ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাস্থ্য

 
Panoramic_view_-_Vellore

 

স্বাস্থ্য সেবার জন্যে তারা ছুটছেন  এই প্রদেশ থেকে ওই প্রদেশে আমরা বঙ্গোপসাগরের এপাড় থেকে ওপাড়ে।ভেলোর শহরেই আছে চিকিৎসার জন্যে প্রসিদ্ধ CMC ( Christian Medical College ) ও শ্রী নারায়ণী  (Sri Narayani )  হাসপাতাল। অবশ্য যারা চেন্নাইতে যান তারা  চেন্নাই এ্যাপোলো এবং রামচন্দ্র হাসপাতালে দেখান। হাসপাতালের মান ও সেবা দারুণ। চিকিৎসা খরচের কথা যদি বলতে যাই সেবার তুলনায় খরচ কম। সিএমসি হলো খ্রিস্টান মিশনারী পরিচালিত একটি অলাভজনক হাসপাতাল।

চিকিৎসা কোথায় করাবেন তার আগে কিছু ব্যাপার ভাবতে হবে। যদি আপনার প্রচুর ধৈর্য আর পর্যাপ্ত সময় না থাকে সিএমসিতে না দেখানোই ভাল। এখানে রোগীর এত চাপ আপনাকে সবকিছুর জন্যে লাইনে দাড়াতে হবে। সেটা লিফট থেকে শুরু করে টাকা দেয়া, ডাক্তার দেখানো, মেডিসন কেনা, টেস্ট করানো সবকিছুতেই। অন্যদিকে আপনার যদি টাকার সমস্যা না থাকে চলে যান চেন্নাই এ্যাপোলোতে। আর যাদের একেবারেই সমস্যা আছে তারা যেতে পারেন শ্রি রামচন্দ্র বা নারায়নী হাসপাতালে।  চোখের যে কোন চিকিৎসার জন্য চেন্নাই এর শংকর নেত্রালয় ভাল। আর  অর্থোপেডিক চিকিৎসা হলে সিএমসি বা অ্যাপোলো তে করাতে পারেন।

তবে আমি সিএমসি থেকে ঘুরে এসছি। তাই সিএমসি কেন যাবেন সেটা নিয়ে ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যাক। দেশে যে ডাক্তারী হয়রানীর শিকার হতে হতে অতিষ্ঠ তার কোন আশংকাই নেই। আর খরচ আমাদের প্রাইভেট মেডিকেলের চেয়েও কম। বাড়তি ওষুধের যে ধকল সইতে সইতে আপনি আরো অসুস্থ হয়ে গেছেন সেই সমস্যা এখানে আর হবে না। আর বাংলাদেশীদের যে অভিযোগ থাকে ডাক্তার ২০ সেকেন্ড কথা বলেই প্রেসক্রিপশন লেখায় মন দেন এখানে সেটা তো করতেই পারবেন না উল্টো বিরক্ত হবেন আপনার  আগেরজনকে কেন এত সময় ধরে দেখছে। আর তাদের ভাল ব্যবহারের জন্যে পরের বার থেকে ছোটখাটো সমস্যা হলেও আপনার ভেলোর আসতে ইচ্ছে করবে।

একে তো অসুস্থতার টেনশন তার উপর বাইরের দেশে তাও বাংলাভাষী না থাকা জনপদে যাওয়ার কথা ভাবলে কপালে চিন্তার ভাঁজ পরবেই। এর আগে তো পাসপোর্ট ভিসার যুদ্ধে উতরাতে হবে। তবে এর আগে ভাষা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা থাকেই সবার। যদি মোটামুটি হিন্দী বলতে পারেন কলকাতা বা তামিলনাড়ুতে বেশ চালিয়ে নেয়া যাবে। হোটেল/লজের যে তামিলরা আছে তাদের বেশিরভাগই বাংলা বোঝে। বেশিরভাগ ডাক্তার ও বাংলা বোঝে। সুতরাং কেনাকাটা করে খাওয়া বা এই রুম টা কোথায় এটুকু বলতে  পারার মত হিন্দী জানলেই চলে যেযে পারেন কোন চিন্তা ছাড়াই। তবে যদি আপনার অপারেশনে রোগী থাকে তাহলে সবার সাথে যো্গাযোগ করতে পারবে ওরকম একজন মহিলা নিয়ে যাবেন। উনি রোগীর সাথে রাতে থাকবে হাসপাতালে তবে না নিলেও অসুবিধে নেই। ওখানে আয়া পাওয়া যাবে।

