ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

গত তিনদিন পূর্বে বিমান দূর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করা জুনায়েদ জামশেদ ছিলেন পাকিস্তানের একজন নামকরা ইসলামিক শিল্পী। তিনি শুরুর দিকে তার জীবনটাকে ইসলামিক ভাবে না চালালেও পরবর্তী কালে ইসলামের ছায়াতলে এসে ইসলামের দাঈ বা দ্বীন প্রচারক হিসেবে পরিচিত হন। প্রথমে তিনি ছিলেন পপ শিল্পী। গান-বাজনা করে করে জীবন পরিচালনা করতেছিলেন। গান গেয়ে মোটা অংকের টাকা কামিয়ে। দিনগুলি তার ভালোই কাটতে লাগছিল। এরপর হঠাৎ করে তার জীবনে একটা বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

জুনাইদ জামশেদ জন্মগ্রহণ করেছিলেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার পিতা ছিলেন খুবই সৎ লোক। আর এ কারণেই ইসলামকে বুঝা তার জন্য সহজ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তো একদিন রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তাবলীগ জামাতের মেহনতি মানুষের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ কি মনে করে যেন, গাড়ি থামিয়ে তাদের সাথে মুসাফা করে অল্প কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে চলে গেলেন।

এরপর তাবলীগ জামাতের লোকজন। তাকে নিয়ে মসজিদের ভিতর আলাপ আলোচনা করতে লাগল। সে সময় জুনাইদ জামশেদের এক বন্ধু সেখানে ছিল। তখন তারা ভাবল আমরা তো এখন তার বাড়িতে গিয়েও ইসলামের দাওয়াত দিতে পারি। এরপর দীর্ঘ তিন বছর যাবত, তাবলীগ জামাতের লোকজন তাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে আসছিল।

অতঃপর গত ১৩ বছর পূর্বে তাবলীগ জামাতের মেহনতে জুনাইদ জামশেদ সঙ্গীত জগতকে বিদায় জানিয়েছেন। এবং গান-বাজনা পরিত্যাগ করে দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম হয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিশিষ্ট দাঈ বা দ্বীন প্রচারক ছিলেন। তিনি সারা বিশ্বে ইসলাম প্রচার করে আসছিলেন। এবং সেই সাথে তিনি তার সুমিষ্ট কন্ঠকে, ইসলামের জন্য কাজে লাগিয়ে হামদ, নাথ গেয়ে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ইসলামিক শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

অতঃপর জুনায়েদ জামশেদ ও তার পরিবার সহ, গত ৭ই ডিসেম্বর ২০১৬ সালে  বিমান দুর্ঘটনায় চিত্রাল থেকে ইসলামাবাদে যাওয়ার সময় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চিত্রালে তাবলীগ জামাতের একটি মিশনে ছিলেন এবং সেখান থেকে বিমানে করে ইসলামাবাদে ফিরছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে যেন উত্তম প্রতিদান দান করেন (আমিন)।

বিঃদ্রঃ লেখার মাঝে কোন ভুল হলে ‘রাশেদ বিন জাফর’ সেটাকে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

slide

জুনাইদ জামশেদ