ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

দেশপ্রেমের পূর্বশর্ত মাতৃভাষা প্রেম – মাতৃভাষাবাহিত সংস্কৃতিপ্রেম। বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত ও আত্মত্যাগ করে বাঙালি তার দেশপ্রেমে দৃঢ় সত্ত্বার পরিচয় দিয়েছে। যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই আত্মত্যাগের মহিমায় বাঙালি বিশ্ববিবেকের কাছে শ্রদ্ধেয় ও পূজনীয়। আর তাই বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালির এই মাহাত্মকে চিরঅম্লান করতে ব্যক্তিপর্যায় থেকে রাষ্ট্রীয়পর্যায় পর্যন্ত আমাদের করণীয়গুলো নিরূপন ও তার বাস্তবায়নে সময়োচিত পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।

বায়ান্ন’র একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত ও সফল সমাপ্তির পর বাঙালিকে মগ্ন হতে হয়েছিল মুক্তির আন্দোলনে। পরিণতিতে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্থান লাভ করে। ইতোপূর্বে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ও ২০০৭ সালে জাতিসংঘ আমাদের অমর একুশকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। চলছে ২০১৭ খৃষ্টাব্দ। বাহায়ান্ন’র পরে ৬৫ বছর ও একাত্তরের পর ৪৬ বছর অতিক্রম করেছি আমরা। দীর্ঘ পঁয়ষট্টি বছরে জহির রায়হান নির্মিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও শহীদুল ইসলাম খোকন নির্মিত ‘বাঙলা’ শীর্ষক দু’টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, অল্পকিছু গান-কবিতা-সাহিত্য-ইতিহাস ইত্যাদির মধ্যে অতিক্ষুদ্রকায় উপস্থিতি বাঙালির মাতৃভাষা সংগ্রামের। এনিয়ে যৎসামান্য হাহাকার বুদ্ধিজীবী-কলামিস্ট-সাংবাদিকদের মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ। বাঙালির মাতৃভাষা সংগ্রামের গৌরবগাঁথা নিয়ে রাষ্ট্রের সুদূরপ্রসারী কোন উদ্যোগ নেই। অর্থাৎ যেটুকু না করলেই নয়- তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমে চলমান দীনতায় বাঙালি ক্রমেই বিপথে (বুঝে বা না বুঝে) ধাপিত হচ্ছে, যার পরিণামে বাঙালি জাতি বিশ্বব্যাপী নিশ্চিতভাবে কলঙ্কিত হবে। কিন্তু আমরা ঘৃণ্য জাতিতে পরিণত হতে চায় না। সংস্কৃতিতে দৈন্য নয় – সমৃদ্ধ বাঙালি জাতি বিশ্বদরবারে চিরঅটুট থাকতে চায় ‘চির উন্নত মম শির’ হয়ে। এ প্রসঙ্গে আমাদের করণীয় নির্ধারণে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ও কর্মকাণ্ড বিবেচনার দাবি রাখে।

শহীদ মিনার

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে বায়ান্ন’র একুশে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেশের সর্বপ্রথম শহীদ মিনার রাজশাহী কলেজ চত্বরে নির্মিত হয়। সেই থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি ভাষাশহীদদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি প্রভাতফেরী করে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে আসছে। শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ নিয়েও অনেক নোংরামী হতে দেখা গেছে। কে কার আগে পুষ্পার্ঘ অর্পন করবেন, সামনের সারিতে যারা থাকবেন তারা সেলিব্রেটি কি না, পুষ্পার্ঘ অর্পনকালে ছবি ওঠানো থেকে বঞ্চিতের মান-অভিমান, এমনকি সামনের সারিতে স্থান পাবার চেষ্টার ধাক্কা-ধ্বস্তাধ্বস্তিতে পুষ্পমাল্য ছিঁড়ে ফেলা ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রভাতফেরীকে বিকৃত করে কোথাও কোথাও ‘নাইটফেরী’ (মধ্যরাতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ) বানাতেও দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন – বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের কোন উপকার হবে কি? তবে আশার কথা হলো – এমন বিপরীতমূখী সময় আমরা অতিক্রম করেছি। কিন্তু বিপরীতগামী পথ বন্ধ হওয়ায় সবকিছু নয়- দরকার সঠিক ও সুন্দরের পথ অবারিত করা। চলতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীমূলে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মুখোমুখি হন এক তরুণী। তিনি বললেন, মুক্তিযোদ্ধাদের (!) প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি। পুরো জাতি দেখলো ও জানলো – কিভাবে একুশে ফেব্রুয়ারিতেও মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করা যায়!

