ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 
ইন্টারনেটে যে  ওয়েব সাইট গুলো  আছে সেগুলো তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভিক্ত :
১. সারফেস ওয়েব(Surface Web)।
২.ডিপ ওয়েব।(Deep Web)
৩.ডার্ক ওয়েব।(Dark Web)
picture
Surface Web:
Surface web হচ্ছে আমরা সাধারণত ইন্টারনেটে যা ব্রাউজ করি।ইন্টারনেটের সেই অংশ যা সাধারান মানুষের জন্য আভেলেবল থাকে। যেমন ধরুন আপনি কিছু সার্চ করতে চান।Google.com এ গেলেন। সার্চ  করলেন।দেখবেন লক্ষ  লক্ষ রেজাল্ট আসে, হাজার হাজার  ওয়েব সাইটের লিংক আসে ।যত গুলো সাইট দেখতে পেয়ে থাকেন,রেজাল্ট দেখতে পেয়ে থাকেনসেগুলো Surface ওয়েব এ বিদ্যমান থাকে।কারন সাইট গুলো নরমাল মানুষের জন্য বানানো।যে কেউ ওই সাইট গুলো দেখতে পারে,সার্ফ করতে পারে।সেই সাইট গুলো সার্চ ইঞ্জিনে ইন্ডেক্স করা আছে।মানে সার্চ ইঞ্জিন ওই সাইট গুলোকে তার রেজাল্টে যোগ করে রেখেছে।যেমন: বিভিন্ন নিউজ পেপারের ওয়েব সাইট,বিনোদনমূলক ওয়েব সাইট,লাইভ স্পোর্টস ওয়েব সাইট ইত্যাদি ইত্যাদি।এইসব যত সাইট এগুলো surface web এ আছে ।কেউ সার্ফ করতে পারবে।বিভিন্ন জিনিস ডাউনলোড করতে পারবে।
আপনি জানেন কি?সার্চ ইঞ্জিনে কিছু সার্চ দিলে আমরা যত লক্ষ লক্ষ রেজাল্ট দেখতে পাই তা গোটা ইন্টারনেট দুনিয়ার মাত্র ৪%।তাহলে একবার চিন্তা করুন বাকি ৯৬% এ আরো কত কিছু আছে!
 
Deep Web:
ডিপ ওয়েব এমন ওয়েব যেখানে সবাই প্রবেশ করতে পারেনা সার্ফ করতে পারেনা।সাধারনের কাছ থেকে লুকানো।একটু নিজেকে দিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন।ধরুন আপনি একটা ওয়েব সাইট খুললেন।সেই সাইটে এমন একটা পেজ রাখলেন যেটা আপনি সবাইকে দেখাতে চাননা।আপনি চাননা যে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার পেজটি দেখা যাক।আরো সহজ ভাবে বুঝার চেষ্টা করুন।ধরুন আপনি আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এর জন্য একটা ওয়েব সাইট তৈরি করলেন।সেখানে আপনার কাস্টমারদের জন্য বিভিন্ন পেজ তৈরি করলেন।যা যা দরকারি সব রাখলেন।কিন্তু এমন একটা পেজ তৈরি করলেন যেখানে আপনার এমপ্লয়িদের তথ্য জমা রাখলেন।বা ব্যাবসার হিসাব-নিকাশ রাখলেন।যেটা আপনি জনসাধারণ এর সামনে উন্মুক্ত করতে চাননা।শুধু তারাই সেই পেজটি দেখতে পাবে যারা আপনার এমপ্লয়ি।সেখানে তাদের ইউজার নেম,পিন কোড দেয়ার পরই তারা সেই লুকানো পেজটিতে প্রবেশ করতে পারবে।আর সেই পেজ কোনো ভাবেই গুগোলে এ search করলে পাওয়া যাবেনা।কারন পেজটি গুগলে বা সার্চ ইঞ্জিনে ইন্ডেক্স করা নাই।