ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, আইন-শৃংখলা

 

অভিজিৎ রায়ের নির্মম ও পৈশাচিক হত্যা কাণ্ডে আমি মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ । শুধু আমি নই আমার মতো অনেকেই আজ শোকাহত। তবে সবাই অবশ্যই নয়। হওয়ার কথাও না। কয়জনই বা তাঁকে চেনে বা তাঁর লেখা পড়েছে। দেশে তাঁর মতো প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার মানুষই (সব বয়সী) বা কয়জন আছে। সবাই তো আজ প্রতিক্রিয়াশীলের জালেবন্দি। তথাকথিত ধর্মীয় গোঁড়ামিতে মোহাচ্ছন্ন (?)। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর খবর সমাজকে কিছুটা হোলেও নাড়া দিয়েছে, মিডিয়ার কল্যাণে।

অভিজিৎ রায় ছিলেন একজন যুক্তিবাদী মানুষ। তিনি তাঁর যুক্তিবাদী মন নিয়ে যা বিশ্বাস করতেন তাই কলমের মাধ্যমে প্রাকাশ করতেন। চিন্তা, যুক্তি আর কলম ছিল তাঁর বেচে থাকার এবং মানুষের মন থেকে সবধরনের কুসংস্কার দূর করার একমাত্র হাতিয়ার।

অভিজিৎ রায়ের নির্মম হত্যা শুধু মাত্র ব্যক্তি বিশেষের হত্যা নয়। তাঁকে হত্যা করা মানে এদেশের তো বটেই গোটা বিশ্বের প্রগতিশীল চিন্তা চেতনাকে হত্যা করা। উদার মানবতবাদকে হত্যা করা । একজন মুক্তিযুদ্ধার অপমৃত্যু (হত্যা)। এই বাংলাদেশে যারা মন-মননে প্রগতিশীল ও মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাস করেন। যারা মন খুলে তাদের মনের অনুভুতি, বিশ্বাসের কথা যুক্তি দিয়ে কলমে বা কথায় প্রকাশ করতে যান তাদেরকে হত্যা করা । তবে যেসব নর পিশাচ অভিজিৎ রায়ের মত মুক্ত ও প্রগতিশীল শারীরিক ভাবে হত্যা করেছে, তাদের মনে রাখা দরকার এদেশে অভিজিৎ রায়ের মতো মানুষকে হত্যা করে শেষ করা যাবে না। শেষ করা যায় না । আমাদের এই বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কোটি কোটি মুক্তিযুদ্ধার মতো কোটি কোটি অভিজিৎ বা রাজিব জন্ম নেবে, বেচে থাকবে এবং তাদের বিশ্বাসের কথা যুক্তির কথা বলতেই থাকবে এবং অবশ্যই কলমও থেমে থাকবে না। বাংলাদেশকে “বাংলাদেশ” হিসেবে টিকে থাকতে হোলে আমাদের অভিজিৎ রায়ের মতো মানুষের কোন বিকল্প নেই।

slide