ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, সেলুলয়েড

 

গত ৩রা এপ্রিল বেশ ঘটা করে পালিত হলো ৫ম জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। ছবির ব্যানার পড়ে অনেকের বিভ্রান্তি হতে পারে, তবুও এটাই সত্য যে এই দিবসকে ঘিরে তথ্য মন্ত্রণালয় নানা আয়োজন করেছিল যা বেরসিক বৃষ্টির কারণে বেশি দূর এগোতে পারেনি। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে বলেছেন, ’চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। আমি আশা করি, আমাদের চলচ্চিত্র জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটিয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

film-day20170403054853

শুধু ঘোষনা বা অনুষ্ঠান করে নয়, চলচ্চিত্র বানানোর জন্য একটি বড় সাইজের নীতিমালাও করা হয়েছে।আমরা এক নজরে তা পড়ে দেখি-

জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা- ২০১৭:

১। চলচ্চিত্রে সরাসরি ধর্ষণের দৃশ্যসহ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্যমূলক আচরণ বা হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডকে উদ্বুদ্ধ করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ।

২। সেন্সর বোর্ডের নাম পরিবর্তে হয়েছে সার্টিফিকেশন বোর্ড ।

৩। কোনো চলচ্চিত্রেই রাষ্ট্র ও জনস্বার্থবিরোধী বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। সমুন্নত রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ; পরিহার করতে হবে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা।

৪। কোনো অশোভন উক্তি, আচরণ এবং অপরাধীদের কার্যকলাপের কৌশল প্রদর্শন, যা অপরাধ সংঘটনের  ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন ও মাত্রা আনতে সহায়ক হতে পারে, এমন দৃশ্য পরিহার করতে হবে।

৫। চলচ্চিত্রের সংলাপে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা পরিহার করতে হবে বলেও জানান তিনি।

উপরোক্ত ঘোষনা পড়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই আমার হাতের কলম থেমে গেল । কারণ, আমি যে গল্পটা লিখছিলাম সেটা পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র  মাথায় রেখেই এবং তা পুরোটাই গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে যেখানে আঞ্চলিক ভাষায় বেশ কিছু গালিগালাজ  জুড়ে দিয়েছি  সংলাপ হিসেবে। এই স্ক্রিপ্টে যদি আমার পরিচালক কাজ করেন তবে তিনি শুদ্ধই ’কাহিনী’ হয়ে যাবার অপার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তাই আমি কিছু নিউজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি আপাতত । এখানে যে সিনেমাগুলোর কথা বয়ান করলাম তা কোন না কোন ভাবে সেন্সর বোর্ডের বিজ্ঞদের কাঁচির শিকার। কেউ বের হতে পেরেছে আর কেউ কেউ পারেনি। এটা তাদেরই জীবন ইতিবৃত্ত ।

২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় বলে আসছে, সরাসরি ইংরেজি নাম নয়, কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশি সিনেমার নাম দিতে হবে বাংলাতেই। বাংলা চলচ্চিত্রে ঢালাওভাবে ইংরেজি নাম ব্যবহারে নিরুসাৎহিত করতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের অনেকে ইংরেজি নাম দিয়েই সিনেমা মুক্তি দিচ্ছেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশের পরও ২০১৫ সালে ওয়ার্নিং, ব্ল্যাক মানি, ব্ল্যাক মেইল, গুন্ডা দ্য টেরোরিস্ট, জিরো ডিগ্রিসহ বেশ কিছু সিনেমা ইংরেজি নাম দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ২০১৬ সালে আন্ডার কনস্ট্রাকশান, সুইট হার্ট, শুটার, বসগিরিসহ কয়েকটি সিনেমা ইংরেজি নামেই মুক্তি পায়। এছাড়া কিছু সিনেমায় বাংলা নামের সঙ্গে কৌশলে ইংরেজি টাইটেল ব্যবহার করে মুক্তি দেওয়া হয়। এ তালিকায় রয়েছে বাজে ছেলে দ্য লোফার, রুদ্র দ্য গ্যংস্টার, রানা পাগলা দ্য মেন্টাল প্রভৃতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে এসেও বছরের প্রথম সেন্সরে প্রদর্শিত সিনেমাটিও ইংরেজি নাম নিয়ে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে যাচ্ছে। ক্রাইম রোড শীর্ষকে সিনেমাটি গতকাল রোববার (১৫ জানুয়ারি) সেন্সরে প্রদর্শিত হয়। এই নামেই সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাবে বলে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে জানান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সচিব মুন্সি জালাল উদ্দিন। বাংলা নাম দিয়ে সিনেমা বানালেই যে জুরিবোর্ড আদর করে ছেড়ে দিচ্ছে ঘটনা তা নয়, আস্ত একটা সিনেমা শেষ করবার পর পরিচালক হঠাৎ জানতে পারলেন -তার ছবির ফিতে সেন্সরে আটকে গেছে!