আর পেজটি শুধু সেই সার্ফ করতে পারবে যার কাছে পেজটি address আছে।URL আছে।ধরুন আপনার এমপ্লয়িরা পেজটির URL জানে।তাহলে শুধু তারাই পেজটিতে প্রবেশ করতে পারবে।একটা সাইটের কোনো পেজ যেমন লুকায়িত থাকতে পারে।ওই রকম পুরো ওয়েব সাইটিও লুকায়িত থাকতে পারে যা সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দিলে খুজে পাওয়া যাবেনা।সাইটটির address যারা জানে শুধু তারাই address টি টাইপ করে প্রবেশ করতে পারবে।
অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজে আপনার যত জিনিস স্টোর থাকে যেমন গুগল ড্রাইভে বা ড্রপ বক্সে আপনার যদি কোনো গোপন ছবি স্টোর করা থাকে তাহলে আপনি কোনো দিন ও চাইবেন না যে আপনার ছবিটি কেউ দেখুক।আপনি যখন আপনার ক্লাউড স্টোর থেকে ছবিটির URL কাউকে দিবেন শুধু তখনই সে ছবিটি দেখতে পাবে।এর মানে আপনার ছবিটি deep web এ আছে।যে কেউ সার্চ ইঞ্জিনে ছবিটি সার্চ দিলে খুজে পাবেনা। Government এর সব প্রয়োজনীয় গোপনীয় তথ্য deep web এ জমা থাকে।

 

Dark Web:
ডার্ক ওয়েব! ইন্টারনেটের অভিশপ্ত অংশ হচ্ছে  ডার্ক ওয়েব।ইন্টারনেটের কালো জগৎ,অন্ধকার জগৎ,পাপের জগৎ।ডার্ক ওয়েব এর সাথে কানেক্টেড লোকজন ডার্ক ওয়েবে যা ইচ্ছা করেত পারে।যত রকম অবৈধ কাজকর্ম আছে সব কিছুই ডার্ক ওয়েবে জায়েজ!এই অন্ধকার জগতে হয়না এমন কোনো খারাপ কাজ বোধ হয় এই দুনিয়াতে নাই।শিশু পর্ণোগ্রাফী থেকে শুরু করে মানুষের মাংস খাওয়ার ভিডিও,শয়তানের সাথে সংযগস্থাপনের চেষ্টার ভিডিও,মানুষ খুন করা,শয়তানের পূজা করা,ইলুমিনাতি সব এইখানে হয়।এমনকি লাইভ ধর্ষণ বা হত্যাও দেখানো হয় ডার্ক ওয়েবে।ভূত প্রেত বস করার ভিডিও মিলে এইখানে।ডার্ক ওয়েবে একদম খোলাখুলি ড্রাগস কেনা বেঁচা করা হয়।যত রকমেরে ড্রাগস এইখানে পাওয়া যায়।মার্ডারের সব উইপনস কেনাবেঁচা হয়।মার্ডারের জন্য খুনি ভাড়া করা হয়।এখানে অর্থ লেনদেন হয় বিট কয়েনের মাধম্যে। ডার্ক ওয়েবে এইসব করার জন্য আছে শতশত ডার্ক মার্কেট।যেমন ডার্ক ওয়েব ব্যবহারকারীদের কাছে একটা পছন্দের ডার্ক মার্কেট ছিল সিল্ক রোড(silk road)।২০১৪ সালে সিল্ক রোড ট্রেস করা সম্ভব হয় এইটাকে বন্ধ করে দেয়া হয়।এন্টিভাইরাস কোম্পানী এবং পুলিশ যথাসার্ধ চেষ্টা করে যাচ্ছে ডার্ক মার্কেট বা ডার্ক ওয়েব গুলো বন্ধ করে দেয়ার জন্য।কিছু সম্ভব হচ্ছে।কিন্তু এদের নির্মূল করে দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।এমনকি হবেও কিনা তারও কোনো ঠিক নাই।
