ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

IMG_20170414_013615

 

বঙ্গবন্ধু কন্যার আরেকটি চমক, চাঁদপুরে অনুমোদন দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়:

শিক্ষা একটি জাতির মেধা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। উচ্চ শিক্ষা অর্জনে চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার তুলনা হয় না। চাঁদপুরের মাটিতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্ম। কিন্তু দুর্ভাগ্য ছিলো চাঁদপুরে নেই কোন বিশ্ববিদ্যালয়। তাই মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ছুটে যেতেন ঢাকা নয়তো দেশের অন্যান্য বিদ্যাপিঠে। তাছাড়া চাঁদপুর থেকে ৭০ কিঃমিঃ দূরে কুমিল্লায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় চাঁদপুরে এক বৃহৎ অংশের শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বেগ পেতে হতো।

জানুয়ারী ২০১৫ এর প্রথম পক্ষের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আলোচনায় উঠে আসে চাঁদপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের বিষয়টি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, “চাঁদপুর একটি নদী মাতৃক জেলা। শিক্ষা, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অগ্রসর জেলা চাঁদপুর। মোট জনসংখ্যা ২.৪ মিলিয়ন এবং শিক্ষার হার ৬৮%। চাঁদপুর জেলা সদর হতে কুমিল্লার দূরত্ব ৭০ কিঃমিঃ। চাঁদপুর জেলা ছাড়াও নিকটস্থ লক্ষীপুর ও শরীয়তপুর জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী চাঁদপুর জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করে। উক্ত জেলায় উচ্চ শিক্ষা লাভের প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের। এজন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক চাঁদপুর জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। উক্ত প্রস্তাবটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুমোদন করেছেন।

92109018416
মোঃ শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, উপসচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণাটি উঠে আসে।

বিষয়টি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন ‘ডিসি চাঁদপুর’ নামে জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজ। এছাড়া এডিসি আবদুল হাইও তার নিজ ফেসবুক ওয়ালে তুলে ধরেন বিষয়টি।

তার সাথে একান্ত কথা বলে জানা যায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চাঁদপুরবাসীর জন্য এটি একটি সুসংবাদ। নববর্ষ যখন চারদিকে নতুনকে বরণে ব্যস্ত ঠিক তখন চাঁদপুরের মানুষও দুটি সুখের সংবাদ পেল। প্রথমটি একটি মেডিকেল কলেজ ও দ্বিতীয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন।”

চাঁদপুরবাসীর যেনো সুখের সংবাদের অভাব নেই। উন্নয়নের ছোঁয়ায় চাঁদপুর এখন মুখরিত। চাঁদপুরবাসী বিশ্বাস করেন অচিরেই অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের কাজ শুরু হোক।

মেঘনা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে চলেছে এটি যেমন খুশির তেমনি অনেকেই বলেন এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চাঁদপুর শহরেই যেনো গড়ে উঠে। জেলা শহরে স্থাপনাগুলো নির্মিত হলে পুরো জেলার মানুষই এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

541129
মেডিকেল কলেজ সম্পর্কিতঃ

উন্নয়নের ছোঁয়ায় যোগ হোক নতুন কোন মাত্রা। সম্ভাবনার দুয়ারে আজ কড়া দিয়েছে নতুন এক বার্তা। বাংলা নবর্ষের ঠিক আগের দিনেই চাঁদপুরবাসীর জন্য শুভ সংবাদ। চাঁদপুরে স্থাপন হতে যাচ্ছে মেডিকেল কলেজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি সদয় অনুমোদন দিয়েছেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

চাঁদপুর একটি সম্ভাবনাময় জেলা। চাঁদপুরের প্রতি বরাবরই সুদৃষ্টি দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিকিৎসা সেবায় চাঁদপুর পিছিয়ে থাকলেও মেডিকেল কলেজ স্থাপন হলে চিকিৎসা সেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে চাঁদপুরে।

২০১৬ এর প্রথম পক্ষের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিম্নোক্ত প্রস্তাবটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরা হয়।

‘নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ- আর সেই দেশের নদীমাতৃক জেলা চাঁদপুর। শিক্ষা, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অগ্রসর এ জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২.৪ মিলিয়ন এবং শিক্ষার হার ৬৮%। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কুমিল্লা বোর্ডের শীর্ষ স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চাঁদপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর রয়েছে সুনাম। পার্শ্ববর্তী জেলা লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর জেলার অনেক মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী চাঁদপুরে অবস্থান করে। মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য চাঁদপুরে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালই চাঁদপুর জেলার অধিবাসীদের উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির একমাত্র মাধ্যম। উক্ত প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা-নিরীক্ষাক্রমে চাঁদপুর জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়কে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।’ উক্ত প্রস্তাবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সদয় অনুমোদন করেছেন।