ফারুকীর ডুব:

আলোচিত নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ সিনেমা আটকে দিয়েছে সেন্সর বোর্ড। অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন-সিনেমাটি বাংলাদেশের নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তবে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। এতে লেখকের জীবনের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরা হয়েছে বলেও খবর প্রকাশ করে ভারতের আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন দেশি মিডিয়া। এসব খবরে বলা হয়, হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি থেকে শুরু করে তার মেয়ের বয়সী দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিয়েসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। ভেরাইটি জানায়, সিনেমার শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘এই সিনেমার গল্প কাল্পনিক যা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। কোনো জীবিত অথবা মৃত ব্যক্তির সঙ্গে মিলে গেলে তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র।’

ছবিটির সহপ্রযোজক বলিউড অভিনেতা ইরফান খান। তিনি নিজেই সিনেমায় জাভেদ হাসান নামের এক চলচ্চিত্রকারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এক অভিনেত্রীকে বিয়ে করেন। সেই অভিনেত্রী ছিল তার মেয়ের স্কুলের সহপাঠী। সিনেমাটি বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে ভারতের এসকে মুভিজ ও ইরফান খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

এর আগে গত বছরের আট মার্চ সিনেমাটির গল্প অনুমোদন করে বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন-বিএফডিসি। পরে সিনেমার কাজ শেষে করে এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সেন্সর বোর্ডে জমা পড়ে ডুব। ১৩ ফেব্রুয়ারি সেন্সর বোর্ডে ‘ডুব’ ছবিটির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেন হুমায়ূনপত্নী নির্মাতা-অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি সিনেমাটিকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেয় সেন্সর বোর্ড। ফের ১৬ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ডুব সংশ্লিষ্টদের সিনেমাটির সার্টিফিকেট বাতিল করার বিষয়ে জানানো হয়। এ বিষয়ে বিএফডিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘এটা বিএফডিসির বিষয় নয়। বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ড বিষয়টি তত্ত্বাবধান করে।’

বিষয়টিকে বাকস্বাধীনতা ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নির্মাতা ফারুকী। তিনি বলেন, ‘প্রথম পদক্ষেপেই ছবিটি আটকে দেয়া হয়েছে। তবে ঠিক কি কারণে সেটা করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। আমার ছবির যে কনটেন্ট তাতে কোনো ধরনের সেন্সর রীতি ভঙ্গ করা হয়নি।’

বলিউড তারকা ও সিনেমার সহপ্রযোজক ইরফান খান বলেন, ‘সিনেমাটি আটকে দেয়ার ঘটনায় আমি খুবই বিস্মিত। মানবিক গল্পের সিনেমায় একজন পুরুষ ও নারীর পারস্পরিক সম্পর্ক ও টানাপোড়েনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। এটি কীভাবে সমাজের ক্ষতি করতে পারে তা আমার বোধম্য নয়।’ ‘টেলিভিশন’ ও ‘পিপড়া বিদ্যা’সহ নানা জনপ্রিয় সিনেমার নির্মাতা ফারুকী বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

shawn-home

 

