ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

গতকাল সকাল দশটায় পেট্রাপোল। ভারতীয় কর্মচারি পাসপোর্টে সিল মারার সময় বললো, স্যার এই বিষয়ের প্রফেসর আজ আপনাকেই মনে হলো প্রথম পেলাম। সে আরো যোগ করলো সাবজেক্টের নামটাও প্রথম শুনলাম! উত্তরে বললাম, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রোফাইলটা মনে হয় আপনার দেখা হয়নি (আমিও শুনেছিলাম)! তাহলে নতুন মনে হতো না!

সে যাই হোক মানুষটি চমৎকার। সব নিয়ম শেষ করে ভাবলাম একটু ঘুরেফিরে কলকাতার দিকে যেতে থাকি। অভিষেকের পরামর্শে বনগাঁও রেল স্টেশনে গেলাম । শিয়ালদহ লোকালের টিকেট কাটলাম। কোনমতে ট্রেনটিতে উঠতে পারলাম। খাবার খেতে গিয়ে ঝামেলাটা হয়েছিলো । যাই হোক দৌড়াইয়া কোনমতে ট্রেনের কোচের ভেতরে । পরে টের পেলাম এটা ভেন্ডার কোচ ! হায় আল্লাহ্। দুনিয়ার পার্শ্বেল মাল। যাই হোক পরের স্টেশনে কোচ চেঞ্জ।

ভারতীয় লোকালগুলো বাস্তব চরিত্রের মঞ্চ। মানুষ বসে যাচ্ছে কজন আর! সবাই দাঁড়িয়েই। প্রচণ্ড ভিড় তবে গা বাঁচিয়ে চলা যায়। ট্রেনগুলোর গতি আপনাকে মুগ্ধ করবে। একটু পরপর স্টেশন। খুব কম সময় প্লার্টফর্মে দাঁড়ায়। দেশের কথা মন হলো। সেখানে এত কম সময়ে উঠাটা একটু মুশকিলই হবে মনে হয়! বিপ্লব দেবনাথ ভাইয়ের সাথে কথা হলো। উনি বললেন, দমদম নেমে যান। সেখান থেকেই সবখানে যাওয়া যায়।

লোকাল ট্রেনে ভিন্ন পেশার মানুষ। আমাদের দেশের লোকাল ট্রেনগুলোর অবস্থার চেয়ে পদ্ধতিটা অনেক ভালো । মানুষকে দ্রুত পৌছিয়ে দেবার চেষ্টা করে । দমদম স্টেশনে নেমে নিচের স্টেশনে গেলাম মানে পাতাল রেল। মেট্রো রেল বলে একে। টিকেট কাটলো জেনিফার (লম্বা লাইন হয়)। মিনিট ছয়েক পরপরই ট্রেন। মনে হলো এমনটা আমাদের দেশে কবে হবে! ধর্মতলার কথা বলে টিকেট নেয়া হলো কারণ Esplaned নামটি কোনক্রমেই আয়ত্ত্ব হচ্ছিলো না। ট্রেনের টিকেট হিসেবে কয়েন দেয় । এটা নির্দিষ্ট জায়গায় চাপ দিলে প্লার্টফর্মের ইন করার গেটটা ওপেন হয়। পরে মেট্রোতে উঠলাম। ভেতরে সিট খালি ছিলো। বসলাম। প্রবীন নাগরিকদের জন্যে আসন বরাদ্দ আছে। অন্যমানুষ বসা থাকলেও তারা আসলে সিট ছেড়ে দেয় ।

অনেক স্টেশন পার হয়ে ২০ মিনিটের মাথায় বলতেছিলো আমার স্টেশন সামনে। ঘোষনাকারি তিনটি ভাষাতে ইনফর্ম করে। এই স্টেশনগুলোতে প্রচুর শিক্ষার্থী চলাফেরা করে। কিশোর বয়সের অনেক স্মৃতি হয়ে থাকবে এই স্টেশনগুলো বিশেষ করে বন্ধুত্বের ব্যাপারে। কারণ সবাই একসাথে যাচ্ছে। যার গন্তব্য আগে সে নেমে যাচ্ছে। আবার কাল দেখা হবে সেটাও বলে যাচ্ছে।

কলকাতা শহরে এসে রাস্তার ধারে প্রথম যে কাজটা করলাম তা হলো কলকাতা পুলিশকে কিছু জায়গার নাম বলে তথ্য নিলাম। পরে একটা আইসক্রিম দুজনে খেলাম। সামনে ব্যস্ত কলকাতা শহর!