পাসপোর্ট তো আগেই করা চাই। কিভাবে করবেন পাসপোর্ট ও ভিসা তার বিস্তারিত দুই লিংকে। ভিসা করার সময় তো ঠিক করেই রেখেছেন কোন পথে যাবেন। জরুরী যেতে হলে তো বিমান আছেই। ঢাকা টু ভেলোর কোন বিমান হয় না। যেতে হবে ভেলোরে তারপর বাস কিংবা ট্রেনে ভেলোরে। সপ্তাহে চারটি ট্রেন যায় চেন্নাইয়ে। এই বিমানের টিকেট যদি আগে করে রাখা যায় তাহলে খরচ অনেকটা কম পরতে পারে। আমরা সর্বশেষ যে টাকাতে ট্রেনে এসিতে আসলাম সেই টাকাতে কলকাতার এক দম্পতি বিমানে গেল!

বিমানে যান আর বাসে, সরকারকে বর্ডারে দিতে হবে ৫০০ টাকা ট্যাক্স। চাইলে আগে থেকেও দিয়ে রাখতে পারেন সরকারী ব্যাংকে নয়তো বর্ডারে গিয়ে ও দিতে পারেন। ক্যান্সার রোগীর জন্যে এই ট্যাক্স লাগে না। যে বর্ডার হয়ে যাবেন সেখানে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে পাসপোর্ট দিবেন ছবি তুলে সিল দিয়ে দিবে।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ছেড়ে যাওয়া লাগেজ বড় না হলে নিজেই হাতে নিন নয়তো কোন কুলিকে দিন। অবশ্য তাকে কিছু টাকা দিতেই হবে।
হেঁটে ওপাড়ে গিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশনে যাবেন। খুব ইজি ব্যাপার এসব।

ভয় পাওয়া বা আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। যদি রোগী হাটতে না পারে তাকে ভ্যান গাড়িতে করে নিতে পারন। ও পাড়ে গিয়ে স্টেচারে তুলুন। আর এ ধরনের রোগীকে বর্ডার অবধি আনার জন্যে গ্রীন লাইনের কিছু স্লিপিং কোচ আছে। চেকিং এর ঝামেলা হয় না বললেই চলে। যদি সরাসরি কলকাতা অবধি বাস করেন তো ও পাড়ের কাউন্টারে গিয়ে বসবেন। তারাই ডেকে নিবে। আর সীমান্ত অবধি বাস  হলে ও পাড়ে গিয়ে কোন ট্রেন স্টেশন গিয়ে ট্রেন ধরে চলে আসুন কলকাতা। তবে হিলি বর্ডার দিয়ে গেলে মালদা থেকেই ভেলোরের ট্রেন ধরতে পারেন।

বর্ডারে আপনার কাছে সিম বিক্রির চেষ্টা করা হবে বিভিন্ন প্রলোভনে তবে সেখান থেকে সিম না কেনায় ভাল। এছাড়া টাকা রুপি করানোর জন্যে জোরাজুরি করা হতে পারে কাউন্টারগুলোতে। এখানে টাকার রেট কিছুটা কম তাই টাকা খরচের জন্যে কিছু রুপি করে বাকীটা রেখে দিন।

তো কলকাতা আসার পর প্রথম কাজ সিম কেনা। ততক্ষণে ক্ষিধেও পেয়ে গেছে নিশ্চয়। ওদিকে দেশের টাকা দিয়েও তো খাওয়া যাবে না। হুম এবার সময় হলো টাকা গুলো বদলে নেয়ার। যেখানে ঢাকার বাস গুলো থামে সেটাই হলো মার্কুইস স্ট্রিট। সেখানেই অনেক মানি এক্সচেঞ্জ এর দোকান পেয়ে যাবেন। বুদ্ধিমানের কাজ হলো কয়েকটি দোকান ঘুরে সব টাকা বদলে নেয়া। ভুল করেও ভেলোরে গিয়ে বদলাবেন  এই চিন্তা  মাথায় আনবেন  না। কলকাতায় যেখানে ২০১৬ সালে ৮২ টাকা পেয়েছি সেটা ভেলোরে গিয়ে হয়ে গিয়েছিল ৭৬ টাকা। এবার আশেপাশের কোন এক দোকানে খাওয়াদাওয়াা করে সিম কিনে নিন। সিম কিনতে পাসপোর্ট ভিসার কপি লাগবে।  সব সময় সাথে রাখতে হবে কয়েক কপি  ছবি। পাসপোর্ট ভিসার ফটোকপি আর কলম। ওখানে ফটোকপি কে আবার জেরক্স বলে। এরপর আরো অনেক কাজে লাগবে এসব।