নজরুল ইসলামের রানা প্লাজা  :

‘রানা প্লাজা’র মতো ভয়াল ট্র্যাজেডির কথা জনগণের যেনো মনে না থাকে সে কারণেই ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রটিকে মুক্তি দিতে দেওয়া হয়নি বলে সিনেমাটির পরিচালক নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন। আর রেশমা চরিত্রে অভিনয় করা পরীমনি বলেছেন, যারা সিনেমাটিকে ভয়ংকর বলছেন, তারা আসলে ওই শব্দের অর্থ জানেন না। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেছেন, ছবিটি উচ্চ মহলের জন্য মুক্তি পায়নি। কিন্তু, আমি আশাবাদী শিগগিরই সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে ছবিটি সারাদেশে মুক্তি পাবে।

বাংলাদেশের সিনেমা জগতে ‘রানা প্লাজা’ই প্রথম চলচ্চিত্র যা মুক্তি পাওয়ার আগেরদিন ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। ছয়মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মুক্তি পায়নি আলোচিত এ ছবি। ‘রানা প্লাজা’ সিনেমাটির ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ছবিটির ওপর নিষেধাজ্ঞার পর বিজিএমইএ-বিকেএমইএ’র সঙ্গে কথা বলেছি, তাদেরকে ছবিটি দেখেয়েছি। তারা আমাকে এমন যুক্তি দেখালেন যা মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর। তিনি বলেন, এরপর সংশ্লিষ্ট সচিবদেরকে ছবিটি দেখাই। কিন্তু তাদের একটিই বক্তব্য, রানা প্লাজার ঘটনা আমরা জনগণকে আর মনে করাতে চাই না। যা ভুলে গেছে তা আবার জেগে উঠুক তা চাই না।

‘আমি উনাদের বোঝাতে ব্যর্থ হই যে এ ছবিতে শুধু “রানা প্লাজা” সেই ঘটনার ২১ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ ছাড়া আর কিছুই নেই। বাদবাকি যা আছে তা হলো গার্মেন্টকর্মী ও মালিকদের সচেতন করার বার্তা। তাই আজ কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এদেশে ভালো কিছু করা যায় না। আর ভালো কিছু করতে গেলে আমার মতো ফকির হতে হবে।’

পরিচালক বলেন, ছবিটি যখন আমি নির্মাণ করেছিলাম তখন পুরো টিম থেকে শুরু করে অভিনেতা সায়মন ও অভিনেত্রী পরীমনিকে সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। মুক্তির আগে ১০০টি হলে বুকিং  দিতে হয়েছে, প্রোমো, পোস্টার সবকিছুই করতে হয়েছে  কিন্তু, একদিন আগে আমি জানতে পারলাম ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না। সেই মুহূর্তেই ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হলাম।

‘আমার মনে শুধু একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খায়, সেন্সর বোর্ড পেরিয়ে আসা ছবিটিকে কেনো মুক্তি দিতে বাধা দেওয়া হলো? তার কারণ যে ছবিটির নাম রানা প্লাজা,’ বলে মন্তব্য করেন পরিচালক নজরুল ইসলাম খান।

তাহলে মুক্তির জন্য ছবির নাম পরিবর্তন করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্নই উঠে না। ছবির নাম ‘রানা প্লাজা’ই থাকবে। ‘রানা প্লাজা’র’ মতো এমন ভয়াল ট্র্যাজেডির ঘটনা বাংলাদেশে কখনো ঘটেনি। তাহলে আমি কেনো অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম দেবো!’

