ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

405-2009-800x445

ছবি: ইন্টারনেট

.

দানব ট্রাক্টর রাস্তা দিয়ে চলছেই। আইন করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না ট্রাক্টর চলাচল। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দানব ট্রাক্টর দাপড়ে বেড়াচ্ছে। আইনের তোয়াক্কা না করে এই নিষিদ্ধ যান রাস্তায় দানবের মতই ক্ষিপ্র গতিতে চলছে। পথচারী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ, বয়োবৃদ্ধ, যুবক, শিশু সহ সকলেই আতঙ্কে আছে কখন এই দানব ট্রাক্টর হয়ে উঠে মৃত্যুর কারণ।

গত পহেলা মে ফরিদগঞ্জের বটতলী খুরুমখালী গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সাত বছরের ছোট্ট এক শিশু। ঘাতক ট্রাক্টরটির চালক শিশুটির মাথার উপর দিয়েই চালিয়ে দেয় দানব ট্রাক্টরের চাকা। শিশুটির মাথা দানব ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মগজ বেড়িয়ে আসে। ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এর ফাঁকে চালক ট্রাক্টরটি ফেলে পালিয়ে যায়।

ঘটাস্থলে অনেকেই অভিযোগ করেন নিষিদ্ধ করার পরও অবৈধ ট্রাক্টর রাস্তায় সাচ্ছন্দে চলছে। এমন ভাব যেন তারা কাউকে পরোয়া করে না।

কয়েকদিন আগে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জনাব সামছুন্নাহার অবৈধ যান হিসেবে ট্রাক্টরকে রাস্তায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফল-স্বরূপ শহরাঞ্চলে দানব ট্রাক্টর বন্ধ হলেও গ্রামাঞ্চলে দেদারছে রাস্তা চষে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ এই যান। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই কি ট্রাক্টর চলছে? নাকি অন্যকিছু সেটাও বুঝতে পারছে না সাধারণ আম-জনতা। গত কয়েকদিন আগেও ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর খবর ঢালাওভাবে প্রচার করেছে গণমাধ্যম। তাছাড়া প্রতিনিয়তই পত্রিকার পাতায় ফুটে উঠছে দানব ট্রাক্টরের আইন না মানার খবর। আইন করা সত্ত্বেও কি করে এসব ভয়ঙ্কর যান রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ নিয়েও জনসাধারণের মাঝে রয়েছে কৌতুহল।

ফরিদগঞ্জের কড়ৈতলী নামক গ্রামে ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় মারত্মক আহত হন কড়ৈতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্টাইম দপ্তরি মহসিন। তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট পেয়েছি দুর্ঘটনার পর। দোকানে চা খাচ্ছিলাম। ঠিক সে মুহুর্তে ঘাতক ট্রাক্টর আমাদের দিকে ধেয়ে আসে। ভাগ্যিস আহত হয়েছি। ভেবেছিলাম তো আর বাঁচবোই না।”

দৈত্য, দানবের মতই রাস্তা চষে বেড়ানো এ যান নিয়ে আতঙ্কিত স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা।

কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তারেক আজিজ বলেন, “আমরা রাস্তা দিয়ে চলতে ভয় পাই। ট্রাক্টরগুলো খুব দ্রুত গতিতে চলে। তাছাড়া ট্রাক্টরের আওয়াজও অনেক বিকট। এতে করে শব্দ দূষণ হয়।”

ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, নেই কোন যান চালানোয় অভিজ্ঞতা। কয়েকদিন হেলপার এর পর সোজা গাড়ির স্টেয়ারিং। এভাবেই তৈরি হয় একেকজন ট্রাক্টর চালক। আইন-কানুন সমন্ধেও নেই লেশমাত্র অভিজ্ঞতা। তাইতো প্রতিনিয়তই সৃষ্টি করছে অসংখ্য দুর্ঘটনা।

তবে বাংলাদেশে এসব ট্রাক্টর আনা হয় হাল চাষের জন্য। কিন্তু এর বিপরীতে ক্ষেত-খামারে ট্রাক্টর না চলে সোজা জন-মানবের চলাচলের রাস্তা দাপিয়ে বেড়ায় এসব অবৈধ যান। প্রশাসনে চাপ রয়েছে, তবু কি করে দানব ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়ায় জনপদে তাও প্রশ্ন থেকে যায়। আরো প্রশ্ন থেকে যায় প্রশাসনকে কি তবে ভ্রুক্ষেপ করে না ট্রাক্টর চালক ও মালিকরা?

কবে রাস্তা থেকে পুরোপুরি বন্ধ হবে এই মরণঘাতী বাহন ট্রাক্টর- সেটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। জনপ্রিয় পুলিশ সুপার সামছুন্নাহারের দিকে তাই দৃষ্টি পেতে আছেন তারা। অচিরেই হয়তো প্রশাসন ট্রাক্টর বন্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি গ্রহণ করে রাস্তা থেকে পুরোপুরি ট্রাক্টর নিষিদ্ধ করতে সক্ষম হবে সেটাই এখন সাধারণের প্রত্যাশা।