হচ্ছে, কেন একদিনই ইতিহাস মনে করতে হবে? এগুলো প্রতিদিন মনে রাখার বিষয়! হ্যা, মানছি প্রতিদিন মনে রাখার বিষয়! কিন্তু আসলেই কি প্রতিদিন মনে রাখা হয়?  নাকি দিবসগুলোতে মনে করে, স্মৃতি স্মরণ করে বছর পার করে দেওয়া হয়? মজার ব্যাপার হলো যে মানুষটা দিবস পালন করা পছন্দ করেনা সেও দিবসগুলোতে দিবস পালনের বিরোধি যুক্তি দাঁড় করিয়ে হলেও দিবসের ইতিহাস স্মরন করে! এখানেই তো দিবস ধার্য করার সফলতা!

দিবসগুলো হচ্ছে স্মৃতির পাতার স্মৃতিগুলোকে মনে করিয়ে দিয়ে সঠিক পথে জীবন চালনার হাতিয়ার!