‘আর দেখুন বাইরের দেশে ওরা নিজের দেশের অসংগতির ওপর সিনেমা নির্মাণ করে। সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে। কিন্তু, আমাদের দেশে উল্টো। দেশের জন্য ভালো কিছু করতে গেলে নিজের সবকিছু হারাতে হয়।’

‘ছুটির ঘণ্টা চলচ্চিত্র দেখে সমাজে যেভাবে জনসচেতনতা বেড়েছিলো তেমনি রানা প্লাজা মুক্তি পেলে জনসচেনতা বাড়তো। আসলে রানা প্লাজা শুধু আমার বা আমাদের ছবি নয়, এটি সারা বাংলাদেশের ছবি,’ বলে মন্তব্য করেন পরীমনি। উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় প্রায় ১১ শত ৩৫ জন নিহত আর আহত হয় প্রায় ২০০০ মানুষ। ধংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে।

150824100350_bangla_bd_rana_plaza_movie_ban_640x360_bbc_nocredit

 

জটিলতায় বিদ্ধ ছিল জুয়েলের মুখোশ মানুষ :

অনেকদিন ধরে জটিলতার মোড়কে মোরানো ছিল চলচ্চিত্র ‘মুখোশ মানুষ’। সম্প্রতি ছবিটিকে নিয়ে একটি নেতিবাচক সংবাদ চাওর হয়। আর তা হচ্ছে, ‘মুখোশ মানুষ’ চলচ্চিত্রের সেন্সরপত্র বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু এটি একটি বিভ্রান্তমূলক সংবাদ। সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক ইয়াসির আরাফাত জুয়েল বলেন, ‘একটি ভুল সংবাদ আমাদের জন্য সমস্যার কারণ। এই ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র বাতিলের যে কথা শোনা যাচ্ছে তা সত্য নয়।

সেন্সর বোর্ড থেকে এমন কোনো কিছু আমাদের জানানো হয়নি এবং ছাড়পত্র বাতিল হয়েছে এমন কোনো চিঠি বা তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তাই এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সবাইকে জানাচ্ছি আমাদের চলচ্চিত্রটি মুক্তির তারিখ ঠিক আছে। সময়মতো ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে।’

মুখোশ মানুষ যে দৃশ্যটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল মূলত ওই কাহিনীকে ঘিরেই সিনেমার গল্প। মেয়েরা কিভাবে সাইবার ক্রাইমের স্বীকার হচ্ছে -এমন গল্প দেখাতে গিয়ে স্বভাবতই পরিচালককে কিছু বিছানার দৃশ্য ধারণ করতে হয় ।আর ঝড় ওঠে ইউটিউবে, আমরা ইন্টারনেটের মধ্য দিয়ে পর্নগ্রাফি দেখতে অভ্যস্থ কিন্তু তথ্যভিত্তিক এমন কাহিনী চিত্র চোখের সামনে দেখতে ভয় পাই। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। অবশেষে সিনেমাটি বেশ ভালো ভাবেই মুক্তি পায় মহামান্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাইবার ক্রাইমে সরকারের সফলতার গাল গল্প দিয়ে । একটা পূর্ণাংগ কাহিনীচিত্র অবশেষে প্রামাণ্যচিত্রে রূপ লাভ করে ।

Mukhosh

 

রাজিবুল হোসেনের হৃদয়ের রংধনু :

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে রাজীবুল হোসেন নির্মিত অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হৃদয়ের রংধনু’র সেন্সর ফি মওকুফ করা হয়। এরপর ২৭ নভেম্বর সেন্সর শো হলেও ছাড়পত্র তো দূরে থাক বোর্ড থেকে কোন চিঠি পাননি পরিচালক-প্রযোজক। তবে পরিবর্তন ডটকমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিটির ৭টি বিষয়ে সেন্সর বোর্ডের আপত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বোর্ড।

