ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

প্রতিটি শিশুর মানসিক বিকাশ তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর নির্ভর করে। শুধু শিশু না, প্রাপ্ত বয়স্করাও তাদের পারিপার্শ্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেমন শহরে রাত ১২/১ টায় ঘুমোতে যাওয়া মানুষটাও গ্রামে গেলে ৯/১০ টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পরে।

তবে শিশুর ক্ষেত্র এই প্রভাবটা চরম রকম। একটি শিশু জন্মের পর, একটুকরো নরম মাটির মতন। একে যেভাবে গড়া হবে, সে সেই আকৃতিই ধারন করবে। শিশুর কথাবার্তা, চলাফেরা, আচার-আচরন, স্বভাব-চরিত্র সবই এই পরিবেশের দান।

জন্ম থেকেই কেউ জজ-ব্যারিস্টার বা চোর-ডাকাত হয়ে জন্ম নেয় না। তার জন্মের পর তার বাবা-মা, ভাই-বোন তথা তার ঘরের প্রত্যেকটি মানুষের চারিত্রিক প্রভাব ওই শিশুর উপর পরে। আবার একটু বড় হলে বন্ধু, প্রতিবেশীর আচার-আচরণ তাকে প্রভাবিত করে।

একটি শিশু ভালো-মন্দের তফাত করতে পারে না। সে যা কিছু দেখে মনে করে, ওই লোক যেহেতু করে আমিও করতে পারি। যেমন বাবা-মার সাথে মার্কেটে গিয়ে সে দেখছে যে যার মত জিনিসপত্র নিচ্ছে। হয়তো তখনো সে মূল্য পরিশোধের বিষয়টা যানে না। সেও ওই একই রকম একটি জিনিস নিয়ে যাচ্ছে। এরপর বাবা-মা বিষয়টি টের পাওয়ার পর যদি শিশুটিকে ভৎসনা দেয়, সেটা শিশুটির জন্য বিরাট ক্ষতির কারন। আবার যদি কিছু না বলে তাহলেও সে বুঝতে পারবে না। তাই বাবা-মার উচিত হবে মূল বিষয়টি শিশুকে বুঝিয়ে বলা।

একটি মানুষ গড়ে ওঠার মূল কারিগর তার পরিবার। পরিবার থেকে শিক্ষা নিয়ে শিশুটি বাস্তবিক জীবনে প্রবেশ করে। এই পরিবারের কাছ শিক্ষারত অবস্থায় যদি শিশুটিকে যদি যথাযথ নৈতিক শিক্ষা শিশুকে দেয়া হয় তবে পরবর্তিতে শিশুটি যে কোন মন্দ বিষয় দেখলেই বুঝতে পারবে এটা থেকে তাকে দূরে থাকা দরকার, এই কাজটা তার করা উচিত নয় অথবা এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবারিক কলহ শিশুকে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে দুর্বল করে দেয়। সেও ঝগড়া ফ্যাসাদ শিখে যায়। অপরদিকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শিশু যদি সেক্রিফাইসের মানসিকতা দেখতে পায়, সেও ঠিক একই মানসিকতার হয়ে বড় হয়ে ওঠে।

শিশুটি বড় হওয়ার সাথে সাথে নানা পরিবেশের সাথে মিশতে মিশতে অনেক পরিবর্তিত হতে থাকে বা পরিবর্তিত হয়। কিন্তু পরিবার থেকেই যদি শিশুটিকে যথাযথ শিক্ষা দেয়া হয় তবে ভালো মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে শিশুটি এগিয়ে যায় অনেকাংশে।