ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। বাড়ছে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। এরকম একটা অপপ্রচার দেখলাম আমাদের সময়ের একটা খবরে। খবরের শিরোনাম জনপ্রতি ৪৬ হাজার টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে অর্থবছরের শুরু”।

তথ্যটা মিথ্যে নয়। সমস্যা এর শিরোনাম নিয়ে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা না করে এবং অর্থনীতির মূলনীতিসমূহের উল্লেখ না করে এ রকম তথ্য প্রচার উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এই শিরোনামের মাধ্যমে জনমনে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে যার সুযোগ নেবে জামায়াত-বিএনপি, সুশীল আর বামাতিরা।

জিডিপি’র ৫% পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য সম্মত। ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং না করা হলে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হয় না। এ কথা কেইনসের সময় থেকে মেনে আসছে সকল অর্থনীতিবিদেরা। বাংলাদেশ এখন দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি করছে। এরকম সময়ে অর্থনীতিতে প্রচুর বিনিয়োগ দরকার। সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব এবং দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে ধার করে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। এই ধারের একটা সীমা আছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমা হচ্ছে জিডিপি’র ৫%। বাংলাদেশ বাজেট করার সময় ৫% নীতি মেনে চলছে।

উন্নত দেশগুলোতে সরকারি ঋণের পরিমাণ আমাদের দেশের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। জাপান ২৩৮%, ইতালি ১২৬%, আমেরিকা ১০৬%, ফ্রান্স ৯০%, ইউকে ৮৫%, জার্মানী ৮২%, পাকিস্তান ৬২%, ভারত ৪১%, বাংলাদেশ ৩৪%। এ তথ্য আইএমএফের।

বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সরকার সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। জাপান ৭৪%, ইতালি ১২৬%, আমেরিকা ৯৭%, ফ্রান্স ২১০%, ইউকে ৩১৪%, জার্মানী ১৪৮%, পাকিস্তান ২৬%, ভারত ২৪%, বাংলাদেশ ১২%।

মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ নিয়ে আতংকিত হবার কিছু নেই। দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কৃষক-শ্রমিকের আয় বাড়ছে, নিম্নবিত্তের মানুষ মধ্যবিত্ত হচ্ছে। উন্নত দেশে পরিণত হবার পূর্বশর্ত, অবকাঠামো তৈরী হচ্ছে। এরকম সময়ে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ঋণ নিয়ে তখনই বিনিয়োগ করা উচিত যখন বিনিয়োগ করার সামর্থ থাকে।

বাংলাদেশের এখন বিনিয়োগ করার সামর্থ আছে। প্রতি বছর আরও বড় বাজেট দিয়ে সরকার তা বাস্তবায়ন করে দেখাচ্ছে। এখন ঋণ করে বিনিয়োগ করলে তা অর্থনীতির গতি আরও বাড়িয়ে দেবে। সমালোচকদের মনে রাখা উচিত, সরকার ঋণ করে রাজস্ব খাতে ব্যয় মেটাচ্ছে না, নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণে তা বিনিয়োগ করছে।