ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, মুক্তমঞ্চ

 

কী লিখব ভার্চুয়াল জগতে? এ্যাকুরিয়ামে থেকে কতটুকুই বা নিজেকে প্রকাশ করা যায়। চারিদিকে স্বচ্ছ কাঁচের বেষ্ঠনি কিংবা বনজ গাছের আবরণ। কখনও বাহির দেখা যায় কখনো দেখেও কিছু বলার থাকে না আর বলার কোন উপায় নেই। আমি বন্দি কারাগারে। ছটফটাতে ছটফটাতে একদিন শ্বাসরূদ্ধ হয়ে নিজেকে বিসর্জন দিতে হয়। সোনার বাংলাও ঠিক তেমনটি হয়েছে। সোনার বাংলা আজ একটি এ্যাকুরিয়াম। মানুষগুলো সেই এ্যাকুরিয়ামের এক একটি মাছ।

পশুপাখিকে জবাই করলে সেই পশু কিংবা পাখির বলার কিছুই থাকে না। স্বজাতি শুধুই দেখে যায় কিভাবে মানুষ খেকো পশু হত্যা করে চলছে। ঠিক মানুষগুলোও আজ পশুর ন্যায় হত্যা হচ্ছে। হাজারও মানুষের সামনে হত্যা করা হচ্ছে, কেউ কিছুই বলতে পারছে না। দেখেও না দেখার ভান ধরে চলে যাচ্ছে আপন পথে। ছটফটিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর আসছে চারপাশ থেকে হাজারও মানুষ। কেউ ছবি তুলছে, কেউ জেনে না জেনে অনেক উক্তিই করছে।

নামের পাশে কর্মটি সূর্যের আলোয় হউক আলোকিত
ধুয়ে মুঁছে সকল অপ-আত্মা,
যেখানে যতুটুকুর চিহ্ন তোমাতে আমাতে
লিখে রেখো দু’টি নামের পাশে, পরকালে হবে দেখা ।

আজকের অভিজিৎ, সেদিনের বিশ্বজিত তারও আগে সাগর-রুনি, একদিন হয়তো আমি নিজেও সেই সকলদের সারিতে বিছানা পেতে ঘুমিয়ে পড়বো, হাজারও চাওয়া কিংবা পাওয়া থাকলেও সজাগ হতে পারব না। আর একদিন শ্লোগান আর শ্লোগান টিএসসি’র চত্বরে কিংবা সমগ্র দেশে কত কোকিল সুর তুলে গান ধরবে বুঝতে পারবো না। নদীর জলের মতোই আজকের সমাজ এবং সমাজে বসবাসরত মানুষগুলো। কূল ভাঙার খেলায় মেতেছে সবে। কেন জানি কেউ গড়তে চায় না সবাই ধবংসটাকে ভালবাসে আর যারা তিলতিল করে গড়তে শিখে তখনি ঝড় উঠে আসে। বালুর বাঁধের মতো জীবনের প্রতিটি পথ চুর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

বেঁচে থাকতে কে না চায়, আমরা সবাই বেঁচে থাকতে চাই, সুন্দর করে জীবন গড়তে চাই। আসলে বেঁচে থাকা যায় না সেটা সবাই জানি। তবুও যতদিন সুন্দর এই পৃথিবীতে শ্বাস নিতে পারি সেই সময়টুকু যেন সুস্থতার মাঝেই থাকতে পারি সেটাই চাই। আর এমন চাওয়ার আর আকাঙ্খার জন্য আমরা সবাই স্বার্থের পাগল হয়ে গেছি। স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝতে পারি না বা চাই না। তবে আমাদের তো পশুর মতোই মরতে হবে।