ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

আমার দুই ভাগ্নী মৌনতা আর মায়ামী। মৌনতার বয়স বারো, মায়ামীর আট। কিছুদিন আগে ওরা সবাই আমার এখানে বেড়াতে এসেছিল। দেখলাম ওদের বাবার ফোনটা অধিকাংশ সময়ই ওদের কাছে থাকে। আর তার কারণ হলো গেইমস খেলা। যদিও তাদের খেলার জন্য আলাদা ট্যাব আছে কিন্তু বেড়াতে আসার আগে তা ভুুলে আনা হয়নি। আর আপার ফোনে কোনও গেইমস না থাকায় দুলাভাই এর ফোন নিয়েই দুই বোনের রীতিমত যুদ্ধ। ওদের এই যুদ্ধ থামানোর জন্য মায়ামীকে বললাম যে, সে চাইলে আমার ফোনটা নিতে পারে। সে তো এই প্রস্তাবে মহাখুশি এবং সাথে সাথে দেরী না করে আমার ফোনের উপর ও কব্জা করে ফেলল আর বলল একমাত্র কোনো কল, মেসেজ বা নোটিফিকেশনস এলেই আমি আমার ফোন সাময়িক সময়ের জন্য ফেরৎ পাবো। যাই হোক ফোনের অধিকার হারানোয় মোটেই দুঃখিত হলাম না বরং ওর বাধ ভাঙা খুশি দেখে খুবই ভালো লাগলো। কিন্তু বিপত্তি শুরু হলো ফেইসবুক নোটিফিকেশনস নিয়ে। কিছুক্ষণ পর পর “মামা তোমার ‘অমুক’ ফ্রেন্ড এর মেসেজ”, “মামা ‘সূর্যের হাসি’ তোমার দাঁড়িয়ে থাকা ছবিতে কমেন্ট করেছে ‘কী সুন্দর’! “, “মামা ‘সবুজ ঘাস’ লাইক দিয়েছে ‘কালো কাক’ এর পেইজে আপলোড করা ‘কোকিল কেনো গাছের ডালে’ নামের ভিডিও ক্লিপে” ইত্যাদি ইত্যাদি।

তখনই আমার মনে হলো ফেইসবুকে অনেক সময়ই ফ্রেন্ড লিস্টের কেউ এমন কিছু শেয়ার করলো বা আপনার দেয়ালে ছবি অথবা পোস্টে এমন কিছু লিখলো যা হতে পারে খুব একটা শালীন না কিংবা শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত। ঠিক সেই সময় যদি ফোনটি আপনার সন্তান বা পরিবারের অন্য কোনো শিশুর কাছে থাকে সেগুলো তখন তারও নজরে আসতে পারে যা কোমলমতি শিশুটির জন্য ক্ষতিকর ও একই সাথে বিব্রতকর। এমন ভুল আমার দ্বারাও হতে পারতো যদি আমি এই পরিস্থিতিতে না পরতাম। তাই অন্যদের দ্বারাও এরকম ভুল হতে পারে বিশেষ করে কম বয়সী ফেইসবুক ইউজারদের দ্বারা। আর আমার দেশের বেশিরভাগ বাচ্চারাই বাবা-মার ফোন ব্যবহার করে ছবি তোলা, গেইমস খেলা বা অন্য কিছুর জন্য। আবার খুব কম পরিবারেরই সামর্থ্য আছো একটি স্মার্ট ফোনের পর বাচ্চাদের জন্য কোনো গ্যাজেট কেনার। তাই কোনো কিছু লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করার আগে একটু সচেতন হওয়া এবং নিজের পরিবারের কথা ভাবাটা খুব জরুরী।