ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

SAM_1122

ফরিদগঞ্জের কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন সংকটের নিরসন হতে যাচ্ছে। ১৯৬৬ সালের পর এবারই প্রথম কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগতভাবে এতটা শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। স্কুলটির ৫২তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা আসে।

জনাব সেলিম খানের (সভাপতি, কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়) সভাপতিত্বে ও সমরেন্দ্র মিত্রের (প্রধান শিক্ষক, কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং আনোয়ার হোসেন ও রিফাত কান্তি সেনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

এর পর জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের আরম্ভ হয়। উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এদিন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দেন অতিথিদের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন জনাব নূরুল আমিন (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত সচিব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, শিক্ষা মন্ত্রনালয় বাংলাদেশ, ঢাকা।) এছাড়া বিশেষ অতিথি হয়ে আসেন আবু সাহেদ সরকার (উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদগঞ্জ), ড. মোঃ শহীদ হোসেন চৌধুরী (ইউএনও, ফরিদগঞ্জ), মোঃ বশির (বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সত্ত্বাধিকারী, রাব্বি গ্রুপ),আব্দুল্লা আল-মামুন (একাডেমিক সুপারভাইজার, ফরিদগঞ্জ)।

অনুষ্ঠানে এছাড়াও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, স্কুল শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

SAM_1099
এর পরই বক্তৃতার পালা। স্কুলের সভাপতি সেলিম খান স্কুলের নানা অবকাঠামো সংকটের কথা তুলে ধরেন অতিথিদের মাঝে। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় থাকা কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমরেন্দ্র মিত্র বক্তব্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত দিক থেকে পিছিয়ে আছে। সামনের যে ভবনটি আছে তা আর ভবন নয় যেন ধ্বংসস্তুপ! একটি ভবনের অভাবে কম্পিউটার ল্যাব, শিক্ষার্থীদের পাঠদান, বিজ্ঞানাগার সহ স্কুলে নানা উন্নয়নই ব্যাহত হচ্ছে। মাঠের প্রখর রৌদ্রে ক্লাস নিতে হয়।”

এসময় তিনি অতিথিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি কিছুই চাই না, শুধু ভোগান্তির কথাগুলো তুলে ধরলাম।”

আমির আজম রেজা বলেন, “আমার বাবা এই স্কুলটি তার বন্ধু অমূল্য মিত্র ও কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধাকে নিয়ে গঠন করেছিলেন। এই বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা রাজা মিয়া হওয়ায় কিছু কুচক্রী মহল বিদ্যালয়টির উপর কুদৃষ্টি দিয়েছিলেন তখন। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়টি মরহুম রাজামিয়া স্যারের। সেই স্কুলটির দিকে আপনার সুদৃষ্টি পড়ুক।”

এসময় তিনি কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইটি কম্পিউটার দেয়ার ঘোষণা দেন।

SAM_1108
এরপরই বক্তব্য রাখেন কড়ৈতলীর কৃতি সন্তান, রাব্বী গ্রুপের সত্ত্বাধিকারী, গোল্ডমার্ক কোম্পানীর মালিক মোঃ বশির।

তিনি বলেন, “আমিও এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। বিদ্যালয়টি ঘিরে আমারো রয়েছে ছোটবেলার স্মৃতি বিজড়িত কাহিনি। আমি ভবনের জন্য ভূমি কিনে দেব। সেটা ৪১ শতাংশ নয়, লাগলে ৫০ শতাংশ দেব।”

এসময় তিনি হেসে দিয়ে বলেন, “সচিব মহাদয় যদি সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করে, তবে ৪১ কেন ৮২ শতাংশ ভূমি আমি ক্রয় করে দেব বিদ্যালয়ের নামে।”

কথাটি বলার সাথে সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা জোড়ালো করতালি দিতে থাকেন।

এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেদ সরকার বলেন, “যে বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যাক্ত তা অচিরেই মেরামত করে দেয়ার ব্যবস্থা করবো এবং যখন যা লাগে আমি স্কুল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে সাহায্য করবো। দ্রুতই মেরামত কাজ শুরু হবে।”

20170416_121937
ইউএনও ড. মোঃ শহীদ হোসেন চৌধুরী তারা বক্তৃতায় বলেন, “বই পড়তে হবে, বই পড়ার বিকল্প নেই। আমার সাথে যখন প্রধান শিক্ষক দেখা করেন তখন আমি ওনাকে বলেছিলাম পুরস্কার হিসেবে যদি বই দেন শিক্ষার্থীদের, তবেই আমি আপনাদের অনুষ্ঠানে যাবো। এবং বইগুলো হতে হবে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। যেমন- জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নামের বইগুলো। ওনারা কথা রেখেছেন, খুব খুশি হয়েছি।”

তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন বেশি বেশি বই পড়তে। যা তার সামর্থ্যের মধ্যে আছে তা তিনি দিবেন স্কুলে। এ প্লাস নয়, ভাল মানুষ হতে হবে। ভাল মানুষ হলেই সুশিক্ষিত হওয়া যায়।

SAM_1129
সর্বশেষ বক্তৃতা রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষা ও সহায়তা ট্রাস্ট, শিক্ষা মন্ত্রনালয় অতিরিক্ত সচিব জনাব নূরুল আমিন।

তিনি বক্তৃতায় বলেন, “এদেশে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আমরা মেয়েদের ছোট করে দেখি। এখনো অনেক পরিবারে দেখা যায় মেয়েদেরকে ছেলেদের থেকে পিছিয়ে রাখা হয়। একটা মাছের মাথা ছেলেকে দেয় কিন্তু মেয়েকে দেয় না। খুবই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন বাল্যবিবাহ। দেশে ৫২ শতাংশ নারী বাল্য বিবাহের স্বীকার হয়ে স্কুল ছেড়ে দেয়। এজন্য আমাদের সক্রিয় হতে হবে। মেয়েদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে

তিনি বলেন, “মেয়েরা এখন আর পিছিয়ে নেই, সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর এর জন্য শিক্ষার্জনের বিকল্প নেই।”

মাদকের কুফল সমন্ধেও শিক্ষার্থীদের বলেন অতিরিক্ত সচিব মহাদয়। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনার সন্তান কি করে আপনারই দেখা উচিত।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার পেছনের টেবিলের এক ছাত্র পরীক্ষার হলে কাগজ চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলো। সে পাশ করেছে, ব্যাংকে চাকরিও পেয়েছে। কিন্তু ঐ যে ছোট অপরাধ একদিন অভ্যাসে পরিণত হয়ে বড় অপরাধে ধরা দিয়েছিলো। অর্থ আত্মসাতের দায়ে চাকরি হারাতে হয়েছিলো তাকে। তাই সব সময় সৎ পথে চলতে হবে।”