ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি


বর্তমানে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুব বেশী জন দরদী হয়ে উঠছেন। তিনি দরদ বিতরনের লক্ষে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি দেশের জনগনের জন্য তিনি চীন আর ভারত সফর করে এসেছেন।


বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনকে টার্গেট করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অনায়াসে যেতে পারেন শুধু সংসদে যেতে পারেন না। ভোটাররা তাকে এবং তার দলের অন্যান্য সাংসদদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল সংসদে গিয়ে ভূমিকা রাখবার জন্য। এই নির্বাচিত সংসদবিমুখ সাংসদরা শুধুমাত্র তাদের সংসদপদ বাতিল হবার আশংকা দেখা দিলেই ভেড়ার পালের মত নেত্রীর পিছুপিছু সংসদে গিয়ে নির্লজ্জভাবে হাজিরা দিতে পারেন। নির্বাচিত সাংসদ হিসাবে দায়িত্ব পালন না করলেও সাংসদ হিসাবে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করার ক্ষেত্রে দেশনেত্রী আর তার পোষা ভেড়ার পাল সম্পূর্ণ আপোষহীন।


গত দুই যুগে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যে দলই বিরোধী দলে থেকেছে তারা সাংসদ হিসাবে সকল সুবিধা ভোগ করেছে কিন্তু সাংসদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করে নাই। নৈতিকভাবে তারা সাংসদ হিসাবে যে সকল সুযোগ সুবিধা নির্লজ্জভাবে ভোগ করেছে তা লজ্জাকর এবং অবৈধ। স্বার্থান্ধ এই সকল রাজনীতিকদের কাছে দেশ, গণতন্ত্র কিছুই নিরাপদ নয়।


গণতন্ত্রের আপোষহীন দেশনেত্রী (!), আপনি এবং আপনার দলের সাংসদগন সাংসদ হিসাবে যে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন এবং বেতন গ্রহন করছেন তা দয়া করে হালাল করে নিন। দায়িত্ব পালন না করেই হারাম উপার্জনের রেওয়াজটা পরিবর্তন করুন। ভারত, চীন বা বরিশাল থেকে সংসদ ভবন অনেক কাছে। প্রথমে দায়িত্ব পালনের জন্য সংসদে যান। গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেত্রী এবং সাংসদ হিসাবে নিজেকে আর আপনার পোষা ভেড়া/ছাগলগুলিকে গ্রহনযোগ্য করে তুলুন। তারপরেই গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের দাবী আপনাদের মুখে শোভা পাবে।

সারমর্ম:
=====
আমাদের দুইটার বেশী সার্কাস পার্টি নাই। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমরা সার্কাস দেখার জন্য পার্টি পরিবর্তন করি। কিন্তু একই সার্কাস দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাই। তখন আগের সার্কাস পার্টি নতুন নতুন খেলা দেখানোর প্রতিজ্ঞা করে। আমরা আশাবাদী হয়ে সার্কাস পার্টি বদল করি। অথচ মঞ্চে উঠেই সার্কাস পার্টি সেই পুরাতন খেলা নতুন করে শুরু করে। দুই সার্কাস পার্টির ভয়াবহ চক্রে আটকে আছি আমরা সবাই।

———————————————————————————–
এই পোস্টটির সাথে সহমত পোষন করলে পোস্টটি শেয়ার করুন

লেখকের ফেসবুক আইডি Abu Sayeed Ahamed


৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মাহি জামান বলেছেনঃ

    সংসদে যে ভাষায় আলাপ আলোচনা আর নেত্রীদের কোলে উঠার গল্প-কাহিনীর বর্ণনা শুরু হয় তার চেয়ে আমার মনে হয় সংসদে না যাওয়াই ভাল। আমাদের সংসদ যে পদ্ধতিতে চলে তাতে আসলেই কি সাংসদদের কোন ভূমিকা আছে? প্রধানমন্ত্রীর কথার বাইরে সরকারী দলের সাংসদরা কি কোন কথা বলতে পারেন? বিরোধী দলের সাংসদরা কোন কথা বললে সরকার কি সে কথায় পাত্তা দেয়? সুতরাং অহেতুক অশ্লীল চিল্লা ফাল্লা করে পরিবেশ নষ্ট করার চেয়ে সংসদের পবিত্রতা রক্ষা করাই শ্রেয়। আপনার কি মনে হয় বিরোধী দলের কথা শোনার মত মানসিকতা বা ধৈর্য সরকারী দলের আছে? যেখানে পুরো জাতির মতামতকে উপেক্ষা করে, সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা স্থায়ী করার লক্ষ্যে সরকার তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করল সেখানে ব্রুট মেজরিটির অহংকারে অন্ধ আওয়ামী লীগ সংসদে বিরোধী দলের কথা মুল্যায়ন করবে এমন আশা করাটা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।

  2. সুমনা হোসেন বলেছেনঃ

    আপনার বক্তব্য ভালো লেগেছে। কিন্তু বিএনপি আর আওয়ামী লীগে কি সত্যিই কোন পার্থক্য নাই???

    জাতীয় সংসদ অধিবেশন এখন সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। বিরোধী দল যদি জাতীয় সংসদে গিয়ে আসন গ্রহন না করে দাড়িয়ে থাকে তবে সেটা সারা দেশবাসী দেখবে। প্রতিবাদ যথাযথ হলে দেশের মানুষ সমর্থন করবে।

  3. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    আবু সাঈদ ভাই, পোস্টটি আমি আমার ফেসবুকে যতগুলো গ্রুপের সঙ্গে সম্ভব শেয়ার করেছি কেবল মাত্র আপনি বিরোধী নেত্রীর প্রতি যে আবেদন রেখেছেন সেটি যথার্থ বলে। এবঙ এইমাত্র এখানে সুমনা হোসেন যে মন্তব্য করেছে সেই কথাটি আমি বলবো ভেবেই সাইন করেছিলাম, আমার কিন্তু একই অভিমত। সার্কাস এর দুইটা পার্টি হলেও তফাত অনেক। সত্য স্বীকারে জনমত যাচাই সঠিক হবার কারণেই একতরফা ফাঁকা / ধোঁকার মতো লাগেনা। ধন্যবাদ।

  4. কামাল হসসাইন মিয়াহ বলেছেনঃ

    [ইংরেজি ও রোমান হরফে লেখা মন্তব্য প্রকাশ করা হয় না। বাংলায় মন্তব্য করুন। নাম বাংলায় লিখুন : ব্লগ টিম]

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...