ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

১। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। পাবলিক পরীক্ষার নামে বাণিজ্য, অনিয়ম, পাসের হার বাড়াতে এভারেজ মার্কস এসবের মাধ্যমে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত বলে মনে হচ্ছে। এসবে সর্বশেষ যোগ হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁস! পরীক্ষার আগেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইট এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে সকলের হাতে পৌছে যাচ্ছে পরীক্ষার প্রশ্ন। এবং পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে আগের রাতে যাওয়া প্রশ্নেরই ফটোকপি পরীক্ষার হলে! তাই মাত্র কয়েক ঘন্টা মুখস্থ করে আসা শিক্ষার্থীরা সেইসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে ঠিকমত, জিপিএ-৫ এর পাল্লা ভারী হচ্ছে। পাশের হার বাড়ছে…. ইত্যাদি।
২। সারা বছর পাঠ্যবই পড়ে নোট তৈরী করে, দিন রাত পরিশ্রম করে পরীক্ষার হলে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীরা অবাক হয়ে দেখছে তাদের সহপাঠীদের একটা অংশ পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন যোগাড় করে ১০০% কমন পড়া সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ভালো ফল করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের চেয়েও ভালো রেজাল্ট করেছে। অথচ এই ফেল্টুস শিক্ষার্থীগুলো ঠিকমতো পরীক্ষা নিলে হয়তো পাসই করতে পারতো না!
৩। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলে এ জাতির পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাইতো তথাকথিত ভালো, সৎ মানুষের আদলে কিছু লোক প্রকাশে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসের শিশনে নেমেছে। তাদের ফাঁদে পা দিয়েছে সরকার এবং আমরা সবাই। সফল সফল স্লোগান দিয়ে আমরা তাদের এই অপকর্ম সমর্থন করছি।আমরা বুঝতেও পরছি না আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই বিমুখ করে, চোর হিসেবে তৈরী করা হচ্ছে। কিভাবে প্রতরণা করে, চুরি করে পাস করা যায় সেই শিক্ষা দেয় হচ্ছে। ফলে বাদ পড়ছে যোগ্যরা। আর এইসব হাইব্রীড জিপিএ-৫ ধারীরা কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ঠিকতে পরছে না। দিনশেষে তারা হতাশ হয়ে পড়ছে। ব্রিটিশরা আমাদেরকে কেরানী উপহার দিয়ে গেছে আর এই বিগত কয়েক বছরের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের একটি মেধাহীন সার্টিফিকেট সর্বস্ব জাতি হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। জাতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে কথা বলার কেউ নেই। মিডিয়া ব্যস্ত লতিফ সিদ্দিকী আর তারেক রহমানদের নিয়ে। বুদ্ধিজীবীদের সময় নেই এসব নিয়ে ভাবার। কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা, কোনটি আসল , কোনটি নকল এসব বুঝার কোন উপায় নেই।

শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ। বছরের ১ম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েই ঢাকার চেষ্ঠা হচ্ছে সব ষড়যন্ত্র।

এখন প্রতীক্ষা শুধু এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের কফিনে শেষ পেরে ঢুকানোর।