ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

০১. গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিন্দুকদের ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ তকমা মুছে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির দেশ। প্রায় দুই কোটি তরুণ-তরুণী নিয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে। দেশের সমাজনীতি, রাজনীতি অর্থনীতি সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে উন্নতির চিহ্ন সুস্পষ্ট। দেশে অর্থনৈতিক মন্দা নেই, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। নিজের টাকায় পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। বছরের প্রথম দিনে চার কোটি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে ৩৬ কোটি পাঠ্যবই। এইতো আমাদের নৌবাহিনী সাবমেরিন সংযুক্তির মাধ্যমে বহিঃশত্রুর মোকাবেলায় আরও শক্তিশালী হল।

০২. সরকারের সকল উন্নয়নকে পাশ কাটিয়ে আলোচনায় যে প্রসঙ্গটি সেটি হল পাবলিক পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর। আজ থেকে যুগ খানেক পর এদেশের মূল চালিকাশক্তি যারা হবে, যারা কিনা এই সুন্দর দেশটাকে নেতৃত্ব দিবে সেই সকল কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁস নামে এই কলংকজনক বিষয়ের সাথে পরিচিত হয়ে গেল।

আমি বেশ বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম এই বিষয়টা নিয়ে যতটুকু উদ্বেগ কিংবা সমালোচনা প্রয়োজন তার কিছুই হয়নি। এমনিক সাবেক বিরোধী দল বিএনপি যাদের কিনা দেশের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি বিবেচনা করা হয় তারা অন্য সকল ইস্যুতে সরকারের সমালোচনামুখর হলেও এই প্রশ্নফাঁসের মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বেশ নীরব ছিল। আমাদের বুদ্ধিজীবী সমাজ বলে একটা বিষয় আছে, তারা প্রফেসর ইউনুস ইস্যুতে সরকারের মুন্ডুপাত করলেও প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখে কুলুপ এটে দিয়েছেন। কেউ কেউ ব্যতিক্রম আছেন. যারা হয়তো বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু এটা তো ব্যতিক্রম, আর ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরণ হয়না। সার্বিক বিবেচনায় আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়েছে আমাদের বুদ্ধিজীবী, আমলা এবং রাজনীতিকরা এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বেশ বেখেয়াল। এদিকে দৃষ্টি দেয়ার সময় তাদের নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।

কি প্রাইমারীর সমাপনী, কি এসএসসি, কি এইচএসসি- সকল পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আকাশে (ফেসবুক, হোয়াটঅ্যাপ, নীলক্ষেতের ফটোকপির দোকান) ভেসে বেড়াচ্ছে। চৌর্যবৃত্তির প্রথম ধাপ হিসেবে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সেটা সংগ্রহ করে পরীক্ষা দিচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিবাবকরা সেটা সংগ্রহ করে আদরের সন্তানটিকে সারারাত সেটা মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষার হলে পাঠাচ্ছেন। যে শিক্ষার্থী সারাবছর লেখাপড়া করে পরীক্ষা দিচ্ছে আর যে আগের রাত পরীক্ষার প্রশ্ন মুখস্থ করে পরীক্ষা দিচ্ছে, পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মধ্যে গুণগত পার্থক্য থাকছে না। আমার শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথম থেকেই পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এমনিক যারা এটি নিয়ে কথা বলেছেন তাদের সরকারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই কু-ধারা আজও (এসএসসি-সমমান ২০১৭) অব্যাহত। বরেণ্য লেখক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বেশ কয়েকবার পুরো বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে বলেছেন, পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু তাতেও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে ৩০ শে মে অধ্যাপক জাফর ইকবাল উনার স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হককে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অবস্থান ধর্মঘট করে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ জানান এবং এটি রোধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেও সেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শত শত শিক্ষার্থী-অভিবাবক এসে জড়ো হোন এবং স্বস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন। কিন্তু তবুও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিবৃতি দেন, “প্রশ্নফাঁসের কোন ঘটনা ঘটেনি। ড. জাফর ইকবাল তার (শিক্ষামন্ত্রীর) সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন কান্ড করছেন বলে মন্ত্রী উল্টো অভিযোগ করেন।’’ কিন্তু তাতে পালে হাওয়া লাগানো যায়নি। নিয়মিতভাবে প্রশ্নফাঁস হতে থাকে। ফেসবুক, অনলাইন-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমে প্রবল সমালোনা ওঠে। প্রশ্নফাঁসের দায়ভার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ওঠে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্টরা তাদের দায়িত্বে অটল থাকেন।

