ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আগে মানুষজন পুলিশদের বাঁকা চোখে দেখতো। পুলিশ ঘুষ খায়, সাধারণ নিরীহ মানুষদের বিপদে ফেলে। এইবার দেশে (গ্রামে) আসার পর আরেক পেশার মানুষের নামে খুব বেশি আজেবাজে কথা শুনছি। তারা হলেন শিক্ষক শ্রেণী।

পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আমি কোন প্রাইভেট টিউটর বা ক্লাসের বাইরে কোন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়েছি এমন মনে পরে না। আমার আম্মুই ছিল আমার একমাত্র শিক্ষক। তাছাড়া আমার যেসব বন্ধুর বাসায় পড়ানোর মত কেউ ছিল না, তারা স্কুলে যে কোন একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তো অথবা বাসায় যে কোন একজন শিক্ষক এসে পড়াতো।

কিন্তু এইবার দেশে (গ্রামে) আসার পর শুনলাম, প্রাইমারি স্কুলের প্রতিটি বাচ্চাকে স্কুলের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। প্রাইভেট না পরলে ফেল বা সঠিক মার্ক দেয়া হয় না।

আমি একে পজিটিভলি দেখছি। কারণ, আমাদের সময়ে প্রাইমারি থেকেই ঝরে পরা এবং তখনাকার সময়ে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে তেমন ভালো পড়ালেখা হত না (আমার নিজস্ব মতামত, এখনো হয় কিনা জানি না)। আমাদের সময়ে এমন অনেক প্রাইমারির বন্ধু ছিল যারা ইংরেজিতে ঠিকমত নিজের নাম লিখতে পারত না। কিন্তু এখন সেই পরিমান নাই বললেই চলে (আমার বাসার আশেপাশের পোলাপানের অবস্থা)। আগের এবং বর্তমানের মধ্যে পার্থক্য হওয়ার কারণ হয়তো ক্লাসের বাইরে কোচিং ব্যাবস্থা।

কারণ শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে শিক্ষক ইচ্ছা করলেও হয়তো সব শিক্ষার্থীর প্রতি সমান যত্নবান হতে পারে না। তাই আমার ধারণা প্রাইমারি পর্যায়ে বর্তমান অবস্থায় (অপর্যাপ্ত শিক্ষক) শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরেও টিউশন দেয়া যেতে পারে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরাতো সরকার থেকে টাকা পাচ্ছেই। তাদের নিজেদের টাকা তাদের পেছনে খরচ করলে সমস্যা কি?

উপরের কথাগুলো সাধারণ প্রাইমারি স্কুলের জন্য। কিন্তু সরকারি স্কুলগুলোর (৩য়-৫ম শ্রেণী) অবস্থা শুনলাম খুব বেশি খারাপ। সেখানে নাকি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আলাদা আলাদা বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষকের কাছে পড়তে হয়। অনেক সময় নাকি শিক্ষার্থীরা (অভিভাবক) ভালো রেজাল্টের জন্য একই বিষয়ের আলাদা শিফটের দুইজন শিক্ষকের কাছে পড়ে! এই কয়েকদিন এলাকার এবং পরিচিতদের সাথে কথা বলে এতটুকুই জানতে পারলাম।

যাই হোক, যাদের এক বা একাধিক পড়ানোর সামর্থ্য আছে তারা পড়াক। কিন্তু যাদের পড়ানোর সামর্থ্য নাই তাদেরকে যেন সম্মানিত শিক্ষকরা বাধ্য বা বৈষম্য না করেন ক্লাস বা রেজাল্টের মাধ্যমে।