ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

ব্যাঙের আবার সর্দি জ্বর? সারাদিনরাত কাদামাটি আর ঠান্ডা জলে এতো লাফঝাঁপ, কিন্তু কে কবে শুনেছে ব্যাঙের সর্দি হতে? অথচ, শীত আসতে না আসতেই সর্দিকাশি ও জ্বরে আমাদের নাজুক অবস্থা। এ তারতম্যের কারণ কি? জানা আছে ব্যাঙের মতো কিছু কিছু উভচর প্রাণীদের ত্বক থেকে নিঃসৃত হয় বিভিন্ন রকমের জীবাণুনাশক পদার্থ। এসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যাঙের রোগ-প্রতিরোধক ব্যবস্থারই অংশ। জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে ব্যাঙের ত্বকে থাকা গ্ল্যান্ড থেকে শ্লেষ্মার সাথে এসব পদার্থ নিঃসরণের মাত্রা বিশেষ ভাবে বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে গতকালই প্রকাশিত হয়েছে আরো এক নতুন গবেষণা তথ্য: দক্ষিণ ভারতে এক জাতীয় ব্যাঙের ত্বক থেকে নিঃসৃত হয় ‘উরুমিন’ নামে এক রাসায়নিক পদার্থ যা কিনা H1 প্রজাতির ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কে ধ্বংস করতে সক্ষম। এ গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা প্রথমে ব্যাঙকে হালকা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে ত্বক থেকে বেশি বেশি শ্লেষ্মা তৈরী করিয়ে নেয়। এরপর এই শ্লেষ্মা নিয়ে চলে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা। মোট ৩২ রকমের জীবাণুনাশক পদার্থ থেকে বেছে নেওয়া হয় ৪টি পদার্থ যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসকে দমন করতে সক্ষম। আর এই ৪টির মধ্যে মাত্র একটিই মানুষের শরীরে ব্যবহারের উপযুক্ত বলে নির্ধারিত হয়।

বলাবাহুল্য, সাম্প্রতিক কালে যেসব ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ ঘটায় তার মধ্যে H1 ও H3 জাতীয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসই মুখ্য। ২০০৯ সালে H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ঘটিত মহামারীর কথা মনে আছে নিশ্চই। এই H1N1 ভাইরাসও H1 জাতীয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। সদ্য আবিষ্কৃত ‘উরুমিন’ যদিও এখনো মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়নি। ফ্লু আক্রান্ত ইঁদুরে পরীক্ষা করে এর ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গেছে। ‘উরুমিন’ কেন শুধু H1 জাতীয় ভাইরাসের বিরুদ্ধেই নিদৃষ্টভাবে কাজ করে, এ প্রশ্নের উত্তরে ধারণা করা হয় যে, নিশ্চই H1 জাতীয় ভাইরাসের এর সাথে মিল আছে এমন কোনো ভাইরাস ব্যাঙকে সংক্রমিত করে, তাই এর এমন সুনিদৃষ্ট কার্যকারিতা। ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি সর্বব্যাপী এবং ঋতুনির্ভর রোগ যা খুব লঘু থেকে খুব গুরুতর এমনকি মৃত্যুর ও কারণ হতে পারে। আবার খুব ছোঁয়াচে বলে এরোগ খুব সহজেই মহামারী আকার ধরণ করার সম্ভাবনা থাকে। যদিও ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে আজকাল বেশ কিছু এন্টিভাইরাল ড্রাগ ব্যৱহৃত হচ্ছে, ড্রাগ-প্রতিরোধী ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উত্থানের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অনেক এন্টিভাইরাল ড্রাগ। সেক্ষেত্রে নতুন এন্টিভাইরাল, উরুমিনের আবিষ্কার ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

ব্যাঙের ত্বক নিয়ে গবেষণা করার এমন অদ্ভুত আইডিয়া এলো কোথা থেকে? ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, প্রাচীন রাশিয়ায়, দুধকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে দুধের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হতো জীবন্ত ব্যাঙ। আর তাতে দুধ ঠিক ফ্রিজে রাখার মতোই ভালো থাকতো। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে, ২০১২ সালে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পান ব্যাঙের ত্বক থেকে নিঃসৃত এসব জীবাণুনাশক পদার্থ, যা দুধে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া দমন করে দুধকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করে। ব্যাঙের যে সর্দি লাগে না, তা তো আমরা বাংলা ভাষাভাষীরা জানি সেই কোন কাল থেকেই, কিন্তু কে জানতো সেই ব্যাঙের গায়েই সন্ধান মিলবে মানুষের সর্দিজ্বরবিনাশী এমন প্রতিষেধক!

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেটে প্রাপ্ত সিএনএন নিউজ