এতে দেখা যায়, সেন্সর শো’র পর সাতটি পয়েন্ট চিহ্নিত করে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য চিঠি পাঠায় বোর্ড। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ,ছবিটি বাংলাদেশের পর্যটনের প্রচারণায় নির্মিত হয়েছে। আপত্তি জানানো বিষয়গুলো হচ্ছে— পর্যটন এলাকায় হোটেল-মোটেলের পরিবর্তে রাতে অসহায় অবস্থায় চরে পরিত্যক্ত তাবুতে পর্যটকদের অবস্থান-রাত্রিযাপনের দৃশ্য ও বিভিন্ন সংলাপ। পর্যটন এলাকায় লাঠিয়াল বাহিনীর চর দখলের দৃশ্য ও সংলাপ। লাঠিয়াল বাহিনীর চর দখলের সময় মারামারিতে বিদেশি নাগরিকসহ পর্যটক মারাত্মক আহত হওয়ার দৃশ্য ও সংলাপ। পর্যটন এলাকার পাশ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের দুঃখ-কষ্ট-বেদনার দৃশ্য ও সংলাপ। পর্যটন এলাকায় ঝড়-বাদল ও জলদস্যুদের তাণ্ডব সংক্রান্ত কথোপকথনের দৃশ্য। পর্যটন এলাকায় খাবারে দোকানগুলোতে দোকানদারদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, কদর্য সংলাপ, ‘খাবার নাই’ বলে পর্যটকদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং খাবার দোকান বন্ধ করে পর্যটকদের সামনে থেকে দোকানদারদের চলে যাওয়ার দৃশ্য ও সংলাপ। জনৈক বিদেশিনীকে পর্যটন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপহরণ, পর্যটন এলাকার নিকটবর্তী জঙ্গলে বিদেশিনীকে আটকে রাখা, সন্ত্রাসীদের দ্বারা তাকে অশালীন ও কদর্যপূর্ণ ভাষায় বাক্য ছুঁড়ে দেওয়া।

এ বিষয়গুলো পর্যটন শিল্পের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে চিঠিতে বলা হয়। আরো বলা হয়, ছবিতে একই সংলাপ একাধিকবার একই সময়ে বা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ব্যবহার, অর্থহীন সংলাপের ব্যবহার ও নিম্নমানের অভিনয় দর্শকদের বিরক্তির উদ্বেগ করতে পারে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ছবিটি পরিচালক রাজীবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দেখলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সেন্সর বোর্ডকে তাদের কোন মতামত দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে সেন্সর বোর্ড সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন পরিবর্তনকে বলেন, ‘ছবিটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের পর্যটনকে প্রমোট করার জন্য। স্বাভাবিকভাবে পর্যটনের জন্য ক্ষতিকর বিষয় ছিল যা কিনা আমরা চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চেয়েছি। তারা আমাদেরকে এখনো কোন উত্তর দেননি।’

তবে পরিচালক জানালেন, আপত্তির বিষয়গুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারেননি। বোর্ডের কাগজপত্র দেখালে পরিবর্তনকে বেশকিছু পয়েন্টে ব্যাখ্যা করেন এভাবে— ‘চর দখলের মারামারিতে বিদেশি পর্যটক আহত হয় সত্য, কিন্তু এটা তো তাকে উদ্দেশ্য করে ছিল না। তাছাড়া বিদেশিনী পর্যটক যখন তার বন্ধুদের নিয়ে স্থানীয় জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সহয়তা শুরু করে তখন জলদস্যু নেতার ওই বিদেশিনীকে একবেলা খাবার খাওয়ানোর ইচ্ছে জাগে এবং সে লোক পাঠায় তাকে নিয়ে আসার জন্য। জলদস্যুরা তো স্বাভাবিকভাবে একটা মানুষের সাথে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানে না। তাই তারা তাকে তুলে নিয়ে আসে, কিন্তু তা ক্ষতির উদ্দেশ্যে ছিল না। এছাড়া দোকানদার কর্তৃক খাবার নাই বলার ব্যাপারটি হচ্ছে একটি দোকানে গিয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে খাবার ও পানি চাইলে দোকানদার বলে টেবিলে দেওয়া আছে, নিয়ে খান। এটাতো স্বাভাবিকভাবে অনেক জায়গায় ঘটছে।’

