ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

আর মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে- এবারের নির্বাচন অনেক দিক বিবেচনায় ব্যতিক্রম এবং ঘটনাবহুল। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হয়ে লড়াই করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেট পার্থী হিলারি ক্লিনটন।

screen-shot-2015-10-07-at-11-11-39-am

ট্রাম্প এর পুরো নাম ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। জন্ম ১৯৪৬ সালের  জুন মাসের ১৪ তারিখ নিউ ইয়র্কের কুইন্স এলাকায়। তার বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। ১৯৬৮ সালে পেনিসেলভিনিয়া ইউনিভার্সিটির অধীন হোয়ারটন স্কুল থেকে ট্রাম্প গ্র্যাজুয়েশন সমাপ্ত করেন এবং ১৯৭১ সালে বাবার প্রতিষ্ঠান রিয়েল এস্টেট ও কন্সট্রাকশন কোম্পানীর দায়িত্ব নেন যা পরবর্তিতে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তিতে তিনি চলচ্চিত্র ও টিভি অনুষ্ঠান প্রযোজক এবং রিয়েলিটি শো এর উপস্থাপক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি রিপাবলিক পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০০০ সালে পার্টি  প্রেসিডেন্ট হিসেবে নমিনেশন নিতে চাইলেও পরবর্তিতে নিজেকে গুটিয়ে নেন। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বস এর জরীপে তিনি বিশ্বের ৩২৪ তম ধনী ব্যক্তি এবং আমেরিকায় ১৫৬ তম। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ি তাঁর গচ্ছিত এবং বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। ব্যক্তিজীবনে ট্রাম্পের স্ত্রীর সংখ্যা ৩ এবং সন্তানের সংখ্যা ৫। প্রথম দুই স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর ২০০৫ সালে বিয়ে করা মেলানিয়ার সাথেই সংসার করছেন এখনও। ২০১৫ সালে নিজেকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন এবং অদ্যাবধি লড়াই করে যাচ্ছেন।

ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি দিয়ানে রডহাম এর জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর আমেরিকার সিকাগো শহরের ইলিন্ইুস এ। ১৯৬৯ সালে তিনি উইলেসলি কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। কনগ্রেশনাল লিগ্যাল কাউন্সেলর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও এক সময় তিনি আরাকানসাস চলে আসেন এবং ১৯৭৭ সালে বিল ক্লিনটন এর সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন। একই বছর তিনি আরাকানসাস এডভোকেটস ফর চিলড্রেন এন্ড ফ্যামিলিজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি লিগ্যাল সার্ভিস করপোরেশনের ১ম নারী  প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালে তার স্বামী বিল ক্লিনটন আরাকানসাসের গভর্ণর হলে তিনি ফার্স্টলেডি হিসেবে বিবেচিত হন। ১৯৬৮ সাল থেকেই তিনি ডেমোক্রেট পার্টির সাথে যুক্ত থাকেন যদিও এর আগে তিনি ছিলেন একজন রিপাবলিকান। ১৯৯৩ সালে স্বামী বিল ক্লিনটন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হলে নিয়ম অনুযায়ী হিলারী ফার্স্ট লেডি। ২০০০ সালে তিনি  প্রথম নারী সিনেটর হিসেবে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে তিনি পার্টি থেকে  প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার যুদ্ধে নামেন এবং বারাক ওবামার কাছে হেরে যান।  ওবামার জয়লাভের পর তিনি সেক্রেটারি অব স্টেট এর পদমর্যাদা লাভ করেন (২০০৯-২০১৩) । পরবর্তিতে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পার্টি থেকে মনোনয়ন লাভ করেন। তাঁর একমাত্র কন্যা সেলসি।

শুরুতেই বলেছি আমেরিকার আসন্ন নির্বাচনটা বৈশিষ্টের দিক দিয়ে ব্যতিক্রম। এই প্রথম দুই প্রার্থী স্বীয় দলের রাজনৈতিক আদর্শের বদলে ব্যক্তিগত আক্রমনে  নিজেদের বেশী ব্যস্ত রেখেছেন যা আগে দেখা যায়নি। ট্রাম্প হিলারীর কাছে শুরুতেই তার বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকির দায়ে প্রশ্নবিদ্ধ হন। অন্যদিকে হিলারী অভিযুক্ত হয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ইমেল আইডি অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ মেইল ডিলেট করে দেয়ার দায়ে। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে অনেক দিন পর্যন্ত এই দুই ইস্যু নিয়ে দু’জনে সরব ছিলেন। পরবর্তিতে ট্রাম্প এর নারী কেলেঙ্কারি তথা নারীদের প্রতি অশোভন আচরণ ইস্যুটি সামনে চলে আসে এবং বলা যায় ধরাশায়ী হন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়। এর বিপরীতে ট্রাম্প হিলারীর স্বামী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন এর সাথে মণিকা লিওনেস্কির কেলেঙ্কারির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও সেটা ধোপে টেকেনি।

