ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সেই কবে থেকে মাথার ভেতর প্রশ্নগুলো অক্টোপাসের মতোন জাল পড়িয়ে রেখেছে -এমন সব বীভৎস ছবি কেন মানুষ ভিডিও করে? এইটুকুন সময়ের মধ্যে তো আহত মানুষটিকে বাঁচানো যেত। মাঝে এতো বেশি শিশু নির্যাতন চলছিল আর তার ভিডিও ইউটিউবে দেখে দেখে আমি অস্থির হয়েছি, হত বিহবল হয়েছি, নিজের হাত নিজেই কামড়েছি। ইউটিউবের খেলাও কম না, লিখি একটা আর সাজেস্ট করে একটা। তনুর মৃত লাশের ছবি তখন একদম হিট, এখন খাদিজার কোপ খাওয়ার দৃশ্য দেখতে দেখতে সেই একটা কথাই মাথার ভেতর খালি ঘুরতে থাকে।

গত ত্রিশ সেপ্টেম্বর সকাল বেলার কথা। আমি আসাদ গেইট বড় রাস্তাটা পাড় হয়ে ওপার যাচ্ছি। বেলা খুব বাড়েনি তখন, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা বললেই চলে। ওপাশ থেকে একটা পাজেরো ইউটার্ন করে আমার বাঁ পায়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। আমি পড়তে পড়তেই ড্রাইভারকে চিৎকার করে থামতে বললাম। কিন্তু পাইলট ততক্ষণে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই আমার কোমল কন্ঠস্বর তার কর্ণে পৌঁছালো না। অফিসগামী শত মানুষের চোখ বা্সস্ট্যান্ড থেকে তখন আমার দিকে।তারা নীরবে একটি মধ্যবয়সী নারীর রাস্তায় পড়ে যাবার দৃশ্য দেখছেন। যদি নারীর শরীরে সালোয়ার কামিজ না হয়ে আঁটোসাঁটো জিন্স থাকতো কিংবা বুকের সামনে বড় করে একটা ফাড়া থাকতো তবে দৃশ্যটা আরো বেশী উপভোগ্য হতো -এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

কিন্তু দৃশ্যটা কাউকেই তেমন টানতে পারলো না। যে দেশে মেয়েরা রাস্তায় পড়ে চাপাতির কোপ খায় সে দেশে একটা মেয়ে দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়েছে এটা অতীব তুচ্ছ নিশ্চয়ই। আমি এক পায়ে খুড়িয়ে খুড়িয়েই রিক্সায় উঠলাম।আমার চোখে তখন কান্নার বন্যা ।মানুষ হয়ে জন্মানোর দায়েএই কান্না।

%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87

আজ আমাদের বড় আপা অনেক বড় গলায় ঘোষনা দিয়েছেন-সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। এই চাপাতির শিক্ষা দিয়েছে বিএনপি-জামাত।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে- কী শাস্তি হবে ? খাদিজা মরে গেলে কী মৃত্যূদণ্ড হবে? নাকি খাদিজা বেঁচে আছে বলে বদু সোনাকে  কিছু টাকা জামিন করে ছেড়ে দেওয়া হবে? সে কোন দলের তা নিয়ে মোটেও আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি আপার সাথে কন্ঠে কন্ঠ লাগিয়ে বলতে চাই- ওখানে কী একটা মানুষও ছিল না যারা লোকটার হাত থেকে মেয়েটিকে বাঁচাতে পারতো? তাই তো! কলেজ প্রাঙ্গনে হাজার হাজার মানুষ বাস করে, অমন শুকনা পটকা ছেলের হাত থেকে মেয়েটাকে তো সহজেই বাঁচানো যেত। কিন্তু কে সেই ব্যক্তি যে জঙ্গির নেকাব পড়তে নিজ উদ্যোগে এমন সাহস দেখাবে? কে যেচে জামাত-বিএনপিতে নাম লেখাবে? বাঁচিয়েছিল, সিনেমার প্রায় শেষ দৃশ্যে লীগ এসেই লীগের হাত থেকে মেয়েটাকে বাঁচিয়েছিল। এখন কেবল ইচ্ছে হচ্ছে দেশের সমস্ত ছাত্রীদের বিএনপি জামাতে পাঠিয়ে দেই যাতে তারা অন্তত চাপাতি চালিয়ে নিজের ইজ্জত না পারুক জীবনটা বাঁচিয়ে ফিরতে পারে।

বিল্ডিং-এর এক কোনায় আগুন লাগলেও আজকাল আমরা কেউ আগ বাড়িয়ে কিছু করতে যাই না। সবাই এখন সেইভ সাইডে থাকায় মগ্ন। কারণ, কখন কার উপর আবার কোন বিশেষণের তকমা পড়ে যায় তাই নিয়ে মানুষ ভীষন শংকিত। ব্যপারটা এমন যে তুমি একটু এগুলে আমি একটু এগুবো ।এই ভাবতে ভাবতে আর আমাদের কারোই পা এগোয় না। আমরা পিছিয়েই থাকি। এই পিছিয়ে থাকা বিবেগটাকেই এখন খুব যত্ন করে লালন করছি প্রিয় আপা ।আমরা বীরের জাতি থেকে ভীতু হতে হতে এখন বিবেকহীন জাতি হিসেবে সুপরিচিত। একজন দেশ প্রধানের বক্তব্য থেকে, কিছু চামচা নামক মন্ত্রীদের কাছ থেকে, কিছু নারী নেত্রীদের সেলফির কাছ থেকে আমাদের আর কী -বা শেখার আছে! বিবেকের দরজায় আজ তালা,তার চাবিটা যে কোথায়  সন্ধান কেউ দিতে পারে না!