সিম নেয়ার সময় বলবেন বাংলাদশে কথা বলবেন। আর ভেলোরেও যাবেন। যদি এমনি সিম কিনেই কল করে ১২ রুপি করে কাটবে। এরকম না হওয়ার জন্যে প্রোমো রিচার্জ বা পাওয়ার রিচার্জ  করে নিতে হবে। এতে করে প্রতি মিনিটে ২ রুপি করে খরচ হবে। তবে যাবেন যেহেতু ভেলোরে আরেকটি সিম ভেলোরে গিয়ে নিতেই হবে। কারণ ভারতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গেলে সিমে রোমিং চালু হয়ে যায় । রোমিং এ কল রিসিভ করলেও প্রায় .৬০ পয়সা মত  কেটে নেবে। তবে ইন্টারনেটের কোন রোমিং চার্জ নেই । যদি ভেলোরেই বেশি দিন থাকতে হয় তো সেখানেই একটি সিম কিনে নিতে পারেন । এই সমস্যা আর হবে না। কলকাতা এসে আবার কলকাতার সিম ব্যবহার করুন। তবে এসব সিমের কোনটার মেয়াদ আপনার ভিসার মেয়াদের চেয়ে বেশি দিন না। সুযোগ থাকলে ভারতের পরিচিত কাউকে দিয়ে ওখানকার লোকাল সিম কেনার চেষ্টা করতে পারেন।

যেতে হবে আরো ১৭৫০ কিলোমটার। ভেলোর কলকাতা  থেকে ট্রেনে বা বিমানে যাওয়া যাবে। সেই মার্কুইস স্ট্রিটেই মিলবে বিমানের টিকেট। তবে টিকেট ফ্লাইটের যত কাছাকাছি সময়ে কাটবেন তত দাম বাড়তে থাকবে। সম্ভব হলে কলকাতা যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কোন এজেন্সিকে দিয়ে টিকেট করে রাখতে পারেন নয়তো চওড়া দামেই কিনতে হবে।

তাহলে বাকী থাকল ট্রেন। ট্রেনে ততকাল নামে একটি ব্যবস্থা আছে। ট্রেন ছাড়ার আগের দিন টিকেট ছাড়ে। এই ততকালে টিকেট দেয়া হয় ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত।

তবে বিদেশীদের জন্যে আলাদা একটা সুবিধাও রেখেছে ভারতীয় রেলওয়ে। আলাদা কিছু সিট রাখা আছে বিদেশীদের জন্য। এটার জন্যে যেতে হবে ফেয়ারলি প্লেসে। নিউ মার্কেট থেকে কোন অটোকে বললেই নিয়ে যাব। ক্যান্সার রোগীদের জন্য এবং তার এটেন্ডেট (সাথে থাকবেন যে যিনি) এর জন্য টিকেটে ছাড় আছে।

যদি এভাবেও না হয় নিউ মার্কেটের আশে পাশের এলাকা বা ঢাকার বাস গুলো যেখানে থামে সেখানে অর্থাৎ মার্কুইস স্ট্রিটে এজেন্ট এর দোকান পেয়ে যাবেন যাদের কাছে টিকেট পাওয়া যাবে। এরা টিকেট প্রতি ২০০ থেকে ৭০০ রুপি পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ নেবে। হাওড়া স্টেশনের বাইরেও এজেন্ট আছে। শুধু রেগুলার দাম থেকে কিছু টাকা বেশি নিবে এই যা। তাই টিকেটের দুশ্চিন্তা অত না।

