ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

আনন্দও হয় আবার দেশসেবাও হয়! এক ঢিলে দুই পাখি উড়ানো। রেলফ্যানরা স্টেশনের ছবি তোলে সেই ছবি রেলফ্যানদের গ্রুপে পোস্ট দেয়া হয় । কখনো স্টেশনের অসঙ্গতিগুলোও ফেসবুকে জানান দেয় । স্টেশনের কিছু ভালোলাগা বিষয় সম্পর্কেও মতামত ফেসবুকে শেয়ার করে । এরকম ভাবেই রেলফ্যানগন উদ্যোগ নিলো স্টেশনে প্রতিটি হকার ঝুড়ি বহন করবে । তার ময়লা নিজেই ঝুড়িতে রাখবে । ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় পরিকল্পনা সফল …..! দেখুন কত চমৎকার! পুলিশ জনগন একই সাথে। একই আনন্দে ।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধ কার্যক্রম সেটাতেও রেলফ্যান পুলিশ একই সাথে । আমরা রেলফ্যান ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের কুফল সম্পর্কে লিফলেট প্রচার করেছি । প্রায় সারা বাংলাদেশে এই কার্যক্রম করা হয় । এখানে রেলফ্যানরা সামাজিক কাজও করলো আবার রেল ভ্রমনটাও হলো । মানে রেলফ্যানিং ১০০% !

পুলিশও একই সাথে ভিন্নভাবে কাজ করতে লাগলো । প্লার্টফর্মে স্টল করে বা মাইক নিয়ে বিভিন্ন রুটে প্রচারণা করলো । সেখানেও রেলফ্যান ছিলো । তাদের কার্যক্রম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আরো বেশি প্রচারে সাহায্য করলো।

আবার হিজরা সমস্যায় একই পদ্ধতি গ্রহন । মানে মোটিভেশন! আমরা রেলফ্যান স্টোশনে এসে হিজরাদের সাথে কথা বললাম । বিভিন্ন ভাবে বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করলাম । এবং অনেকটা সফলও হলাম । তারা অনেকেই না বুঝে অন্যায় করে ফেলতো অর্থাৎ যাত্রীদেরকে ভিন্নভাবে বিরক্ত করে টাকা আদায় করতো যা জনমনে আতংক ! সেখানেও আমরা চেষ্টা করেছি যেন এটা কমে যায় । সেই সাথে লক্ষ্য করলাম পুলিশও আমাদের মত । লাঠির পরিবর্তে মোটিভেষন !সেটাও সফল হলো । হয়তো পুরোপুরি নয় । তবে শুরুটাতো করেছি ।

সমস্ত পরিকল্পনায় ময়মনসিংহ জংশন কর্তৃপক্ষও সহায়তার হাত দিলো । আমাদের মানসিক সাহায্যে এগিয়ে আসলো । আরএনবিও একটু গতিশীল হয়ে আমাদের সাথে থাকলো । ট্রেনের ছাঁদে ভ্রমনের কুফল পুলিশের মত তারাও প্রচার করতে লাগলো । আমরা সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিলাম । এভাবেই রেলফ্যানিংটা আনন্দের সাথে সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশসেবায় এগিয়ে গেলো ।

সেদিন Bangladesh Railway ফেসবুক গ্রুপ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে রেলফ্যানগন পুলিশকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন । ময়মনসিংহ জংশন কতৃপক্ষ ও আরএনবিকে শুভেচ্ছা উপহার দেয়া হয় । শুধু ভালোবাসা থেকে ।

বাংলাদেশে এমনটা এই প্রথম । আনন্দ ও দেশসেবা যেন একই সুত্রে গাঁথা । জয় হোক রেলফ্যানিং