ধারণা করা হয় ডার্ক ওয়েব যারা পরিচালনা করে তারা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হ্যাকার।তাদের তৈরী ওয়েব সাইট হ্যাক করে বন্ধ করতে হলে অনেক বড় ধকের প্রয়োজন।হ্যাকতো দূরের কথা অনেকে ডার্ক ওয়েব সার্ফ করতেই ভয় পাই(ডার্ক ওয়েব সার্ফ করা সম্পূর্ণ অবৈধ,অপরাধ)। এইসব করতে গিয়ে প্রাণ গেছে অনেক ভালো মানুষের।টর ব্রাউজার দিয়ে সার্ফ করা যায় ডার্ক ওয়েব(প্রথমে টর ব্রাউজার ইউএস নেভিদের জন্য বানানো হয়েছিল)।কেউ যখন ডার্ক ওয়েব সার্ফ করে সেই ডার্ক ওয়েবের অ্যাডমিন তার সব এক্টিভিটি  দেখতে পাই।তার আইপি এড্ড্রেস ট্রেস কোনো পারে।তার পিসি বা মোবাইলে অনায়াসেই প্রবেশ করেত পারে।তার গুরুত্বপূর্ন গোপন তথ্য চুরি করে তা ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে দিতে পারে।তাই সাবধান কেউ ভুল করেও ডার্ক ওয়েব সার্ফ করতে যাবেনা না।বিপদে পড়বেন আপনি নিজেই। ডার্ক ওয়েব সার্ফ করাও অপরাধ।মনে করুন আপনি এক্সপেরিয়েন্সের জন্য টর ব্রাউজার দিয়ে কোনো ডার্ক ওয়েবের লিংক এ গেলেন।খারাপ কিছু করার উদ্দেশ্য আপনার ছিলোনা।তারপরেও পুলিশ যদি ট্রেস করতে পারে আপনি ডার্ক ওয়েব সার্ফ করেছেন তাহলে আপনার জেল নিশ্চিত!ডার্ক ওয়েবের লিংক প্রায় এমনটা হয়:examplefsfqadgeyqwugu51553hhgfwg.onion।
.onion দেয়া লিংকে কোনো দিনও ভুল করে প্রবেশ করবেননা।আসলে সাধারণ বৈধ ব্রাউজার থেকে ডার্ক ওয়েবের লিংকে প্রবেশ করাও যায়না।টর দিয়ে প্রবেশ করতে  হয়।একটা কথা ভেবে দেখুন সারফেস ওয়েব মাত্র ৪% তাও সারফেস ওয়েবের সব সাইট ঘেঁটে আপনি শেষ করতে পারবেনা।তাহলে ভাবুন বাকি ৯৬% এ যদি আপনি প্রবেশ করেন তাহলে হারিয়ে যাবেন অপরাধের মহা সমুদ্রে!কোনোনা কোনো ভাবে ক্ষতি আপনার হবেই।
ডার্ক ওয়েব সার্ফিংয়ের অনেক রিয়্যাল ভিডিও ইউটিউব ঘাটলেই পাবেন।কিন্তু সাবধান ভিডিওগুলো একটু অন্যরকম! হয়তো নিতে পারবেনা!মানুষ মৃত মানুষের শরীর ছিঁড়ে ছিঁড়ে মাংস খাচ্ছে,নিজেই নিজেই শরীরের অংশ কেটে ফেলছে!মানুষের ভূত নামাচ্ছে!শয়তানের পূজা করছে,শিশু ধর্ষণ করছে!দেখতে পারবেন এইসব?
আর একটা কথা ভুল করেও ডার্ক ওয়েব সার্ফিং এর ভুল করবেন না।ইউটিউবে যারা সার্ফিং করে ভিডিও বানিয়েছে তারা অভিজ্ঞ।তাদের ট্রেস হওয়ার ভয় হয়ত কম!কিন্তু আপনি? পুলিশ বা ডার্ক ওয়েব এডমিনদের হাতে একবার ফেঁসে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে আপনার সহজ সরল জীবনের ধারা। অনুমতি থাকলে ডিপ ওয়েব সার্ফ করা বৈধ কিন্তু ডার্ক ওয়েব সম্পূর্ণ অবৈধ। ধারণা করা হয় ডার্ক ওয়েবের মূলে রয়েছে ইলুমিনাতি(Illuminati)।যারা শয়তানের পূজারী।