ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আগামী দিনে এদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রনায়ক, সমাজ বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, বুদ্ধিজীবীদের জন্ম হবে। এদের কেউ হবে সেনাবাহিনীর ফিল্ড মার্শাল। এদের কেউই হয়তো হবে মঙ্গলগ্রহে পাড়ি জমানো প্রথম তরুণী। আদর্শ মা হয়ে কেউ আগামীর মুজিব, গান্ধীদের জন্ম দেবে। শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কী পড়বে, কেমন আচরণ করবে সেটা অনেকটাই নির্ভর করে শিক্ষা ব্যবস্থা, অভিবাবক, এবং শিক্ষকদের উপর। একজন শিক্ষিত কিশোর-কিশোরীর ব্যবহার এবং সমবয়সী একজন রিকশাচালকের ব্যবহারে অবশ্যই তারতম্য থাকবে।

আমাদের প্রাণের শহীদ মিনার। আমাদের স্বাধীকার আন্দোলনের স্মৃতি, আমাদের প্রেরণার উৎস। আমাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যে স্থানে অবস্থিত সেই এলাকায় বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ঢাবি, ঢামেক এবং বুয়েট) অবস্থিত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর সংখ্যক দর্শণার্থী আমাদের প্রেরণার উৎস এই শহীদ মিনার দেখতে আসেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত শপথে বলীয়ান হন তারা। এছাড়াও ঢাবিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই ঐতিহাসিক এলাকা।

তবে ইদানিং যে, বিষয়টা সবচয়ে স্পর্শকাতর সেটি হল শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা নিয়ে একদল শিক্ষার্থীদের আড্ডা। রাজধানীর বদরুন্নেছা কলেজের ছাত্রীরা দুপুর ১২টা থেকেই এখানে জড়ো হয়। হঠাৎ কারো মনে হতে পারে এটি হয়তো পার্ক। প্রেমিক-প্রেমিকারা প্রেম নিবেদন করছে, কেউ কেউ অশ্লীলভাবে নিজেদের উপস্থাপন করছে ইত্যাদি। কিন্তু গত ১ সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে দেখা গেল শহীদ মিনারের বেদীতে বসে জুতো নিয়ে ক্লান্তিহীন আড্ডায় মেতে ওঠছে বদরুন্নেছা সহ আরো কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা। এদের সবাই ইউনিফর্ম পরিহিত।  শহীদ মিনারের বেদীতে জুতো পায়ে আড্ডা দেয়ার মত দৃষ্টতা তারা শিখল কিভাবে? তারা কি জানে না যে, আইনগতভাবেই এটি অপরাধ। শহীদ মিনার পবিত্র স্থান। এটি তৈরী হয়েছে রক্ত এবং প্রাণের মেলবন্ধনে। শহীদ মিনার অবমাননা মানে স্বাধীনতার অবমাননা, জাতীয় পতাকার অবমাননা, রাষ্ট্রের অবমাননা। এটি কি দেখার কেউ নেই? মিডিয়া কিংবা অন্য কোন সুশিক্ষিত কারো কি চোখে পড়েনি স্পর্শকাতর এই ব্যাপারটি? শহীদ মিনারের সামনে সাইনবোর্ড টানানো আছে যে, জুতো নিয়ে বেদীতে ওঠা নিষেধ। আমি দেখেছি দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত মানুষ, যারা হয়তো তেমন শিক্ষিত না, তারা খালি পায়ে বেদীতে ওঠেন। জাতীয় ইস্যুতে শিক্ষা বড় ব্যাপার না। দেশের প্রতিটি মানুষের যেমন জাতীয় সংগীত জানা কর্তব্য তেমনি জাতীয় পতাকা,শহীদ মিনার এসবের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন অবশ্যই কর্তব্য। অন্যথায় শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা যদি শহীদ মিনার অবমাননায় নেতৃত্ব দেয়, পবিত্র স্থানকে পার্কে পরিণত করে তবে তা আমাদের জন্য অবশ্যই ভাববার বিষয়।

আসুন নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আমাদের শিক্ষার্থীদের স্বাধীকার আন্দোলনের চেতনায় বলীয়ান করে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসি।

জয় আমাদের হবেই ।1122