ট্রেনের দুটি ভাগ হল এসি ও নন এসি। নন এসির মধ্যে আছে জেনারেল (গাদাগাদি  সিস্টেম) এবং স্লিপার (শুয়ে বসে যাওয়া যায়)। আর এসির মধ্যে আছে ৩ টায়ার এসি (উপর থেকে নিচে ৩ জন শোবার এবং  পাশাপাশি ৩ জন বসার ব্যবস্থা আছে), ২টায়ার এসি  (উপর থেকে নিচে ২ জন শোবার এবং  পাশাপাশি ২ জন বসার ব্যবস্থা আছে)। এসি সিট গুলোতে একটি বালিশ, বালিশ কাভার, একটি বাংকেট/ কম্বল, দুটি চাদর ও একটি ছোট তোয়ালে থাকে। এসব আবার নন এসিতে থাকে না বলে শীতকালে নন এসিতে গেলে কম্বল কিনে রাখতে হবে বা নিতে হবে।

তবুও কোন কারণে যদি কলকাতা যেতেই রাত হয়ে যায় বা টিকেট ও পাওয়া না যায় সেক্ষেত্রে থাকতে হতে পারে কলকাতায়। মার্কুইস স্ট্রিট এর আশেপাশেই অনেক হোটেল আছে। সেখানে চেক আউট ( হোটেল ছাড়ার সময় ) টাইম দুপুর ১২টা । অর্থাৎ সেখানে দিন কাউন্ট হয় দুপুর ১২টা থেকে পরদিন দুপুর ১২টা ।  ভাড়া ৫০০ থেকে উপরের দিকে। দু একদিন থেকে টিকেট ম্যানেজ করে নিতে পারন।

তো আপনার কাছে টিকেট ও আছে। এবার যেতে হবে হাওড়া স্টেশন। হাওড়া মানেই বিশাল স্টেশন। যেতে হবে একটু আগে। ট্রেন কখন ছাড়বে বা কখন কতটা পৌছাল এসব চেক করতে গুগুলে গিয়ে লিখবেন, Train Status তারপর টিকেটে থাকা ট্রেন নাম্বার লিখলেই মিলে যাবে তথ্য।

তবে কোন ট্রেন কত নাম্বার প্লাটফর্মে দাড়াবে এনাউন্স করবে। অবশ্য এত শব্দে সেটা শোনা নাও যেতে পারে। বড় যে ডিসপ্লে গুলো আছে সেখানেও দেখা যাবে কোন ট্রেন কোন প্লাটর্ফর্মে আছে। আর প্লার্টফর্ম  পেয়ে গেলে সেখানে ঢোকার আগে নেটিশ বোর্ডে নিজের নাম আর সিট নাম্বার মিলিলয়ে নিন। মালপত্র থাকলে তো কুলির সাহায্য নিতেই হবে আর রোগী থাকলে তার জন্যে কিছু প্রস্তুতির ব্যপার আছে তাই আগে যাাওয়া ভাল।

হাওড়া

ট্রেনে উঠে গেলে আগে জরুরী হলো পাশের যাত্রীদের সাথে পরিচিত হয়ে যাওয়া। দুদিনের যাত্রা পথ একটু তো কথা বলতেই হবে নাকি। বাংলাদেশ থেকে যারা যায় তাদের অনেকেই কলকাতার খাবার মোটামুটি মানিয়ে নিতে পারলে ট্রেনের থাবারে স্বস্তিতে থাকে না। এ কারণে আাগে থেকে খাবার নিয়ে ট্রেনে উঠতে পারেন। তবে সেটাও ওই রাতের। কিছু শুকনো খাবার ও কিনে রাখা যায়।

ট্রেনেও পাওয়া যাবে খাবার। ওয়েটার এসে অর্ডার নিয়ে যাবে আপনার কাছ থেকে।  ভেজ নন ভেজ দু ধরনের খাবার পাওয়া যাবে। ট্রেনের ভিতরের ভেজ খাবার ভেজ কারি রাইস, ভেজ বিরিয়ানি। ওদিকে নন ভেজ হয় ডিমের বিরিয়ানি অবশ্য ওরা বলে আন্ডা বিরিয়ানি। আর পা্ওয়া যাবে রাইস । এগুলোর দাম ৬০ রুপি থেকে ১০০ রুপির মধ্যে । তবে ঘুমের মধ্যে থাকলে খাবার মিস করে ফেলতে পারেন। এ কারণেই বলি পাশের যাত্রীর সাথে কথা বলে নিন। ঘুমালেও ডেকে দিবে। । আবার বড় বড় স্টেশন গুলোতে ট্রেন বেশ কিছুটা সময় দাড়ায়, সে ক্ষেত্রে প্লাটফর্ম থেকেও খাবার নিতে পারেন ।

