ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

সিলেটের ঐতিহ্যের গল্প শেষ হবার নয় । একে ‘ঐতিহ্যের ভান্ডার’ বলে অভিহিত করলেও বেখাপ্পা লাগবে না । শিক্ষা বলেন আর বানিজ্য বলেন । সবকিছুতেই এই সিলেটের অবস্থান শক্ত । শিল্প সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যময় ইতিহাস ধারণ করে আমাদের দেশের সিলেট অঞ্চলটি ।
* বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদেও সিলেটের লেখক ছিলেন । ময়মনসিংহ গীতিকার ১০টি গীতিকার ৭ টি সিলেটের । যদিও নাম ময়মনসিংহের ! মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য সৈয়দ সুলতান, দৌলতকাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর, মোহাম্মদ কবির, মোহাম্মদ ছগির, সাধক কবি শেখ চান্দ প্রমুখ কবির অবদানে সমৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশ গর্ববোধ করে । এ সকল কবি যে সিলেটেরই সন্তান ছিলেন তা নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত হয়েছে *[তথ্য-ফরিদ আহমেদ/সিলেট ইতিহাস ও ঐতিহ্য]
বৈষ্ণব সাহিত্যেও সিলেট অগ্রযাত্রায় ছিলেন । ধর্ম সংস্কৃতিতে সিলেট অনেক আগে থেকেই এগিয়ে । হযরত শাহজালাল (র:) ইসলাম প্রচারে সিলেটেই এসেছিলেন । এছাড়া সিলেটের মনোরম পরিবেশ তো দেশ বিদেশের মানুষকে টানে ! পর্যটন সেক্টরে সিলেটের অবদান অনেক । তাছাড়া বিদেশি কর্মসংস্থানে সিলেটের মানুষের ভুমিকা অপরিসীম ।
এই যে এত কথা বলছি এর একটাই কারন তা হলো ময়মনসিংহের সাথে সম্পর্কের সুত্র তুলে ধরতে ।
ময়মনসিংহ কে শিক্ষা নগরী বলা হয় । শিক্ষা উন্নয়নে ময়মনসিংহ কাজ করে যাচ্ছে । এখানে দুটো বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ব ও জাতীয় কবি কাজি নজরুল..বিশ্ব),দুটো মেডিকেল কলেজ,আনন্দ মোহন কলেজ (৩৪০০০ শিক্ষার্থী),সরকারি মহিলা কলেজ,শিক্ষক প্রশিক্ষন কলেজ দুটো,শিক্ষক প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউট,ক্যাডেট কলেজ,ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্টান । এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিলেটের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পড়াশুনা করে । এছাড়া বেসরকারি কলেজগুলো সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষা কর্মশালায়’ সিলেটে সফর করে ।
তাছাড়া সিলেটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য পেশায় ময়মনসিংহের অনেক পেশাজীবী সেখানে চাকুরি করে । ব্যবসা তো আছেই । সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ময়মনসিংহের প্রচুর শিক্ষার্থী  আছে । এসব তথ্য দৃশ্যমান ।
সংক্ষেপে দুটো বিভাগের সম্পর্ক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি । সেটা অনেক ক্ষুদ্র করেই । বাস্তবতা অনেক বড় । একটি অপ্রাসঙ্গিক টপিক এখানে বলার একটিই কারন তা হলো দেশ উন্নয়নে এই দুটো অঞ্চল যেভাবে কাজ করছে সেই তুলনায় যোগাযোগ সম্পর্ক খুবই খারাপ ! মানুষ কষ্ট করে ও সময় নষ্ট করে এই দু অঞ্চল যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে । একে জনদুর্ভোগের পর্যায়েও ফেলতে পারেন । সরকার যোগাযোগ সেক্টরে উন্নয়ন করে যাচ্ছে হয়তো পর্যায়ক্রমে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে । তবে আমরা এই দুই অঞ্চলের মানুষ মনে করি পরিকল্পনার খাতায় আগে থাকা উচিৎ এই যোগাযোগে জনদুর্ভোগে থাকার বিষয়টি । এটি রেল দিয়েই দ্রুত দুর করা সম্ভব । স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন যে এই দুই বিভাগের মধ্যে রেল যোগাযোগ চালু হয়নি তা অনেকের বোধগম্য নয় । হয়তো সক্ষমতার অভাব ছিলো ।
আশাকরি রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সুচনা হবে দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে । রেল মন্ত্রণালয় গুরুত্ব সহকারেই ভাববে । আন্ত:নগর দিতে সমস্যা হলে একটি মেইল ট্রেন হলেও সমস্যা নাই । মানুষ চায় একটি নিরাপদ ও দুর্ভোগবিহীন যাত্রা । সেই অপেক্ষাতেই সিলেট ময়মনসিংহ ।