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উৎপত্তিস্থল হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলার গুরুত্ব দিনদিন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে নয়, মেলার বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ আয়োজন, প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ও মান, দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, বইয়ের কাটতি ইত্যাদির গুণবিচারে বাংলা একাডেমী চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা বর্তমানে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বইমেলা। কিন্তু একুশে বইমেলাকে পুঁজি করে কিছু মুনাফালোভী প্রকাশক ও প্রকাশনী সংস্থা তড়িঘড়ি করে সরকারের গুণগ্রাহীতায় নিম্নমানের বই প্রকাশ করছে। বইমেলায় এগুলো খুব একটা বিক্রি হয় না, প্রকাশের উদ্দেশ্যও এগুলো বই মেলায় বিক্রি করা নয়। এগুলো প্রকাশ হয় শুধুমাত্র সরকারি তালিকাভুক্ত হয়ে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রে বিক্রির উদ্দেশ্যে। সরকারি অর্থে মানহীন এসব বই ক্রয় কি একুশের চেতনা সমর্থন করে?

একুশে পদক প্রদান

আশির দশকে সরকারি অফিসসহ সর্বত্র মাতৃভাষার প্রচলনে প্রণীত আইনে রাষ্ট্রের সব কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু আইনটি কার্যতঃ কাগুজে বিধানে পরিণত হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপি-আমলাদের কেউ মানছেন না এ আইন। প্রসঙ্গটি কখনো মাথাচাড়া দিলেই- আইনটি না জানার অভিনয় শুরু করেন। সম্প্রতি একটি সেমিনারে এমন নজির পাওয়া গেছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে আছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও বিদেশি দাতা সংস্থার প্রতিনিধি। অনুষ্ঠান শুরু হলো ইংরেজি স্পীচ দিয়ে। কিন্তু বিদেশি দাতা সংস্থার প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বাংলায় বক্তৃতা দেয়া শুরু করলেন। সবশেষে মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতা দেয়ার সময় বললেন, প্রকল্পের কাগজপত্র, সাইনবোর্ডগুলো ইংরেজিতে করার কোন যৌক্তিকতা আমি দেখি না; ভবিষ্যতে এগুলো অবশ্যই বাংলায় করতে হবে; ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ যে কোন প্রকল্প গৃহিত হওয়ার পূর্বে তা নিয়ে একাধিক সভা ও ফাইল তৈরি হয়, যার মূল নথিতে মন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকে।

শহীদুল ইসলাম খোকন নির্মাণ করেন ‘বাঙলা’

এবারও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা হয়। কোলকাতার নন্দন মিলনায়তনে ২১-২৪ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’ যৌথভাবে আয়োজন করে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইণ্ডিয়া ও নন্দন। বাংলাদেশের নয়জন নির্মাতার ১০টি চলচ্চিত্র স্থান পায় এ উৎসবে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের মাতৃভাষার সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘বাঙলা’ চলচ্চিত্র দু’টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি এ উৎসবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চলচ্চিত্র উৎসবে মাতৃভাষা সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র না রাখার মধ্য দিয়ে আমরা আসলে কি ফোকাস করছি? আয়োজনকারী সংস্থা দু’টি ভারতীয়, কিন্তু উৎসবে স্থান পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর নয়জন নির্মাতাই বাংলাদেশী ও তাঁদের মাতৃভাষা বাংলা। তবে নির্মাতারা কেন ভাষাসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দু’টি উৎসবে অন্তর্ভূক্ত করতে ভূমিকা রাখলেন না? নির্মাতাদের কি মাতৃভাষাসেবী হতে বারণ?

