ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

হাসি-খুশী প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর এক কিশোরী।প্রায়ই তার মন খারাপ হত, আবার পরক্ষণেই তা ভাল হয়ে যেত। মনে হত সবকিছুতে একটু বেশি কথা বলে। আবেগ ছিল বেশি। হাজারও কিশোরীর মতো তারও ছিল অনেক স্বপ্ন। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডেই পরিচয়। ছিল ছোট বোনের মত। মাঝে মধ্যে অভিবাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হত। কিভাবে যেন বুঝতে পেরেছিল আয়ু ফুরিয়ে আসছে। তাই গত ৩ আগস্ট ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল,

“মেঘের উপর বাড়ি করবো। যাতে কেউ আমাকে খুঁজে না পায়। আমাকে অশান্তিতে না রাখে।
একা থাকবো।ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবো।”

গ্রামের বাড়িতে ঈদ করে নিজ নীড়ে ফিরছিল। আর হঠাৎ নরসিংদীতে তাদের বহনকারী বাসের সাথে আরেকটি বাসের মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছে প্রিয় কিশোরী বোন, সোহানা আহমদ বিল্লী। মেঘের উপর বাড়ি করবে বলে চলে গেছে, যাতে কেউ তাকে খুঁজে না পায়, অশান্তিতে না রাখে……..। ওপারে ভালো থাকিস বোন, আর তোকে বিল্লু, ঝিল্লী এসব বলে ক্ষেপানোর কোন সুযোগ রাখলি না। আচ্ছা কেউ কি বলতে পারেন, কেন এমন হয়? স্বপ্নগুলো কেন এমনভাবে দুমড়ে মুচড়ে যায়? একটি দুর্ঘটনা কেন মানুষের সবকিছু পাল্টে দেয়?

প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে বাস-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা, লঞ্চ ডুবিতে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। সোহানার মত মিষ্টি মেয়েরাও তা থেকে রক্ষা পায় না। এই গরিব দেশে আমরা কী আরেকটু সচেতন হয়ে থাকতে পারি না? সরকারের উপর সবকিছুতে নির্ভর করলে ফলাফল যে এমন হয় এটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু তারপরও আমরা কেন জীবনের ঝুঁকি নেই?

গরু-ছাগল চিনতে পারলেই ড্রাইভার হওয়া যায়, এমন উক্তিকারী নৌমন্ত্রী শাহজাহান, কিংবা বিএনপি আমলের লঞ্চ ডুবলে আমি কি করবো, আমি কি লঞ্চ চালাই টাইপ উক্তিকারী নৌমন্ত্রী আকবর আলীরা কি বহাল তবিয়তে থাকবে?

সেই নীতিকথা, “সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি” কী একটি মিথ্যা ছলনা?

ভালো থাকিস ফুলেরা, ভালো থাকিস সোহানা’রা………….।

৪ জন হঠাৎ হরিয়ে যাওয়া মানুষের ওয়ালে ঢুকে মাঝেমধ্যে আঁতকে উঠি, আনফ্রেন্ড করে দিলাম।
***
সোহানার ফেসবুক আইডি -> https://www.facebook.com/sohana.ahmed.351
দুর্ঘটনার নিউজ লিংক -> http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/312690.html