পর্যটন করপোরেশনের অর্থায়নের ব্যাপারটি নিয়ে রাজীব বলেন, ‘এটা ভুল ধারণা। ছবিটি যখন নব্বই শতাংশ শুটিং শেষ হয় তখন আমরা করপোরেশনের সাথে যুক্ত হই। আমরা তখন ৫২টি জেলায় শুটিং করেছি, বাকি ছিল সুন্দরবন ও সিলেট। করপোরেশন শুধু আমাদের ওইসব জায়গায় শুটিংয়ের অনুমতি হোটেল ও মোটেলে থাকা-খাওয়া ফ্রি করে দেয়, বিনিময়ে আমরা তাদেরকে আমাদের পার্টনার করি। তাছাড়া তাদের সুপারিশে আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ে সেন্সর ফি মওকুফের আবেদন করি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে সেন্সর ফির চল্লিশ হাজার টাকা মওকুফ করেছিল গত বছরের ১৭ নভেম্বর।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি তো একটা ছবি বানিয়েছি, বিজ্ঞাপন বানাইনি। আর বিদেশিনী আহত হওয়ার ব্যাপারটি দেখালেও কিন্তু ছবি শেষে ঝাঁকে ঝাঁকে এদেশে বিদেশি পর্যটক আসছে তা দেখানো হয়েছে, কাজেই পর্যটন শিল্পের ক্ষতির কারণ দেখছি না। আর এদেশীয় মানুষরাই কিন্তু ওই বিদেশিনীকে সাহায্য সহযোগিতা করে। এতে করে আমরা কিন্তু ছবিতে দেশকে পজেটিভলিই দেখিয়েছি।”

তবে পর্যটন করপোরেশনের সাথে অনুদান নয় পার্টনারশিপের ব্যাপারটি জানালে সেন্সর বোর্ড সচিব বলেন, ‘আমাদের জানা মতে অনুদান রয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা পর্যটন শিল্পের জন্য ক্ষতিকর উপাদন রয়েছে এতে। এ ব্যাপারেই আমরা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মতামতের অপেক্ষায় আছি।’ পরিচালক রাজীবুল জানালেন, সেন্সর বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত নেবেন আপিল করবেন নাকি আদালতে যাবেন।

২০১৪ সালের নভেম্বরে ‘হৃদয়ের রংধনু’র দৃশ্যায়ন শুরু হয়। অভিনয় করছেন শামস কাদির, মুহতাসিন সজন, খিং সাই মং মারমা ও সার্বিয়ান মডেল মিনা চেতকোভিচ। এ চলচ্চিত্রে গান রয়েছে ছয়টি। সঙ্গীত পরিচালনা করছেন সাকিব চৌধুরী, ফারহান ও নীলকণ্ঠ। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে এআইএমসি।

11536139_10153272538291075_189968772989196451_n

মং থেঙ্গারির-চাকমা ভাষার প্রথম সিনেমা  :

বাংলাদেশে চাকমা ভাষায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘মর থেঙ্গারি’ বা ‘মাই বাইসাইকেল’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সেনাবাহিনী৷ তাই ছবিটি শেষ পর্যন্ত সেন্সর বোর্ড পেরিয়ে প্রদর্শনের অনুমতি পাবে কিনা, তা নিয়ে হতাশায় আছেন পরিচালক অং রাখাইন৷ অং রাখাইন ‘মাই বাইসাইকেল’-এর জন্য গত দশ বছর ধরে কাজ করলেও ছবির দৃশ্যধারণ শুরু করেন ২০১২ সালে৷ এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার একটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম প্রদর্শিত হয় ‘মর থেঙ্গারি’৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাখাইন জানান, ‘বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে চাকমাদের জীবন নিয়েই চাকমা ভাষায় নির্মাণ করা হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি৷ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বা তাদের জন্য আপত্তিকর কোনো চিত্র বা সংলাপ এই সিনেমায় নেই৷’

‘ছবিতে শুধুমাত্র একটি প্রতীকী দৃশ্য আছে, যেখানে বাহিনীর সদস্যরা হেঁটে যাচ্ছেন৷ যদিও এটা বিশেষ কোনো বাহিনীকে নির্দেশ করে না৷’ এরপরেও ‘আমাকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাতে কিছু অংশ নিয়ে সেনাবাহিনীর আপত্তির কথা জানানো হয়’, বলেন অং রাখাইন৷