শুরু থেকে ট্রাম্প এর মুসলিম বিদ্বেষ, নির্বাচিত হলে আমেরিকায় অভিবাসিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো দৃষ্টিভঙ্গী তাকে ব্যাকফুটে নিয়ে যায়। একই সাথে তিনি সিরিয়া প্রশ্নে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওবামার চাইতে পুতিনের অনুসৃত নীতিকে সমর্থন করলে ক্ষেপে যান ওবামা। অতীতের সকল দৃষ্টান্তকে অতিক্রম করে আমেরিকার কোনো ফার্স্টলেডি তাঁদের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে মাঠে নামেন।  শুধু তাই  নয়, বিশ্ব এই প্রথম কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে দেখেছে তার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় নিজেকে নিয়োজিত করতে। লক্ষণীয় যে- এই প্রচারণাটা ব্যক্তি আক্রমনের চুড়ান্ত রেকর্ড অতিক্রম করেছে। হিলারি, মিশেল এবং ওবামার বক্তব্যে একটাই সুর- ‘ট্রাম্প ইজ আনফিট এজ এন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট’। যার কোনো যোগ্যতাই নেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবার। সম্প্রতি ট্রাম্প আমেরিকান ইহুদীদের ভোট পেতে ইসরাইলের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কোনো রাখঢাখ না রেখেই ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। ট্রাম্প বলছেন- হিলারি ক্ষমতায় আসলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যাবে, আর তারই অংশ হিসেবে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্যে রাশিয়া পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রায় সব রকমের জরীপে এবং সর্বশেষ কয়েকটি রাজ্যের আগাম নির্বাচনী ভোটার জনমত জরীপে এগিয়ে আছেন হিলারি। পরাজয় আশঙ্কা করে ট্রাম্প আগামি নির্বাচনে কারচুপি হবে বলে প্রচারনা চালাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ৮ নভেম্বরকে ঘিরে শুধু আমেরিকা নয় পুরো বিশ্ব আজ টানটান উত্তেজনার মধ্যে আছে। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন কে হবেন আমেরিকার আগামি  প্রেসিডেন্ট? যদিও আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে হিলারিই প্রথম নারী পেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন। আবার অনেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেই এগিয়ে  রাখছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যেই হোকনা কেন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশের জন্যে কে ভালো হবেন।
এই আলোচনায় যাওয়ার আগে একটু পেছনে তাকাতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমেরিকার  প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিক্সন। তার পার্টি ছিলো ট্রাম্প এর রিপাবলিক। নিক্সনের সমর উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। ফলে আমেরিকা প্রশাসন চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক। সেই থেকে ডেমোক্রেটদের মিত্র বলে ভেবে এসেছে বাংলাদেশ তথা আওয়ামীলীগ। কিন্তু ১৯৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর হাসিনা সরকারের সাথে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন প্রশাসনের সাথে বঙ্গোপাসাগরের তেল গ্যাস ক্ষেত্র ইজারাদান প্রশ্নে যে টানাপাড়েন সৃষ্টি হয়েছিলো তার রেশ এখনও কাটেনি। নাইন ইলেভেন এর সময় যখন হিলারি চেয়েছিলেন তার একসময়কার বন্ধু ড. ইউনূস রাজনৈতিক দল গঠন করুক এবং বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসুক, সে উদ্যোগ যদিও সফল হয়নি, তথাপি আওয়ামীলীগ ভুলে যায়নি।   পাশাপাশি সমমাময়িক দেশে আইএস এর ধুয়ো তুলে জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দেয়া এবং তা নিবারণে আমেরিকার সহযোগিতার নামে এদেশে প্রবেশের যে অযুহাত সৃষ্টি হয়েছিলো- সে যাত্রায়ও শেখ হাসিনা প্রশাসন সফল হয়েছেন। কিন্তু এর পেছনে বৈরীতার তিক্ত দাগ মুছে যায়নি। আমেরিকার ডেমোক্রেট প্রশাসন বরাবরই চায়- যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশ কিংবা তার আশে পাশে একটা সামরিক ঘাঁটি গড়তে,  যেখানে বসে সে চীনসহ অন্যান্য ক্ষূদ্র এবং বৈরী রাষ্ট্রগুলোকে বন্দুকের নলের মধ্যে রাখবে। চীন এবং ভারত উভয়েই বৈরী ভাবাপন্ন হলেও এই একটি প্রশ্নে কিন্তু একাট্টা, সুতরাং দুই দেশের হাত বাংলাদেশের জন্য প্রসারিত। শোনা যায় বিগত নির্বাচনের আগে হিলারি প্রশাসনের সাথে বিএনপির এমনি একটি গোপন সমঝোতা হয়েছিলো যার ফলে আমেরিকা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে এবং খালেদা জিয়া আমেরিকাকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি করতে দিবে। কিন্তু  শেখ হাসিনার কুটনৈতিক সাফল্যে খালেদা জিয়ার সেই আশা পূর্ণ হয়নি বলে শোনা যায়।
পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে আওয়ামীলীগের পুরনো বন্ধু ডেমোক্রেট এখন শত্রুতে পরিণতঃ অন্যদিকে বাংলাদেশের চিরদিনের মিত্র রাশিয়া এখন রিপাবলিকানদের সমর্থন করছে। যদিও বলা হয়ে থাকে, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলের হাতেই আসুকনা কেন, পররাষ্ট্রনীতিতে তেমন একটা পরিবর্তন হয়না। যার উজ্জ্বল নিদর্শন ভারত। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ তৎকালিন ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস তথা ইন্দিরা গান্ধীর সহায়তা পেয়েছিলো যে কারণে এই দলের সাথে আওয়ামীলীগের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব। সে কারণে ভারতের বিগত নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমাদের দেশের বর্তমান বিরোধী শিবিরে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিলো যে- কংগ্রেসের ধর্ম নিরপেক্ষ নীতির বিপরীতে বিজেপির অবস্থান কতটা কট্টর। বিজেপি আর যাই করুক, পাকিস্তান কিংবা পাকিস্তানের অনুসারিদের উপর বরাবরই খড়গ হস্ত। ভারতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে অটল।  তাঁরা বাংলাদেশে  ইসলামি মৌলবাদের বিপক্ষে এবং পাকিস্তানের দোসরদের সাথে মিত্রতা করবেনা এবং এদেশে ভারতের প্রতি হুমকী সৃষ্টিকারি কোনো দল বা গোষ্ঠী ঘাঁটি গাড়ুক সেটা চাইবেনা।