২ মে ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘অধ্যাপক জাফর ইকবালের বক্তব্যের সঙ্গে কিছু কথা’ শিরোনামে শিক্ষামন্ত্র কলাম লিখেন। সেখানে তিনি বেশ জোরালো ভাষায় বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে তারা (শিক্ষামন্ত্রণালয়) প্রশ্নফাঁস রোধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিশেষত দুইটি গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। খুব শীঘ্রই প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রশ্নফাঁস রোধ করা হবে।’’ মন্ত্রীবর আরও বলেন যে, শুধু সমালোচনা না করে শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে।

০৩. এরপর প্রশ্নফাঁস রোধে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেলও চালু করা হয়। সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান করা হয় প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত যেকোন তথ্য সাথে সাথে জানানোর জন্য। তখন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ভিজিটিং অধ্যাপক ওমর শেহাব প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণসহ শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সেই ঠিকানায় মেইল করেন। দুই মাসেও পদক্ষেপ নেয়া তো দূরের কথা মেইলের উত্তর দেয়ারও প্রয়োজনবোধ করেনি মন্ত্রণালয়। এরপর তিনি ডাকযোগে যোগাযোগ করলে মন্ত্রণালয় থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও আশ্বস্ত করা হয়। এছাড়া আরও অনেকে (এমনকি আমি নিজেও) পরীক্ষার আগের দিন/রাতে ফেসবুক ও হোয়াটঅ্যাপে ফাঁস হওয়া প্রশ্নসহ মন্ত্রণালয়, ঢাকা বোর্ডের নিয়ন্ত্রক প্রমুখের সাথে যোগাযোগ করলে কোন উত্তর তো মিলে নি বরঞ্চ সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়!

আমরা দেখলাম ২০১৭ সালের এসএসসি-সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনেকটা ঘোষণা দিয়ে ফাঁস করা হয়। অনলাইনে ভেসে বেড়ায় সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। কিন্তু জড়িতদের ধরতে পারেনি কিংবা প্রশ্নফাঁস রোধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত কয়েকজনকে ধরলেও মূল অপরাধীরা ধরা-ছোাঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। অভিবাক-সচেতন মহলের চিৎকার-কাঁন্নাকাটি-উদ্বেগ স্বত্ত্বেও প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। প্রশ্ন ক্রেতা সেজে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সংগ্রহ করেন বিডিনিউজের একজন রিপোর্টার। তারপর তিনি সেটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠান। পরীক্ষা শুরুর আধাঘন্টা আগে সেটি পাঠালেও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে নেয়া হয়।

বিডিনিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম পুরো বিষয়টির তথ্য প্রমাণসহ সংবাদ ছাপায় যাতে নিন্দার ঝড় ওঠে। ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বোর্ডের ঘণিত পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস হয়। সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে নেয়া হয় পরীক্ষা। এতদিন ধরে প্রশ্নফাাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করে আসলেও পরদিন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বলেন যে, গণিতের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ পেলে পরীক্ষা বাতিল কিংবা প্রয়োজনবোধে সেই পরীক্ষা আবার নেয়া হবে। মন্ত্রীর বক্তব্যের পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও বরিশাল বোর্ডের শারীরিক শিক্ষার প্রশ্ন এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বোর্ডের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্ন ফাঁস হয়। শেষ পর্যন্ত আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

০৪. এই স্বীকার করতে গিয়ে যে তারা জাতিকে কি পরিমাণ পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে তা কি কেউ ধরতে পারছে? প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে আমাদের যে জাতি হিসেবে পঙ্গু করার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটির দায়ভার কে নিবে? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কর্ণধার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ (যিনি একইসাথে বাংলাদেশ আ’লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য) শুক্রবার (১০মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুদক আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে প্রশ্নফাঁস বিষয়ে বলেছেন, ‘‘এমন একটি পরিবেশের মধ্যে আছি, সব খুলেও বলতে পারিনা। সহ্যও করতে পারিনা।’’

