ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

Nobobarta1495

আস্তিক আর নাস্তিকের সংজ্ঞা আমাদের দেশের আস্তিকবাদী কিংবা নাস্তিকবাদী আর সাধারন আমজনতা কেউ হয়তো জানেন না। যারা জানেন তারা নিশ্চুপ হয়ে থাকেন। প্রকৃত সত্য হলো আমাদের দেশে নাস্তিক বলে কেউ নেই খোলা চোখে যাদের নাস্তিক বলে জানি আসলে তারা সবাই ধর্ম বিদ্বেষী। যারা নাস্তিকতা নিয়ে আমাদের দেশে বসবাস করছে তারা সবাই নাস্তিকতার মুখোশে কোনো একটি ধর্মের শত্রুতা করে চলেছে।

নাস্তিক কাকে বলে?
নাস্তিকতা বা এথিজম হল স্রষ্টার অস্তিত্বহীনতা। তথা একথার বিশ্বাস করা যে, স্রষ্টা বলতে কিছু নেই। আসমান, জমিন, গ্রহ-তারা সবই এমনিতেই প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোর কোন স্রষ্টা নেই। এক কথায় স্রষ্টার অস্তিত্বহীনতার বিশ্বাসের নাম নাস্তিক্যতা। নাস্তিকতার অর্থ বুঝলে আমাদের অনেক বিষয় বুঝে আসবে। যেমন-
১-নাস্তিক মানেই কাফের। কারণ কাফের হওয়ার জন্য দ্বীনে ইসলামের যে কোন একটি আবশ্যকীয় বিষয় অস্বিকার করলেই হয়। আর সেখানে নাস্তিক সেতো কোন কিছুই মানে না, তাই সে যে কাফের এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
২-নাস্তিক মুরতাদ ও হতে পারে। কারণ কোন ব্যক্তি যদি মুসলমান ছিল প্রথমে, তারপর (আল্লাহ না করুন) স্রষ্টার অস্তিত্বহীনতায় বিশ্বাসী হয়ে যায়, তাহলে লোকটি নাস্তিক ও হল, সাথে সাথে মুরতাদও হল। সেই সাথে কাফেরতো হলোই।
৩-কাফের ও মুরতাদ হওয়ার জন্য নাস্তিক হওয়া জরূরী নয়। বরং নাস্তিক না হয়েও কাফের বা মুরতাদ হতে পারে। কিন্তু নাস্তিক হলেই কাফের হয়ে যায়। যদি মুসলমানিত্ব থেকে নাস্তিকতার দিকে গেলে সাথে মুরতাদও হয়ে যায়। এ বিষয়টি আরো ভাল করে বুঝতে হবে। কাফের হলেই তাকে নাস্তিক হতে হবে এমন শর্ত নয়। কারণ কাফের হল ইসলামের জরূরী বিষয়ের কোন একটি অস্বিকার করা। আর নাস্তিক মানে হল স্রষ্টা অস্বিকার করা। তাহলে কোন ব্যক্তি ইসলামের জরূরী কোন বিষয়ের অস্বিকার করে যদি স্রষ্টা আছে মানে,তাহলে উক্ত ব্যক্তি কাফের, কিন্তু নাস্তিক নয়। এ হিসেবে খৃষ্টান নাস্তিক নয়। নয় ইহুদীরাও। নয় হিন্দু বৌদ্ধরাও। কারণ তারা সবাই একজন স্রষ্টা আছেন মর্মে বিশ্বাস করে। কিন্তু তারা সবাই কাফের। কারণ তারা ইসলামের জরূরী বিষয় অস্বিকার করে। কোন মুসলমানকে কাফের বলা জায়েজ নয় যদি কোন ব্যক্তি ইসলামের জরূরী বিষয়কে মান্য করে, কিন্তু গোনাহগার। তাহলে উক্ত গোনাহের কারণে লোকটিকে কাফের বলা জায়েজ নয়। হারাম। কুরআন ও হাদীসে এ ব্যাপারে কড়া ধমকী এসেছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَىٰ إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللَّهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ ۚ كَذَٰلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا [٤:٩٤]

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর কর,তখন যাচাই করে নিও এবং যে,তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে, তুমি মুসলমান নও। তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ কর,বস্তুতঃ আল্লাহর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরা ও তো এমনি ছিলে ইতিপূর্বে; অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খবর রাখেন। {সূরা নিসা-৯৪}
হাদীসে রাসূল সাঃ যে ব্যক্তি কাফের না তাকে কাফের বললে, সেই কুফরী নিজের দিকে প্রত্যাবর্তন করে মর্মে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন-
عن أبي ذر رضي الله عنه أنه سمع النبي صلى الله عليه و سلم يقول ( لا يرمي رجل رجلا بالفسوق ولا يرميه بالكفر إلا ارتدت عليه إن لم يكن صاحبه كذلك )

