ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

গল্পের শুরুটা শেষ বাক্য থেকেই শুরু! “ব্যাবসায়ী উদ্যোক্তা হওয়া অনেক কঠিন তাই সবাই কর্মচারী হওয়ার দিকেই দৌড়ে”- কথা শেষ হতেই আমি বললাম তাই নাকি? হাসি মুখে উত্তর দিলো বন্ধুদের স্বপ্নের কথা শুনেই বলেছি। তখন বুঝলাম সে চাকুরীর কথা বলছে। নিশ্চয়ই তার বন্ধুরা চাকুরির পেছনে দৌড়াচ্ছে। আর সে পূর্ণ উদ্যোমে ব্যাবসা করছে। শেষ বেলায় বলে আসলাম কর্মচারী হয়েও কিন্তু যে কোন বিষয়ের উদ্যোক্তা হওয়া যায় ।

ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পেলাম তার কন্ঠে…বছর কয়েক পরপর কিভাবে সরকারের কাছে থেকে বেতন বাড়াবেন সেই কৌশল আর কি! এটাই নতুন উদ্যোক্তা। আঁতে ঘা। এরপরেও তর্কে গেলাম না।
… … … … …
… … … …
এক……।
গ্রামে কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে। কারো বাড়ির কোন সন্তান সরকারি চাকুরি করলে তার প্রশংসায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে হয়। আবার তার বন্ধুটিই যখন ব্যাবসায় ক্যারিয়ার গড়তে উঠেপড়ে লেগে যায় তখন মানুষের কাছে সে নেতিবাচক কিছু শব্দ শুনতে পায়। যেমন- কি করবো পড়ালেখায় ডাব্বা! তাই ব্যবসা জুড়াইছে। দেখেন কয়দিন টিকে …! কেউ এরকম শব্দ না শুনলেও আমি শুনেছি। আপনি ভাবুন দেশের কতজন মানুষ চাকুরি করে? ভবিষ্যতে কতজন চাকুরি পাবে? উত্তরটা খুবই ছোট সংখ্যায় হবে এটা নিশ্চিত। তবে সকল মানুষের ভাবনা কিন্তু ঐ ছোট্ট সংখ্যা নিয়ে। বছরকে বছর লেগে থাকে সরকারি কর্মচারী হওয়ার স্বপ্নে। কত দৌড়ঝাপ দেখা যায় একটা চাকুরির জন্য। অথচ আমরা ভাবি না এই স্বপ্ন দেখার সময়টুকুতেই কেউ একজন ব্যাবসায় সাফল্যের সিড়ি বেঁয়ে শুধু উপরেই উঠছে। ব্যাপারটি আকাশের মতই সত্য। একসময় আমি চায়ের দোকানে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়তাম আর ঐ সমবয়সী কে দেখতাম ছোট্ট কাগজে ব্যাবসার টাকার হিসেব মেলাচ্ছে। আজ সে বলছে বাসা করার প্লট লাগলে বলিয়েন, আমার একটা জমি আছে দিমুনে। যে দাম অন্যখানে কেমনে কিনবেন!

দুই……।
এক পরিচিত মানুষের সাথে বছর কয়েক পর দেখা। কি করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বললো, কাপড়ের দোকান আছে। আমি বললাম আপনার আরেক বন্ধু আছে সে কি করে? উত্তরে বললো একটা বেসরকারি কলেজে যোগদান করেছে। আপনি করেননি কেনো? এই উত্তর শুনে পুরাই মাথা চক্কর! আমার মেধা তেমন না যতটা জাতি গড়তে প্রয়োজন তাই ব্যাবসা। কি দরকার আছে পরবর্তী প্রজন্মকে ঠকানোর। আমি ব্যাবসায় ভালো করবো এটা মনে হয়েছিলো তাই এই সিদ্ধান্ত। আমি ভাবছি এখন অনেকেই কিছু না করতে পেরে শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নেয়ার চেষ্টা করে। এটাই বাস্তবতা। এখানে নিজের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে অথচ জাতির স্বপ্নে ফাঁকি।

তিন……।
ভার্চুয়াল জগতে ঘুরপাক হলেই ক্যারিয়ার নিয়ে বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে শুনা যায়। অধিকাংশ মোটিভেশন হয়ে থাকে চাকুরি প্রসঙ্গে। আমাদের চোখের সামনে পড়ালেখা করা শিক্ষার্থীর অনেকেই ব্যাবসায় নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে তার স্বপ্নগুলি যে পূরণ হচ্ছে তা নিয়ে আমরা অন্যকে স্বপ্ন দেখাই না। সেই স্বপ্ন দেখানোর গল্পে জায়গা পায়না অধিকাংশ শিক্ষার্থীর তার নিজস্ব সৃজনশীলতায় ক্যারিয়ার গড়ে উপরে উঠার কাহিনী। আমাদের ভাবখানা এমন যে ঐ কর্মচারী হওয়াটাই যেন স্বপ্নের শেষ সিঁড়ি। এছাড়া অন্য কোন জীবন নেই। হতে পারে সবার ব্যাবসা করার পুঁজি নেই তবে অনেকেরই আছে শুধু বলার মানুষটি নেই কেউ তাকে বলবে, তুমি অন্য পথেও জয়ী হতে পারবে। তুমি তো মেধাবী। মেধাবীদের পেছনে যাওয়ার রাস্তা নেই…সামনের পথ দিয়েই লক্ষ্য খুঁজে নিতে হবে।

চার……।
সেদিন কজমেটিসিয়ান এর পাশে একটি বই রাখা। ভাবলাম এখানেও বই রাখে নাকি! কারন যমুনা ফিউচার পার্কে আড়ং এ বই পাওয়া যায়। আমি নিজেও কিনেছি। জিজ্ঞাসা করলাম এটা কার? সে বলল আখতারুজ্জামান আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম তাই বইটা কিনেছি। সময় পেলেই একটু পড়ি। মনে মনে ভাবলাম ইজ্জত আর নাই! দুইটা বই পইড়া যেভাবে ফেসবুকে জানান দেই…!
… …
এই প্যাচালের কারণ একটাই। চাকুরি কইরা নিজেকে মেধাবি প্রমাণিত করেছি এই ভাব মাইরা চলতাম। কিন্তু অনেক মেধাবি যে চাকুরি করে ক্যারিয়ার গড়বে এটা ভাবেই নি তা আমার জানা ছিলো না…! আমার ভুল ভেঙ্গেছে।