চা ছাড়া স্বাদের জন্যে আপনার কাছে আর কিছুেই নেই। চা বেশ পাওয়া যায়। মিলবে কফিও। এবার বিপরীত ব্যাপারটা  বলি। এসি কামরাগুলোতে বাথরুম মূলত ভালই। সাবান, পানি, মগ থাকবে।। তবে নন এসি কামরার ক্ষেত্রে সাবান এবং একটি ছোট মগ নিজের সাথে রাখা ভালো ।

ট্রেন চলতে চলতে দুপাশের সৌন্দর্য দেখার লোভ সামলাতে পারবেন না সেটা আর বলতে নেই। এর মধ্যে পার হয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশ তারপর তামিলনাড়ু। বাংলাদেশে মাদ্রাজ চিকিৎসার জন্যে অতি পরিচিত শব্দ। কিন্তু আমি সেই মাদ্রাজ ম্যাপে খুজেঁ পাইননি। পরে জানলাম এই তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজধানী চেন্নাই যার আগের নাম ছিল মাদ্রাজ।

কাটপাটি স্টেশন

ট্রেন রাত অবধি এসে পৌছাবে কাটপাটি স্টেশনে। তবে অনেক ট্রেন কাটপাটি থামে না। আপনার সাথ অনেক লোক পেয়ে যাবেন যারা এখানেই নামবে। নিয়ে যাবে চেন্নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে নামতে হতে পারে আবার  চেন্নাই এগমোর স্টেশনে ও নামতে হতে পারে। তারপর বাসে কিংবা ট্রেনেও আসতে হবে ভেলোর। চেন্নাই এগমোর  স্টেশনে নামলে আসতে হবে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে।ওখান থেকে বাস ভাড়া ৫ রুপি আর অটো ভাড়া ৫০ রুপি । তারপর চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে কাটপাটি পর্যন্ত ট্রেনের টিকেট করতে হবে।

যদি এবার ও অনেক রাতে নামতে হয় আর কাটপাটি আসতে না পারেন তাহলে থাকতে হবে কোন লজ বা হোটেলে।

কাটপাটি স্টেশনে ট্রেন থেকে নামলেই দেখবেন অনেক অটো দাড়িয়ে আছে। তারা ৮০ থেকে ১০০ রুপি নিবে নিয়ে যাবে কাটপাটি। এখানে কথা বলতে অল্পবিস্তর হিন্দী জানলেই হলো। অটো নামিয়ে দিবে সিএমসির আশেপাশের কোন লজের কাছেই। ওদিকে হোটেলের মান ও ভাল।   ১৫০ থেকে ৬০০ পর্যন্ত হোটেল/লজ ভাড়া। এর বেশি ও হতে পারে।

সিএমসির একদম পাশের লজ গুলোর ভাড়া একটু বেশি তবে, সাইদাপেট-এর এই পাশটায় ভাড়া একটু কম । তো এখানে আবার  খাবেন কি? ট্রেনে দু এক মুঠো যদি খেয়ে থাকেন তাহলে এদিকের খাবার সম্পর্কেই বিশাল অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। তো লজে উঠার আগেই কথা বলে নিবেন রান্নার ব্যাপারে। গ্যাসের চুলা ভাড়া পাওয়াা যাবে তবে হাড়িঁ পাতিল কিছু কিনতেই হবে।

ওদের প্রধান খাবার ইটলি আমাদের ভাতের মতোই। ওই যে টক। তাছাড়া বেশিরভাগ খাবারে কারি পাতা দেয়া থাকে আমরা যে রকম ধনে পাতা দিই ওরকম। এখানে ও বাঙালিদের প্রচুর হোটেল আছে। ওই স্বাদ কলকাতার খাবারের মতোই।

হোটেলে ‍উঠলে কিছু টাকা এডভান্স করতে হয়। যেখানেই থাকুন হোটেল/লজ এর পেমেন্ট স্লিপ গুলো ঠিক মত কালেক্ট করুন এবং সাথে রেখে দিন । পরে এগুলো প্রয়োজন হবে।