অন্যদিকে সেন্সর বোর্ডের সচিব মুন্সী জালালউদ্দিন জানান, ‘আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যে চিঠি পেয়েছি, তাতে সেনাবাহিনীর আপত্তির কথা বলা হয়েছে৷ চলচ্চিত্রটির সংলাপ এবং দৃশ্যায়নে সেনাবাহিনী নিয়ে আপত্তিকর বিষয় আছে৷’

তিনি আরো বলেন, ‘সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়াই ২০১৪ সালে চলচ্চিত্রটি ঢাকায় দেখানো হয়, যা সেন্সর আইন বিরোধী৷ তারপরও আমরা সিনেমাটি সেন্সরের তালিকাভুক্ত করেছি৷ এমনকি সেন্সর শো-র সময়ও দেয়া হয়েছিল, তবে তা তথ্য মন্ত্রণালয় স্থগিত করেছে৷’

পরিচালক অং রাখাইন জানান, ‘এরইমধ্যে আমার সিনেমাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছে৷ আমি এখন বাংলাদেশে ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে দেখাতে চাই৷ কিন্তু সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না৷’

তাঁর কথায়, ‘আমি হতাশ হয়ে পড়ছি৷ কারণ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অজুহাত যুক্ত করা হচ্ছে৷ ২০১৪ সালে চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ার শো করা হয়েছিল, ঠিক৷ কিন্তু সেই শো করতে তো সেন্সর ছাড়পত্র লাগে না৷ অথচ এখন এটাকেই আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে৷

Aong-iner

পত্রিকার খবর ঘাটাঘাটি করার পর বুঝতে পারলাম কোথাও কোন একটা গ্যাপ থেকে যাচ্ছে ।প্রথমে ছবি আটকে দেওয়া, তারপর আবার ফুটেজ ফেলে দেওয়া, পুনরায় কিছু জোড়া দেওয়া, পরিশেষে কিছু লেনদেনের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় পরিচালকদের মুক্ত চিন্তার ফসল। তিনি কি দেখাতে পারবেন কিংবা দেখাতে পারবেন না তা নির্ধারন করবে জুরিবোর্ড। অবশ্য পৃথিবীর সব দেশেই তা করে, এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশ ব্যতিক্রম । আমাদের এখানে ঘরে বসে বাচ্চারা টিভির চ্যানেল খুলে দেখে কনডমের বিজ্ঞাপন- তুমিই আমার আসল পুরুষ। আর তক্ষনি মা বড় বড় চোখ করে রিমোট ঘুরিয়ে নিয়ে যায় স্টার প্লাসে। তখন ওই শিশু মনে প্রশ্ন থেকেই যায়- আসল পুরুষ মানে কী? সেই মানে খুঁজতে গিয়ে তারা গুগল মামার সাহায্য নেয়। কারণ গুগল মামা সব জানে।

আপনি ইচ্ছে করলেই ছেলে মেয়ের চোখ-কান বা হাত -মুখ বন্ধ করতে পারবেন না। তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি আপনাকে হতেই হবে। আমার পাঁচ বছরের মেয়ে গেল বছর একটি গানের দৃশ্যে লিপ কিস দেখে জানতে চেয়েছে – ওরা কামরা-কামরি করছে কেন?  আমার উত্তর ছিল খুব স্বাভাবিক- ওরা ভালোবাসাবাসি করছে। এরপর থেকে সে এই বিষয়ে আর কোন দিন প্রশ্ন করেনি। কিন্তু পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ে যদি জানতে চায়-আসল পুরুষ কী তবে আমি নির্ঘাত আহাম্মক হয়ে যাব।

আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলে অবাধে বিছানার দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। উদ্ভট সব সংলাপ জুড়ে দিচ্ছে নাটকে। বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করার আন্দোলন করতে করতে নাটকে যোগ হচ্ছে কলকাতার সিনেমার গান ।এ এক অদ্ভূৎ রাষ্ট্র আমাদের যেখানে শিশুদের কোন সিনেমা নেই হলে বা টেলিভিশনে। যে শিশুদের নিয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়ের মাথা ব্যথা সে শিশু সমাজ এখন ডুবে যাচ্ছে ডরিমন কার্টুনে বা হিন্দি সিরিয়ালে। কী আছে এই এখানে? এটা নিয়ে আর নতুন করে বলার কিছুই নাই। একজন বাবা বা একজন মায়ের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয় স্কুলে গিয়ে বা কলেজে ঢুকে দেখে আসা তাদের বাচ্চারা ক্লাসে বসে কী করছে। স্কুলে যেমন দায়িত্ব শিক্ষকদের তেমন রাস্তার দায়িত্ব প্রশাসনের। এমন সব ছবির পোস্টার ঝোলানো থাকে মুখের ওপর যে এই বয়সেও লজ্জায় চোখ ঘুরিয়ে নিতে হয় ।এই পোস্টারের সেন্সর তবে কার দায়িত্ব?

আজকাল আমরা নিজের ঘরের খবর নেবার চাইতে ফেসবুকে বসে অন্যের খবর বেশি পাচ্ছি। আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সেই একই দশা। টেলিভিশন নাটক বা বিজ্ঞাপন এমন কি রিয়েলিটি শো যেখানে উপস্থাপিকা হাঁটুর উপরে জামা পড়ে – এদের  অবাধ করে দিয়ে সব সেন্সর গিয়ে ঠেকেছে বাংলা সিনেমায়। আর যৌথ প্রযোজনা ছাড়াও অবাধে আমদানি হচ্ছে ভারতীয় শিল্পী। অথচ তাদের কোনো ওয়ার্ক পারমিট নেই। মুক্তিযোদ্ধার চরিত্র পর্যন্ত ভারতীয় অভিনেতাদের দিয়ে করানো হচ্ছে, এমন অভিনেতার সংকট আমাদের! জানি শিল্পীর কোন দেশ নাই-এই তত্ব দিয়ে চলছে এই মহড়া। কিন্তু আমাদের দেশের যে নাট্যকর্মী জীবনের ত্রিশটা বছর কাটিয়ে দিল অভিনয় করতে করতে  সে যদি একটি ভালো সিনেমায় সুযোগ না পায় তাহলে তার কাজের পূর্ণাজ্ঞতা কিসে হবে? আর বাচ্চা বা নারীদের প্রতি যে সহিংসতা না দেখানোর কথা বলা হয়েছে সেখানে খাদিজার মতোন মেয়েদের নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন হবে। যদি আমি প্রামান্যচিত্র না বানিয়ে কাহিনীচিত্র করতে চাই তবে তো আমাকে কোন না কোন উপায়ে বোঝাতেই হবে তার উপরে বদরুলের অত্যাচার কতোটা ভয়ংকর ছিল? এই গল্পে কিন্তু প্রশাসনের সফলতার গল্প খুব নিখুঁত ভাবেই দেখানো যাবে, কারণ বদরুলের সাজা হয়েছিল।

কিন্তু এই দেশের অন্যান্য খাদিজাদের গল্পের পরিসমাপ্তি খুব মধুর নয় । ইচ্ছে করলেই দুই বোতল মধু ঢেলে দিয়ে একজন গল্পকার গল্প লিখতে পারবেন না, আর পরিচালক সিনেমা বানাতে গিয়ে যদি চিত্রনাট্যই বদলে দেন তবে আমাদের মতোন ছাপোষা লেখক যাবে কোথায় ? তাই আমার গল্প কোন মাখোমাখো প্রেম দিয়ে শেষ হবে না ।আপাতত কলম বন্ধই থাকবে।

(আমার এই গল্পের সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই। খবরে প্রকাশিত সংবাদগুলো কারো সাথে মিলে গেলে লেখক কোন ভাবেই দায়ী নয়!)