ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১৯৭৫ থেকে ২০০৯ সময়টা বাংলাদেশের জন্য যে সকল দিক থেকেই একটা কালো অধ্যায় ছিল তার প্রমাণ অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, দূর্নীতি – সকল ক্ষেত্রেই। এই সময়ে বাংলাদেশের উপর আধিপত্য বিস্তার করে লুটতরাজ করেছে আমেরিকা আর তাদের হাতে তৈরী দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি, পাকিস্তান। আমেরিকা, পাকিস্তান তাদের আধিপত্য বিস্তার করার কাছে লাগিয়েছে সামরিক শাসকদের। এ কাজ তারা চিলি, মিশর, পাকিস্তান, ফিলিপাইনসসহ পৃথিবীর বহু দেশেই করেছে। বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদ বিস্তার এবং স্থায়ী করতে আমেরিকা আঞ্চলিক মাস্তান হিসেবে সঙ্গে নিয়েছে পাকিস্তানকে এবং স্থানীয় মাস্তানের ভূমিকায় পাকিস্তানের পুরোন চামচা জামায়াতকে। মৌলবাদী এবং যুদ্ধাপরাধী জামায়াত এই বাংলায় স্থায়িত্ব যে পাবে না তা বুঝতে কোন অসুবিধা ছিলনা সাম্রাজ্যবাদীদের। তাই তারা জামায়াতের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা রেখে সামনে নিয়ে আসার প্রয়োজন বোধ করে একটা ডানপন্থী দলের। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং জামায়াতের সহযোগিতায় একটা ডানপন্থী দল গঠন করলে তা গ্রহণযোগ্যতা বেশী পাবে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ে গা ঢাকা দেয়া মুসলিম লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকের একটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম দেয়া এবং একই সঙ্গে তাদের উপর ভর করে একটা ডানপন্থী দল গঠন করার উদ্দেশ্য নিয়ে জন্ম হয় বিএনপি’র।

সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে কমিউনিজম নিয়ে বিরোধ করতে করতে দূরে সরে একা হয়ে পড়েছিল চীন। সত্তরের দশকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পিংপং ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হয় চীন-মার্কিন সম্পর্কের। তার প্রভাব পরে বাংলাদেশ রাজনীতিতেও। সঙ্গত কারণে জিয়াউর রহমানের বিএনপি মুসলিম লীগ, নেজামে লীগ, ইত্যাদি পাকিস্তানপন্থী দলগুলোর সঙ্গে পায় মুক্তিযুদ্ধের সময় দিশা হারানো এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির অহেতুক বিরোধীতা করা পিকিংপন্থী ভাষানী ন্যাপকে। মুসলিম লীগ, আওয়ামী মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ করা মাওলানা ভাষানী কি করে চাইনিজ ধারার কমিউনিস্ট হয়ে গেলেন? মাওলানা সাহেবের ভাষানী ন্যাপ সমাজতন্ত্রী আদর্শের দল না হয়েও কি করে চাইনিজ কমিউনিস্টদের সহযোগী হয়ে উঠলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর হতে পারে একটাই – আদর্শের কারণে নয়, শুধু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটা নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্যই মাওলানা সাহেব পিকিংপন্থী হয়ে উঠেছিলেন। ৫৭ সালে পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তির বিরোধিতা করা মাওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করে যুক্ত হলেন পাক-মার্কিন-চীন পরিমণ্ডলে। ৭৬ সালে মাওলানা ভাসানীর মৃত্যু হলে পাকিস্তান-আমেরিকা-চীন অক্ষের ভাসানী ন্যাপের লোকেরা নিশ্চিন্তে যোগদান করে অবৈধ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিএনপিতে।

ভাসানীর অনুসারী যারা বিএনপিতে যোগ দেয়নি তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ। এরা এখনো নিজেদের বামপন্থী বলে পরিচয় দেয়; শ্রেণি সংগ্রাম দেখতে পায় জঙ্গিবাদের মাঝে; রাজনৈতিক সহযোগী হয় হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি’র; সমর্থন করে পেট্রোল বোমা আন্দোলন। মুখপোড়ারা এদের বলে বাম + জামাতি = বামাতি।