সম্প্রতি উইকিলিক্স হিলারির যে ইমেলগুলো ফাঁস করেছে তাতে সামরিক শক্তিতে চীনকে ঘিরে ফেলার একটা পরিকল্পনার কথা জানা যায়।  একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ভূখন্ড কিংবা বঙ্গোপসাগর তার প্রয়োজন। হিলারি ক্ষমতায় আসলে নিশ্চয়ই সে পুরনো পরিকল্পনা ধরেই এগুবেন। এ কারণে চীনের প্রেসিডেন্টের তড়িঘড়ি বাংলাদেশ এবং ভারত সফর গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

চীন এবং ভারতের মধ্যে যতোই শত্রুতা থাকুকনা কেন বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী বর্তমানে এক এবং অভিন্ন। উভয় পক্ষ চায়না আমেরিকা  বঙ্গোপসাগরের  বাংলাদেশ অংশে সামরিক ঘাঁটি করুক।  যার ফলে বাংলাদেশকে  পক্ষে রাখতে চীনের এই বিপুল বিনিয়োগে  মোদি প্রশাসনের উষ্মা নেই। অন্যদিকে ডেমোক্রেট শিবির আমেরিকান বাংলাদেশী ভোটারদের হিলারির পক্ষে টানার জন্যে মরিয়া। বিশ্বব্যাংকের  প্রেসিডেন্ট এর বাংলাদেশ সফর এবং বিপুল অংকের ঋণ প্রদানের পেছনে তাৎপর্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। যদিও হিলারি তলে তলে ড. ইউনূসের মাধ্যমে বিএনপি জামাত এর কাছ থেকে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করেছেন বলে শোনা যায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রশ্নে পুরনো বৈরী দল রিপাবলিকান, তাদের প্রার্থীর নেই ক্লিন ইমেজ।আবার তাকে একরকম ঘোষণা দিয়ে সমর্থন করছে চির বন্ধুপ্রতিম দেশ রাশিয়া। এদিকে একই সাথে পুরনো বন্ধু আবার নব্য বৈরী ডেমোক্রেট। কাকে সমর্থন দিবে বর্তমান আমেরিকান বাংলাদেশীরা? কিংবা এই দুই দলের যে কোনো প্রতিনিধি বিশ্ব মোড়ল আমেরিকান সরকারে এলে কি নীতি হবে বাংলাদেশের জন্যে? এই অঙ্ক কষে বিশ্লেষকরা গলদঘর্ম। বলা যায় বাংলাদেশের কুটনীতিতে এখন একদিকে যেমন পোয়াবারো আবার অন্যদিকে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থাও বটে।  পরিবর্তিত বিশ্ব বিভাজন মোকাবেলায় শেখ হাসিনার কুটনৈতিক প্রশাসনকে জোর প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।
সাজ্জাদ রাহমান, গণমাধ্যম কর্মি,  লেখক ও গবেষক (জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক রাজনীতি )