দেশ থেকে আসার সময় দেশের ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, ডায়াগনোস্টিক রিপোর্ট নিয়ে আসলে সেগুলো সাথে নিবেন।   আপনি বাংলাদেশ থেকে গেছেন তাই প্রথমেই সাথে থাকা  এটেনেডেন্টকে আইআর অফিস (রুম নং ৯০০) এ রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তবে নতুন রোগী হলেই আগেই প্রি-রেজিস্টেশন করতে হবে। সেটা দেশে থাকতেই নিজে করতে পারেন অথবা যারা ভিসার কাজ করে দেয় সেই দোকান গুলো থেকেও করতে পারেন। অবশ্য অনেক টাকা চেয়ে বসবে। ওখানে না করে সিএমসির আইআর অফিসের পাশের সাইবার ক্যাফে/কম্পিউটার দোকানে ৫০ রুপিতে  প্রিরেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারবেন। অবশ্য এটা শুধু রোগীর করলেই হয়। প্রিরেজিস্টেশন এর ্পর একটি প্রিন্টেড কপি দেয় হবে। এই প্রিন্টেড কপি, রোগী ও এটেনডেন্টের পাসপোর্টের মুল ও ফটোকপি আই আর অফিসে জমা দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন, ডাক্তারের এ্যাপয়েন্টমেন্ট সবকিছুই এখানে হবে।আপনাকে একটি হাসপাতাল নম্বর দেয়া হবে যেটা আপনার আইডি নাম্বার। তারপর আমাদের এটিএম কার্ডের মতোই একটি ক্রিশ কার্ড দেয়া হবে। আপনি এবার এপয়েন্টমেন্ট ও পেয়ে গেলেন। তবে অনেক সময় জরুরী এপয়েন্টমেন্ট এর দরকার হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে দ্রুত এপোয়েন্টমেন্টের জন্য আইএসএস বিল্ডিং এর ৪৩২ নাম্বার কাউন্টা্রে যেতে হবে।

যদি ডাক্তার প্রাইভেটে দেখান ৫৫০ টাকা আর জেনারেলে দেখাতে গেলে লাগবে ১৫০ টাকা। পরবর্তী এপয়েন্টমেন্ট যে কোন প্রাইভেট ডাক্তার পরবর্তী ৩ মাস পর্যন্ত ২২০ টাকা। জেনারেল ডাক্তার পরবর্তী ৩ মাস পর্যন্ত ৭৫ টাকা। তবে জেনারেলে দেখানো মানে বিশাল সময়ের ব্যপার। তাই প্রাইভেটে দেখানোই ভাল। ডাক্তার দেখাতে গেলে তিনি অনেক সময় নিয়ে আপনার কথা শুনবেন। মেডিসিন দেয়ার সম্ভাবনা কম। কিছু টেস্ট দিতে পারে রোগের অবস্থাভেদে।  তবে এটা নিশ্চিত আপনাকে দেখে টেস্ট দিয়ে রোগ সনাক্ত করে নিয়ে তার পর আপনার ট্রিটমেন্ট দিবে। কিছু টেস্ট িএর রিপোর্ট যেদিন করবেন সেদিনই চলে আাসবে। তাহলে ডাক্তার আপনাকে ৩ টার মধ্যে যেতে বলবে সেদিন আর যদি পরে আসে তাহলে নতুন তারিখ দিবে দেখা করার।তাহলে আপনার আবার এপয়েন্টমেন্ট করাতে হবে টাকা পেমেন্ট করে। ক্রিশ কার্ডটা কি কাজে আসবে আপনার সেই প্রশ্ন নিশ্চয় মাথায় আসছে না। এটি মূলত শুধুমাত্র সিএমসির ডেবিট কার্ড। যার অর্থ হাসপাতালের বাইরে এটা ব্যবহার করতে পারবে না। চিকিৎসা করাতে গেছেন অবশ্যই বেশি ্টাকা নিয়ে গেছেন। কিন্তু সেই টাকা হাতে নিয়ে অত ভীড়ের মধ্যে ঘোরা তো অস্বস্তির ব্যাপার তার উপর নগদ লেনদেনে টাকা গুণতেই সময় নষ্ট অনেক। তাই সব দিক বিবেচনায় আপনার সকল টাকা হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টারে জমা দিয়ে ক্রিশ কার্ডে টাকা ভরে নিন।আপনার সকল টাকা হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টারে জমা দিয়ে ক্রিশ কার্ডে টাকা ভরে নিন।  ০.০৫% মত সার্ভিস চার্জ কেটে নিবে। এরপর রিসিপ্ট নিয়ে চলে আসুন। ব্যস ডাক্তারের ফি থেকে ওষুধ কেনা অথবা হাসপাতালে ভর্তি সব কিছুর বিল পেমেন্ট করুন এই কার্ডে। নগদ ক্যাশের লাইন যত দীর্ঘ  কার্ডের লাইন তত দীর্ঘ না।