অনেকটা হাত-পা বাঁধা অবস্থা। মন্ত্রীপ্রবরের এমন কথা শুনে অনেকটা আতংকের মধ্যে আছি। এতবছর থেকে নিয়মিত প্রশ্নফাঁস ঘটলেও মন্ত্রীমহোদয়ের সেটা চোখে পড়েনি। তিনি নতুন বই ছাপানো প্রভৃতি নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলেন। ফলে তার কাছে এতদিন মনে হয়েছে প্রশ্নফাঁস নিয়ে যারা কথা বলছে তারা মিথ্যুক, তারা সরকারবিরোধী। অথচ আজ যখন মন্ত্রী দেখলেন এবং বুঝলেন প্রশ্ন আসলেই ফাঁস হচ্ছে। আর এর পুরো দায়ভার তার(মন্ত্রী হিসেবে এবং ফাঁস যারাই করুক এটার রোধ করার সর্বোচ্চ দায়িত্ব উনার)। ফলে তিনি পদত্যাগ না করে এবং প্রশ্নফাঁস রোধ করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ না করে তিনি এখন বলছেন তার হাত-পা বাঁধা। তিনি চাইলেই এটা রোধ করতে পারেন না। মন্ত্রীর এমন বক্তব্য আমাদেরকে দুঃখিত ও বিস্মিত ও ক্ষুদ্ধ করে। আমরা জানি ব্যক্তিগতভাবে তিনি অত্যন্ত সৎ-ন্যায় পরায়ণ। তার ইচ্ছায় আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই পাচ্ছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি লাভ করেছে। ঢেলে সাজানো হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। এখন তিনি যদি একটি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হয়েও অক্ষমতা প্রকাশ করেন তবে আমরা কোথায় যাব।

এর আগে আমরা দেখেছি, ২০১২সালের ৮জুলাই দুটি ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষে পুড়িয়ে দেয়া হয় বিশ^কবির স্মৃতি বিজড়িত সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ (এমসি) এর ছাত্রাবাসের ৩টি ব্লকের ৪২টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়া হলে ১৪জুলাই পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আবেগে কেঁদে ফেলেন। শিক্ষামন্ত্রীর সেই ক্রন্দন জাতির মন জয় করতে পেরেছিল সেদিন। এবার আর কান্নাকাটিতে না গিয়ে মন্ত্রী নিজের অক্ষমতা তুলে ধরেছেন।

আমরা জানি দুর্নীতি আমাদের সিস্টেমের রন্ধ্রমূলে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হত নিয়ম করে। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির পরিচালিত ‘রেটিনা’ কোচিং সেন্টার সেই প্রশ্ন ফাঁস করে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেই প্রশ্ন বিক্রি করত। ক্রেতা পরীক্ষার্থীদের রেটিনার নিয়ন্ত্রিত ফ্ল্যাটে রেখে সারাত সেই প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে তাদের পরীক্ষার হলে পাঠানো হত। সেই কথিত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখত তাদের মুখস্থকরা প্রশ্নের সাথে হুবহু মিলে গেছে। এভাবেই অনেকেই মেডিকেলে ঢুকে যেত। এখন তো সেই সরকার নয়। স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল এখন ক্ষমতায়। তবে কেন এমন হচ্ছে? প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত সিন্ডিকেট কাদের? এরা কি এতই শক্তিশালী যে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী নিজের অক্ষমতা তুলে ধরছেন!

০৫. আমরা চাই না শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে এভাবে প্রকাশ করুন। আপনি দেশের বিভিন্ন সময়ের সেরা শিক্ষামন্ত্রী। আপনি আপনার ব্যর্থতার জন্য পদত্যাগ করুন এটা বলব না। আমরা আপনার হাত-পা বাঁধা এটা দেখতে চাই না। আর সেটা হলেও আপনার বাঁধা হাত-পা খুলার সামর্থ্যও আমাদের নেই। আমরা চাই আপনি প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। প্রশ্নফাঁস রোধ করুন। সরকারের সকল অর্জন এই প্রশ্ন ফাঁস দিয়ে ম্লান করবেন না। প্লিজ আমাদের ভবিষ্যত বাঁচান। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাাঁচান। বাংলাদেশকে বাঁচান। প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত যেই (সচিব,শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা যেকেউ) হোক না কেন তাদের মুখোশ উন্মোচন করুন। তারা হয়তো শক্তিশালী, কিন্তু আমাদের চেয়ে কেউ শক্তিশালী নয়। জয় আমাদের হবেই।