হযরত আবু জর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসুল সাঃ বলেছেন যে, তোমাদের কেউ যদি কাউকে ফাসেক বলে, কিংবা কাফের বলে অথচ লোকটি এমন নয়,তাহলে তা যিনি বলেছেন তার দিকে ফিরে আসবে। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৬৯৮} কত মারাত্মক হুশিয়ারী, তাই কাউকে কাফের, মুশরিক, নাস্তিক বলার ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কাফের বলার ক্ষেত্রে উসূল আল্লামা মোল্লা আলী কারী রহঃ শরহে ফিক্বহুল আকবারে বলেন-
ان المسئلة المتعلقة بالكفر اذا كان له تسع وتسعون احتمالا للكفر واحتمال واحد فى نفيه فالاولى للمفتى والقاضى ان يعمل بالاحتمال النافى، لان الخطا فى ابقاء الف كافر اهون من الخطاء فى افناء مسلم واحد، (شرح الفقه الاكبر-199)

কুফরী সম্পর্কিত বিষয়ে, যখন কোন বিষয়ে ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা থাকে কুফরীর, আর এক ভাগ সম্ভাবনা থাকে, কুফরী না হওয়ার। তাহলে মুফতী ও বিচারকের জন্য উচিত হল কুফরী না হওয়ার উপর আমল করা। কেননা ভুলের কারণে এক হাজার কাফের বেচে থাকার চেয়ে ভুলে একজন মুসলমান ধ্বংস হওয়া জঘন্য। {শরহু ফিক্বহুল আকবার-১৯৯} সুতরাং কারো কোন কাজে সন্দেহ হলেই তাকে কাফের, মুরতাদ, নাস্তিক ইত্যাদি বলে প্রচার করা জায়েজ নয়। প্রথমে উক্ত বিষয়টি যাচাই বাছাই করে সত্যাসত্যি জেনে তারপর ফাতওয়া দিতে হবে।

কোন কাফেরকে মুসলমান বলাও জায়েজ নেই যদি কোন ব্যক্তি ইসলামের জরূরিয়্যাতের কোন একটিকে অস্বিকার করার মাধ্যমে আসলেই কাফের হয়ে থাকে, তাহলে তাকে ব্যাখ্যা করে মুসলমান বানানোর ব্যার্থ চেষ্টা করা হারাম। একাজ কিছুতেই জায়েজ নয়। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন-
أَتُرِيدُونَ أَنْ تَهْدُوا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ ۖ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا [٤:٨٨]

তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও,যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন,তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না। {সূরা নিসা-৮৮}

নাস্তিক কখনোই একটি ধর্মের শত্রু নয় বা হতেও পারে না, একজন নাস্তিকের সব সময় নাস্তিকতায় সকল ধর্মের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব থাকতে হবে। আমাদের দেশে কিছু কিছু গোত্রের নামের মানুষ আছে, তারা সবাই ইসলাম বিদ্বেষী, সনাতন ধর্ম বিদ্বেষী, তারাই নিজেদের দাবি করেন আমরা নাস্তিক। নাস্তিকের কোন ধর্ম নেই। নাস্তিক নিজের কর্মকেই ধর্ম বলে দাবি করে।

আমার মনে হয় না কোনো মুসলিম সনাতন ধর্মকে নিয়ে কথা বলে নাস্তিকের খেতাব অর্জন করেছে। তবে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা বলতে পারে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটাক্ষ করতে দ্বিধাবোধ করে না। নাস্তিকেরা এতো কিছুই করতে পারে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কিন্তু খ্রীষ্টান ধর্মকে নিয়ে কেন কেউ কথা বলতে পারছে না?

এই সকল আস্তিকতা নাস্তিকতা যেন শুধু এশিয়ায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানেই। আসলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এই তিন দেশে নাস্তিক বলে কেউ নেই। শুধু মাত্র ধর্ম বিদ্বেষী কিছু কু-মানুষের অবস্থান। এই সকল কু-মানুষগুলোর কিছু অংশ নানান ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে ধর্মবিদ্বেষ মূলক আচরন করে চলেছে। দেশকে ধবংস করার লক্ষ্যেই ঐ সকল কু-মানুষ নাস্তিকতার আবরনে নিজেরা অন্য ধর্মকে হেয় করে চলেছে।

নাস্তিক না বলে সরাসরি ধর্মের শত্রু বলতে হবে তাদের। নাস্তিক কথাটি উচ্চারণ করা আসলে ঠিক হবে না সরাসরি তাদের ধর্মের শত্রু বলে আখ্যা দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই তারা ধর্মের একমাত্র শত্রু।