ক্যাটেগরিঃ জনজীবন, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

রিক্সাওয়ালা
“আমি বুড়া, শরীরে শক্তি কম, মাইনষে আমার রিক্সায় উঠতে চায় না! সবাই সবল রিক্সাওয়ালা খোঁজে! কথা গুলো বলছিলেন বৃদ্ধ রিক্সাচালক জামাল গাজী। বয়সের ভারে নূইয়ে পরা রিক্সাচালক জামাল গাজী।জীবনের কঠিনতম সময়ের মধ্যদিয়ে তাঁর জীবন পার হচ্ছে। ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ জীবন সংগ্রামে পরাজয় মেনে নিতে নারাজ।

জামাল গাজী চাঁদপুর জেলার, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮ নং পাইকপাড়া দঃ ইউ পি’র রামদাসেরবাগ হাজী বাড়ির সন্তান। চার মেয়ে দুই ছেলের জনক জামাল গাজী জীবিকা নির্বাহের তাগিদে এখনো রিক্সার প্যাডেল চেপে চলেছেন।একদিন রিক্সা না চালালে সেদি’ন চুলো জ্বলে না এই হতভাগা বৃদ্ধের। বউ, কন্যা নিয়ে হতাভাগা জামাল হাজীর কষ্টের সংসার। রোগেশোকে ধরে ফেলেছে এই বৃদ্ধ মানুষটিকে। চাল আনলে ঔষধ কেনা হয় না, আবার ঔষুধ কিনলে চাল কেনা হয় না! ছেলেদের কথা বলতে নারাজ তিনি, এইটুকু চাওয়া সন্তান ভাল থাকুক।

জামাল গাজীর রিক্সায় অনেকেই উঠতে চান না। অনেকেই ভাবেন এই বৃদ্ধা পারবে তো রিক্সার প্যাডেল চাপতে? এমন নানা অজুহাতে জোয়ান রিক্সাওয়ালাদে’র কাছে অসহায় বৃদ্ধ রিক্সাচালক জামাল গাজী।

রিক্সা না চালাইলে ভাত খামু কেমনে? পরে তো না খাইয়া মইরা যামু, নিজের জীবনের কঠিনতম কথা বলতে গিয়ে হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন তিনি।

কয়েকদিন আগে জামাল গাজীর রিক্সায় চড়েন লাইটার ইয়ং ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবক রাসেল খান নিলয়। তিনি ব্লগ.বিডিনিউজ২৪.কম -এর নাগরিক সাংবাদিককে বলেন এই বৃদ্ধ মানুষটার কষ্ট আমাকে ব্যথিত করেছে। তিনি আমাদের বলেন, আমি চেষ্টা করবো এই বৃদ্ধ চাচার পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।

প্রযুক্তি মানুষকে অনেকটা আধুনিক আর দ্রুতগামি করেছে ঠিকই। কিন্তু প্রযুক্তির কাছে নিম্মবিত্ত শ্রেণীর মানুষের চড়ম পরাজয় ঘটেছে। এমন হাজারো জামাল গাজীর মত বৃদ্ধ রিক্সাচালক জীবিকার তাগিদে বৃদ্ধ বয়সে এমন ঝুঁকির কাজ করে যাচ্ছেন সর্বদা।

শরীর বলে এবার আমায় একটু বিশ্রাম দে ভাই, পেট বলে খালি হলে’ই তোর রক্ষা নাই। পেটের দায়ে মানুষ কত কর্মকে’ই না বেছে নেন।কিন্তু সেই পেট বাঁচাতে গিয়ে যদি জীবনই না বাঁচে তবে জীবনের কঠিন পরাজয় ঘটে। সমাজের বিত্তবানদের আহব্বান জানাবো এগিয়ে আসুন এ সমস্ত অসহায় মানুষের পাশে।