ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

প্রায় বারোশ বছর একটি দেশে থেকে আজ রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রমাণ করতে হবে তারা সেই দেশের নাগরিক কিনা। একটি দেশ যখন নিজেই নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ন হয় তখন তার জনগণের অধিকার হরণ হবে এতো স্বাভাবিক। আর আমরা বাংলাদেশিরা আছি শাকের করাতের নিচে। আমাদের দেশ ছোট কিন্তু মানবতায় অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছি। কারন আমরা জানি উদ্বাস্তুর জ্বালা, দেশহীনতার জ্বালা; একাত্তর আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে।

আমাদের সীমাবদ্ধতা নিয়েও আমরা গত কয়েক দিনে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম, হিন্দুদের আশ্রয় দিয়েছি যা আমাদের মত এত ছোট দেশের জন্য বিশাল বোঝা। আমরা দেখেছি ১৯৭৮ সালের রোহিঙ্গার ঢল কিংবা ১৯৯২ সালের অনুপ্রবেশ যা পরবর্তীতে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় কিছুটা ভদ্রস্থ রূপ নিয়েছে কিন্তু পুরোপুরিভাবে সমাধান হয় নি। দু’দিন পরপর এই দিগদারী চলতে থাকবে আর আমরা নিরুপায়ের মত মানবতার বুলি কপচাব তা হবে কেন!

এখন সময় এসেছে বিশ্বকে জানানোর যে, অনেক হয়েছে এবার আসুন দু’পেয়ালা চা নিয়ে বসি। বর্মীদের বলার সময় এসেছে দু’হাজার সাল তো সেদিনের ঘটনা যা তাদের ভোলা উচিত না। আমরা মানবতা দেখাই মানে আমরা দূর্বল না, তবে আমরা সংঘাতে জড়াতে অপছন্দ করি।আমরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুই দুই বার এই ঐক্যমত্যে পৌঁছেছিলাম যে, রোহিঙ্গারা আপনাদের দেশের লোক এবং তাদের দেখবালের দায়িত্ব ও আপনাদের। কিন্তু এখন যদি বলেন প্রমাণ করতে হবে যে, তারা আপনার দেশের নাগরিক কিনা! তার জন্য ১৯৭৮ এবং ১৯৯২ সালে যে যৌথ বিবৃতির ঘোষনা এসেছিল অপ্রকাশ্যভাবে তার অনুলিপি পড়ে দেখুন। বাংলাদেশীদের যত নরম নরম ভাব দেখতেছেন আমরা ততটা নরম না।

কূটনীতি আমরাও জানি তবে তা কূট নীতি না। আমাদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিতে চাইবেন না। আপনারা যদি মনে করেন ভারত আর চীনদেশ আপনাদের সাথে আছে তাহলে আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, সবায় চায় সব ডিম এক ঝুড়িতে না রেখে বিভিন্ন ঝুড়িতে ভাগাভাগি করে রাখতে। তো কিছু ডিম আমাদের এদিকেও রাখা আছে। অতএব, তথাগতের অনুগামীরা সাবধান।

 

০৮-০৯-১৭
দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা।