ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আপনার সন্তানকে শেখাবেন ইভটিজিং আবার তাকে বলবেন ইভটিজিং করো না! এমন চাওয়া আসলে অবাস্তব।

একটি গান আছে– “মেলায় যাইরে”। ওখানে এমন কথা আছে “বখাটে ছেলের ভিরে ললনাদের রেহাই নাই।” কোন মেলায় গিয়ে কোন ভদ্র ছেলে এ গান শুনলে তারও একটু সুযোগে বখাটে হবার ইচ্ছে জাগতে পারে আর বখাটেরাতো পাগল হয়ে ললনাদের রেহাই না দেবারই জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করবে।

আবার একটি গান আছে- বোরখা পড়া মেয়ে আমায় পাগল করেছে! এই গান শুনে কোন কিশোর/যুবক কোন বোরখা পড়া মেয়ে দেখলে এই গান গেয়ে উঠলে তাকে আপনি টিজার বলতে পারেন? সে তো যুক্তি দেখাতে পারে- সে কেবল গান করছিলো মাত্র!

দুটো উদাহরণ দিলাম দুটোই গান। কেন? কারণ, প্রথমত, টিজাররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গানই ব্যবহার করে। অশ্লীল কবিতা, গল্পও আমরা তাদের শেখাই ঠিকই, তবে তার ব্যবহার ওরা কমই করে।

দ্বিতীয়ত, গানের আবেদন মানুষের উপর বেশ প্রকট। খেয়াল করলে দেখবেন- একজন অশিক্ষিত মানুষও একটি কঠিন গান মুখস্ত করে ফেলতে পারেন কিন্তু সেই একই কথা তিনি সচরাচর বলতে পারেননা। শুধু তাই নয়, অন্যান্য সাহিত্যের চেয়ে গানই মানুষ বেশি সময় ধরে মনে রাখে এবং চর্চা করে। তাই গানের কথা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, গানে অশ্লীলতা তরুণ ও যুব সমাজের জন্য ভয়ংকর। আপনার গাওয়া গান বা আপনার লেখা গান ইভটিজারদের মুখে মুখে থাকুক এটা কোন গায়ক বা গীতিকারের কাম্য নিশ্চয়ই নয়। তাই গান গাওয়া, লেখা এবং বাজারজাতকরনের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত- যাতে এসব গান কোন তরুণ-তরুণী বা যুবক-যুবতী সর্বোপরি মানুষ এবং সমাজের জন্য অকল্যাণকর বা ক্ষতির কারণ না হয়।

এখানেই উপসংহার টানতে চেয়েছিলাম কিন্তু হঠাৎ মনে হলো- বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত বলে আমার লেখাটি কারো কারো কাছে গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। আসলে কিন্তু তা নয় ভাই- মনে রাখবেন, এই সমাজটি কিন্তু আপনার আমার  ‘ব্যক্তিগত’ কর্মকান্ডের সমন্বিত রূপ।