যদি কোন কারণে কার্ড চুরি হয়ে ভয়ের কিছূ নেই। আপনার বিল তো আর  তার কাছে নেই। সেটা লাগবে পেমেন্ট করতে। দেশে ফেরার সময় টাকা তুলে নেয়ার সময় কিছু টাকা রেখে দিবেন। পরে এই কার্ড দিয়েই দেশে বসে এপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন। এবার যেতে হবে পুলিশের কাছে। অবশ্য এটা আপনি যখন খুশি যেতে পারেন। প্রথমে ‘সি’ ফরম পূরণ করতে হবে। সেটা হোটেলের ম্যানেজারই করে দিবে। এজন্য আপনাকে পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট সাইজের ফটো দিতে হবে। এটা করে দিতে আমাদের থেকে ১৫০ রুপি নিয়ে নিয়েছিল অবশ্য অনেক হোটেলে ৫০ রুপিতেও করেরছে। ‘সি’ ফরম পেয়ে গেলে  ফরমের প্রিন্টেড ২ কপি, হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন ফরম (যদি থাকে), হোটেল/লজের ভিজিটিং কার্ড, পাসপর্টের মুল ও ফটোকপিসহ যাবেন ভেলোর পুলিশ স্টেশনে। প্রতি পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ২০-৫০ রুপি করে নিতে পারে। ভাই শুধু দেশের পুলিশকে গালি দেয়ার আগে  এরপর থেকে আরেক বার ভাববেন।

থানাটা সিএমসি থেকে বামের রাস্তায় সোজা। অটোতে সাত মিনিট আর হেটে ১৫ মিনিট মতো লাগবে। সেখানে কোন ঝামেলা নেই। সব কপি নিয়ে আপনার লজের ভিজিটিং কার্ডে একটা ছাপ্পা মেরে দেবে। টাকা ফুরিয়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য যে কোন দেশ হতে ওয়ের্স্টান ইউনিয়ন, মানিগ্রাম এর মাধ্যমে টাকা আনা যাবে। বাংলাদেশের কোন ব্যংক থেকে টাক পাঠানোর সিস্টেম অব্যশ নেই। তবে আপনার হোটেল/লজের আশে পাশেই কিছু হুন্ডি বিজনেস পেয়ে যাবেন। বাংলাদেশে তাদের একাউন্টে কেউ টাকা জমা দিবে, ৩০ মিনিট হতে ১ ঘন্টার মধ্যে আপনি তাদের কাছ থেকে টাকা তুলে নিবেন। ডাক্তার দেখানোর মাঝে মাঝখানে কিছুদিন গ্যাপ থাকবেই। ততদিনে নিশ্চয় পাশের রুমে যারা আছেন তাদের সাথে সখ্যতা করে ফেলেছেন।

টিপু সুলতানের দুর্গ, স্বর্ণ মন্দির সহ লজ থেকে যে পাহাড় গুলো দেখতে পাবেন সেগুলোতে ঘুরে আসতে পারেন। আর ডাক্তার দেখানো শেষ হলে লজের আাশেপাশেই অনেক এজেন্সি পেয়ে যাবেন। যদি কবে ফিরবেন সেটার সম্ভ্যব্য তারিখ জানা থাকে আগেভাগেই টিকেট করে রাখলে খরচ অনেক কম পরবে। এতদিনে বাকীপথ কি করে যেতে হবে সেই অভিজ্ঞতাও নিশ্চয় হয়ে গেছে।

রোগীর জন্যে শুভকামনা।