বিশ্বের বহুভাষার শব্দ ধারণকারী সমৃদ্ধ ভাষা বাংলা। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। সমৃদ্ধি ও ব্যবহারকারীর সংখ্যা এ দু’দিক দিয়ে বিশ্বের সেরা ভাষার তালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে আছে এ বাংলাভাষা। মাতৃভাষা বাংলার উন্নয়ন ও সংরক্ষনে বাংলা একাডেমী ও মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট কাজ করলেও শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার, শব্দপ্রয়োগ ও বানানে অদক্ষতা ও উদাসীনতা বিরাজমান। বাংলাভাষার অত্যন্ত সহজ বানানরীতি থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিপর্যায়ে তো বটেই গণমাধ্যমও তা অনুসরণ করছে না। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলো সরকারি বানানরীতির পরিবর্তে নিজস্ব বানানরীতি অনুসরণ করছে। একেক স্থানে একেক রকম বানান দেখে বানানরীতির প্রতি কোন আগ্রহ ও সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে না। এর সাথে যুক্ত রয়েছে বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার ব্যাপারে বুদ্ধিজীবী মহলে অভিন্ন মত সুদৃঢ় হলেও এর প্রতিরোধ প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। মতপার্থক্য যতোই প্রকট হোক না কেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে বাংলা চলচ্চিত্রের ব্যাপক উন্নয়ন ও বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি বাঙালির কাছে তা পৌঁছে দেয়ার কোন বিকল্প নেই। মনে রাখা দরকার, গদ্য-পদ্য, গান, নৃত্য বা টিভি অনুষ্ঠান বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে সহায়ক মাত্র; মূখ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম কেবলই বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক চেতনা সমৃদ্ধ আধুনিক রুচিশীল উচ্চ গুণগতমান সম্পন্ন বাংলা চলচ্চিত্র।

আশির দশক থেকে প্রতি বছর ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাংবাদিকতা, ভাষা ও সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজসেবায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুনী ব্যক্তিদের একুশে পদক প্রদান হয়। এ বছর প্রধানমন্ত্রী ১৭ গুণীজনকে সনদ, স্বর্ণপদক ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। পদকপ্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘পাকিস্তানীদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয় নাই।’ বাঙালি জাতিকে পঙ্গু করার অপচেষ্টা সবসময় ছিল, যা এখনো চলমান। একাত্তরের চৌদ্দ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বাছাই করে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল মেধাশূণ্য করার মধ্য দিয়ে বাঙালিকে পরনির্ভরশীল দাসে পরিণত করার উদ্দেশ্যে। বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ ধ্বংস করতে বিস্তর বহুমাত্রিক আগ্রাসন অব্যাহত। তবু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কোন আশার আলো খুঁজে পাওয়া যায়নি, না চলচ্চিত্র নিয়ে, না শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি বা অন্য কোন বিষয় নিয়ে। বক্তব্য খুবই গতানুগতিক, যেন পরিস্থিতি খুব সহনশীল ও স্বাভাবিক পর্যায়েই আছে।

জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’

