ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

বিদেশি সিনেমার আলোর ঝলকানিতে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশিয় সিনেমা। ফলে আমরা হতাশ, আর বিদেশিরা খাচ্ছে ঠান্ডা বাতাস। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে বাংলা সিনেমাকে জিইয়ে রাখতে না পারার ব্যর্থতা আমাদের। বাংলা সিনেমার বর্তমান অবস্থা ও এর সম্ভাবনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি। অযথা পাঠকের সময় নষ্ট করার অধিকার আমার নেই।

এই প্রযুক্তির যুগে বিনোদনের মাধ্যম অনেক। আমরা একটু ফুরসত পেলেই চোখ রাখি ফেসবুক, ইউটিউব ও টেলিভিশন চ্যানেলে। এইগুলোতে আমরা কী দেখছি তা আমরা নিজেরাই ভাল জানি। আমাদের মধ্যে সামাজিকতার অভাবটা দিন দিন বাড়ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে হচ্ছে একক পরিবার। আমাদের অনেকেই একা একা থাকতে পছন্দ করে। দল বেধে সিনেমা দেখার প্রবণতা খুব কম।

আমাদের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ, তাদের মননে পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি ধারণ করছে। বাংলা সিনেমার প্রতি তাদের অনীহা। এর বিশেষ কারণ হলো নিজেদের অতি স্মার্ট মনে করা। স্মার্ট হতে ক্ষতি নেই, তবে আমাদের ভেবে দেখা উচিত স্মার্ট নামে আমরা ভণ্ডামি করছি না তো? আবার অনেকের ধারণা যারা বাংলা সিনেমা দেখে তারা আনস্মার্ট। বন্ধু মহলে বাংলা সিনেমা দেখেছি বা দেখব এমন কিছু বললে অনেকেই বাকা চোখে তাকিয়ে হাসে। এ হাসি শীতের ঠোঁট ফাটা হাসিকেও হার মানায়। মোদ্দা কথা, একে আমি সংস্কৃতির অবক্ষয় বলেই মনে করি। আমাদের উচিত এ ধরণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা।

6601845187_102dbbfa81_b

.

বাংলা সিনেমা আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে লালন করে। বর্তমানে এই শিল্পে যারা কাজ করতে আসছে তাদের আচার আচরণে, কাজ শুরুর পূর্বেই সেলিব্রিটি সেলিব্রিটি ভাব লক্ষণীয়। তাদের মধ্যে পেশাদারিত্বের যথেষ্ট অভাব রয়েছে, যা তাদের পূর্বসুরিদের মধ্যে ছিলনা। পেশাদারিত্বের সংজ্ঞাটি তাদের আয়ত্বেই ছিল। বর্তমানের শিল্পীদের মধ্যে এরূপ বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া দুস্কর। পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সিনেমার গুণগত মান উন্নয়নের চেয়ে একাধিক চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার প্রতি এদের আগ্রহ প্রবল। জৈষ্ঠ্য শিল্পীদের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রয়াস চালায় এমন শিল্পীর সংখ্যা খুব কম। পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বয়কট বা নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ খেলা তার প্রমাণ। এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের উন্নয়নে এ ধরনের সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন। ফলে তারা হবে ভাল শিল্পী আর আমরা পাবো ভাল সিনেমা।

দেশের সিনেমা হল গুলোর অবস্থা বর্ণনা করা ঢের শক্ত কাজ। আমাদের সবার অভিযোগ, অশ্লীলতার কারণে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখার অবস্থা নেই। এটি যেমন সত্য ঠিক তেমনি হল গুলোর পরিবেশও প্রশ্নবিদ্ধ। বিভাগীয় শহরে দু-চারটি ব্যতিক্রম হতে পারে। বসার জায়গাগুলো যথেষ্ট নোংরা। পাশাপাশি রয়েছে ছারপোকার বিশেষ ব্যবস্থা। পরিবার নিয়ে একটু আরাম করে সিনেমা দেখা যাবে এমন ব্যবস্থা করা জরুরি।

বাংলা সিনেমার অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, দরজা-জানালা বন্ধ করে দেখতে হতো। বর্তমানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলেই মনে হয়। তবুও ভয় কাটেনি। একসময় বাঁশের এন্টেনা ঘোরাতে ঘোরাতে হাত ব্যথা হলেও মানুষ বাংলা সিনেমা দেখা বন্ধ করেনি। অথচ আজ বাংলা সিনেমা দর্শক টানতে অক্ষম। আমাদের সিনেমাতে ভাল গল্প না থাকাটাও এর অন্যতম কারণ। এলোমেলো গল্প আর শিল্পীদের ছোট ছোট কাপড় পরিয়ে সিনেমা নির্মাণ করলেই মানুষ দেখবে এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। অবশ্যই অশ্লীলতা এড়িয়ে চলতে হবে।

এই শিল্পের পিছিয়ে পড়ার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্য বাজেট স্বল্পতা অন্যতম। অপ্রতুল আধুনিক সরঞ্জামও এর বিশেষ অন্তরায়। অন্যান্য শিল্পের মতো এই শিল্পকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। আর এজন্য প্রয়োজন সরকারের নেক নজর। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন কাজের বাস্তবায়ন।