ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
FB_IMG_1503461752044

আমি কবি মানুষ। সর্বদা সচকিত থাকি। আমার এক বড় ভাই কবি জুয়েল মূর্শেদের আইডি থেকে পাওয়া একটি ছবি। ছবিটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও এ ছবিটি নেতা নেতৃদের বাংলা ভাষার চর্চার জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি ১৫ আগস্টের পর ইতিহাসের সবচাইতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয় ২১শে আগস্ট। যার জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দুটি তারিখ হয়ে গেছে মানুষের দুঃখ ব্রান্ড।

এদিনের প্রতি সন্মান রেখেই বিশেষ আয়োজন গ্রহণ করে বাংলাদেশের আওয়ামী সংগঠনগুলো। এইদিনে শেখ হাসিনাকে মারার গভীর পরিকল্পনা করা হয়। অনেক নেতাকর্মী বিশেষ করে আইভী রহমানের মৃত্যু আমাদের বেশি কাঁদায়। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের স্মরণে রেখেই নানা আয়োজন করা হয়। মিটিং-মিছিল-সভা-সেমিনার-ব্যানার-পোস্টার ইত্যাদি।

কথা বলবো এই সব ব্যানার পোস্টারে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে। যা খুব মারাত্বক ভাবে বাংলাভাষার ব্যবহারের অপচর্চা। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যারা মারা গিয়েছে তাদের জন্য মর্যাদাহানিকর। সারাদেশে ফেইসবুকের সুবাদে এমন এমন পোস্টার দেখা যাচ্ছে যে যাদের ভেতর ভাষার ব্যবহার ২১শে আগস্ট যারা মারা গিয়েছেন তাদের দিকেই ফের তীর হয়ে ফিরে আসে। শুধু তাই নয় সারাদেশে বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভূঁইফোড় সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের অশিক্ষিততাই প্রমাণ করে।

সাথে এও প্রমাণ করে যে যারা এদের আশ্রয় দেন বাংলাভাষার প্রতি তাঁদের চরম উদাসীনতা।  তারা যদি তাদের দলে সৎ ও শিক্ষিত নেতাকর্মী রিক্রুট করতেন তাহলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। ১৯৫২ সালে অনেক বুকের রক্তে কেনা  বাংলাভাষার ব্যবহারের প্রতি সকল নেতাকর্মীদের আরো সতর্ক হতে হবে। আগে বাংলা মায়ের সন্মান দিতে হবে-তারপর অন্যচর্চা হবে প্রধানতম বিষয়।

আমরা এমন ভাষা বা শব্দের ব্যবহার করবো না যার মানে হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। প্রয়োজনে প্রতিটি নেতাকর্মীকে সামান্য করে হলেও পড়াশুনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষা একটি শক্তি। তা যদি থাকে তাহলে অনুধাবনের ক্ষমতা বাড়বে। ১৫শে আগস্ট বা ২১শে আগস্ট আর যেন এদেশে হতে না পারে তার জন্য নজরের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। তা না হলে নিজের ভাষা ভুলে যাবার লজ্জা আমরা রাখবো কোথায়?

মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলাভাষা…।