স্বীকার না করেই যদি ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমে দীনতার ভয়াবহতা ও বিরূপপ্রভাব থেকে মুক্ত থাকা যেতো তবে কোন কথা ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা ও পরিস্থিতি মোটেও এমন নয়। আগেই বলেছি – বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ ধ্বংস করতে বিস্তর বহুমাত্রিক আগ্রাসন অব্যাহত। অমর একুশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে দিনদিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এ আগ্রাসনে নতুন মাত্রা যোগ করছে। পশ্চিমের দেশগুলোর গবেষকরা হয়তো বিপরীতগামী নাও হতে পারেন। তবে বাঙালির ভাষা সংগ্রাম নিয়ে হলিউড, বলিউড চলচ্চিত্র নির্মাণে তাগিদ সৃষ্টি করবে এবং একপর্যায়ে নিজেদের মতো করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বিশ্বব্যাপী মুক্তি দিবে। হলিউড নির্মিত চলচ্চিত্রে বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক মর্মগাঁথা বিকৃত-মূল্যবোধহীন ও অপমানজনক ভাবে উপস্থাপিত হবে। বলিউড নির্মিত চলচ্চিত্রে সরাসরি এটাকে ভারতের ভাষা আন্দোলন হিসাবে দেখানো হবে। এমন আশংকা অমূলক নয়, বরং যথেষ্ঠ প্রাসঙ্গিক। আর তাই আমাদের ভাবতে হবে – বাংলাদেশ হলিউড ও বলিউড থেকে নির্মিত এমন চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কি গড়ে তুলতে পারবে? বাংলাদেশ কি শক্তি-সামর্থ্যে আমেরিকা বা ভারতের সমতুল্য? না, বাংলাদেশ শক্তি প্রদর্শনমূলক প্রতিরোধের পথে সফল হতে পারবে না। তবে আমাদের আবারো বিজয় অর্জনের বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।

এক.
অমর একুশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতির একদশক অতিক্রম করেছি আমরা। তাই আর বিলম্ব না করে বাঙালির মাতৃভাষা আন্দোলন, বিশ্বের সকল মাতৃভাষার মূল্যবোধ ও এসব ভাষাবাহিত সংস্কৃতিগত চেতনা সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ধারণা সৃষ্টি করতে পারে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে প্রকল্প গ্রহন অত্যন্ত জরুরি। শুধু নির্মাণ করে বসে থাকলে চলবে না। এটাকে বিশ্ববাসীর নাগালের মধ্যে পৌছে দিতে বিশ্বের সকল জাতির সকল দেশের রাষ্ট্রভাষা তথা মাতৃভাষায় পৃথক পৃথক সংস্করণ তৈরি করা এবং প্রত্যেক দেশে সরকারিভাবে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। এসব কাজ এশিয়াটিক সোসাইটি, বেঙ্গল ফাউণ্ডেশন বা এমন কোন সংস্থার হাতে ছেড়ে দিলে হবে না। বরং এর যাবতীয় আয়োজন সরকারি উদ্যোগেই করতে হবে।

দুই.
বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন প্রতিহত করতে বাংলা চলচ্চিত্রকে বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে আধুনিক রুচিশীল উচ্চমানে উন্নীত করতে হবে। বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে ভাস্বর বাংলা চলচ্চিত্র হবে বিশ্বের তাবৎ বাঙালির ঐক্যের ছত্র।

এতোদিনেও এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ দু’টির উদ্যোগ কেন গৃহিত হয়নি- তা নিয়ে সময় ক্ষেপন না করে দরকার এগুলো বাস্তবায়নে মনোনিবেশ ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা। কেননা, এদু’টি কাজ বাস্তবায়ন না করে সরকারি অফিসে-উচ্চশিক্ষায়-অনলাইনে-সাইনবোর্ডে বাংলাভাষার স্বার্থক ব্যবহার, প্রভাতফেরী, বইমেলা আয়োজন বা একুশে পদক প্রদান করে বহুমাত্রিক ও কঠিনতর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবেলা করতে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই বাঙালি পরাজিত হবে। আমরা পরাজিত হতে চায় না। (২৪/০২/২০১৭)

প্রাচ্য পলাশ : চলচ্চিত্র নির্মাতা
ই-মেইল: prakritatv@gmail.com
ফেসবুক: www.facebook.com/theprachyopalash
ইউটিউব: PRAKRITA TV