ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

2016-10-31-17-09-39-789

বাবা জালাল রেন্ট- এ কারের মাইক্রোবাস চালক, মা মিনারা বেগম- গৃহিনী, ঘরে ছোট্ট বোন। টিনের চাল আর ভাঙা বেড়ার ছাউনি তাদের। হ্যা বর্তমানে দেশের মানুষের আলোচনার শীর্ষ বিন্দু মিরাজের কথাই বলছি। এক কক্ষের ছোট্ট কুটিরে, গাদাগাদির সংসার তার। ছোট বোন, মা,বাবাকে নিয়ে সংসার তার। অভাবের সংসার হলে ও ভালবাসার কমতি ছিলো না।

৮ বছর থেকেই ক্রিকেটকে ভালবেসে তার ক্রিকেটে পদচারনা। অভাবের সংসারে ক্রিকেটকে ভালবাসে ক্রিকেটার হতে চাওয়া মানে আকাশ কুশুম চিন্তা ছাড়া আর কিছু নয়। এক সময় ব্যাট, প্যাড আর গ্লাভস কেনার অর্থ যার ছিলো না, সে মিরাজই আজ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
fb_img_1477896919205
দুই ম্যাচ টেষ্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যান অব দ্যা সিরিজ। এমন কি জয়ী ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছেন এই লিজেন্ড।

খুলনার খালিশপুরে ভাড়ায় টিনের ঘরে থাকতেন জালাল। ছেলের ক্রিকেটের প্রতি অগাত ভালবাসা কিন্তু দারিদ্রতা তার পথের কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছিলো। এক সময় যখন পয়সার অভাবে খেলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো ঠিক তখন খালিশপুরের কাশিপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ আল-মাহমুদ নিজের টাকায় কিনে দিয়েছিলেন ক্রিকেটের নানা সরঞ্জাম।

তার কোচিংয়েই ছেলের এতটা পথ এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র, জনালেন জালাল। ছেলে অনুর্ধ ১৫, ১৭ ও ১৮ ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনে অনেক পুরস্কার অর্জিত হলে ও আজো নাকি ঐ ভাড়া বাড়িতেই থাকেন মিরাজের পরিবার। গনমাধ্যমের বড়াত দিয়ে এমন টাই জানলাম।

আসলেই গর্বে বুকটা ভরে যায় মিরাজ দেশের জন্য করলো তা অবিশ্বাস্য। এক সময় যে ছেলেটির ব্যাট,বল কেনার পয়সা ছিলো না-তার হাত ধরেই দেশ পেলো অসম্ভব সম্মান।

এমন হাজারো মিরাজরা এভাবে প্রতিদিন ঠিকই নিজেদের উঁজাড় করে দিতে চায়, পৃষ্টপোষকতা পারে মিরাজদের সুযোগ করে দিতে।আর মিরাজের মত প্রতিভাবানরা যে এতটা দিবে সেটা অবিশ্বাস্য নয় তা প্রমান করলেন মিরাজ। ইংল্ড্যার বিপক্ষে নিজের প্রথম দুই টেষ্টে নিয়েছেন ১৯ উইকেট।