ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-
শত সহস্র সালাম এবং শ্রদ্ধা আপনার জন্যে। আমার মতো শত কোটি মানুষের শ্রদ্ধা আপনি অর্জন করেছেন আপনার আপন মহিমায় এবং গৌরবদীপ্ত কর্মে। আপনার পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যতোদিন বেঁচেছিলেন; তন্মধ্যে জন্ম থেকে কৈশোরের আগের সময়টুকু  ছাড়া জীবনের পুরোটা সময় দিয়ে গেছেন বাংলার মেহনতি গরিব মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। যিনি পাকিস্তান আমলের ১২টি বছর শুধু জেলের ঘানী টেনেছেন, ১০ বছর ছিলেন পাক সরকারের কড়া নজরদারিতে। তথাপি অসীম আত্মত্যাগ এবং সুদীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে প্রস্তুত করেছিলেন স্বাধীকার যুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাস ধরে এদেশের মানুষ অসম সাহসে পাক হানাদারদের সাথে লড়াই করে, অকাতরে রক্ত ঢেলে স্বাধীনতার সূর্য্যকে ছিনিয়ে এনেছিলো। প্রমাণ করেছিলো- তারা বঙ্গবন্ধুর দেয়া দীক্ষা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে জানে।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে যখন তিনি মাত্র গড়ে তুলতে সচেষ্ট, ঠিক তখনই একাত্তরের পরাজিত দেশী-বিদেশী চক্রের ষড়যন্ত্রে আপনার মা, ভাই, ভাবি এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়সহ তাঁকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছিলো। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যবলে আপনি এবং আপনার বোন শেখ রেহানা বেঁচে রইলেন। যদি তা না হতো, তাহলে হয়তো আমরা পরোক্ষভাবে এখনো সেই পরাজিত শক্তিরই পদতলে পিষ্ট হতাম।

আপনাকে বিধাতা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মূলতঃ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্যে, গরিব-দুঃখি- অসহায় বাঙালির মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। নানা বাধা এবং প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করে আপনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনি পারছেন, কারণ আপনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বর্ণনায় ‘শেখের বেটি।’ আপনার দেহে বঙ্গবন্ধুর রক্ত। যে রক্তের প্রতিটি ফোটা বলতো ‘আমি বাঙালি, আমি বাংলাকে ভালোবাসি।’

আমরা বিশ্বাস করিনা, আপনার বাইরে আর কেউ এতো অল্প সময়ে এতো ষড়যন্ত্র, প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করে, গুলি, বোমা আর আততায়ীর ঝুঁকি মোকাবেলা করে দেশকে এতোখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। আপনার হাত ধরেই আমরা স্বপ্ন দেখি ২০৪১ এর। যেদিন বাংলাদেশ পরিণতঃ হবে উন্নত রাষ্ট্রে। বাংলাদেশ হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা।’ ততদিন সহ আরও অনেক বছর আপনি সক্ষমভাবে বেঁচে থাকুন, বিধাতার কাছে এটাই প্রার্থনা।

আমরা দেখেছি যুগে যুগে মিরজাফরদের জন্ম হতে। যারা স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে হেন অন্যায় নেই যেটা করতে পারেনা। দেশ আর দেশের মানুষ গোল্লায় যাক, ওরা ভালো থাকুক এটাই তাদের অন্যতম আদর্শ। যে কারণে ছলে বলে কৌশলে, বাংলার মসনদে ইতিপূর্বে তারা এসেছে এবং এখনও আসার স্বপ্নে দ্যাখে। তাদের পেছনে আছে সেই সময়কার ইংরেজ ক্লাইভ এর মতো বর্হিবিশ্বের সেইসব শক্তি, যারা একাত্তরে পরাজিত শক্তিরই মদদদাতা।

সবচাইতে দূভার্গ্যজনক বিষয় এইযে- বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ওরা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে বাংলার রন্ধ্রে রন্ধ্রে একটা সুবিধাবাদী চক্রের জন্ম দিয়ে গেছে। যারা কয়েকটি প্রজন্মকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে, মিথ্যা ইতিহাস শিখিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত করেছে। তৈরী হয়েছে বিশাল সংখ্যার সমর্থক, আমি বলবো তারা প্রকৃত অর্থে ‘ইতিহাস মূর্খ জনগোষ্ঠী।’ এই মূর্খগোষ্ঠীকে যতোদিননা সুশিক্ষিত করা যাচ্ছে, যতোদিননা তাদের মনে এবং বিবেকে মু্ক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার বীজ বপন না হচ্ছে, ততকাল প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তাদের মাথায় লবন রেখে বরই খেয়েই যাবে। এই দেশ থাকবে পরাধীন, নতজানু, তলাবিহিনি ঝুড়ি। সুতরাং সমগ্র দেশের মোটা দাগের জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চের সামনে আসার আগ পর্যন্ত আপনাকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। সেই সংগ্রাম কীভাবে ফলপ্রসু হবে, ক্ষমতায় থেকে, কীভাবে থেকে, নাকি বাইরে থেকে; সেই কৌশল আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এটাও বলে রাখি- আপনার জীবদ্দশায় আপনার বাইরে জাগ্রত জনতা আপাততঃ আর কাউকে কল্পনা করতে পারছেনা। কিন্তু আপনার অবর্তমানে দল এবং দেশের হাল কে বা কারা ধরার যোগ্যতা রাখে সেই ব্যক্তিদের আপনি চেনেন বলেই বিশ্বাস করি, আওয়ামীলীগের সাম্প্রতিক কাউন্সিলে যাঁদের সামনে নিয়ে এসেছেন, সেখানেই রয়েছে আপনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, এবং এই পরিসরে বলবো- আপনি ভুল করেননি। সেখানে এমন একজন ব্যক্তি আছেন, যিনি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ্য শুধু নয়, দেশ ও দলের জন্যে আপনার হার্টের দ্বিতীয় স্পন্দন।

২০১৩ সালের শেষ লগ্নে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র অগ্নী সন্ত্রাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কীভাবে বাংলার মসনদে বসতে চেয়েছিলো, বাংলার ‘ইতিহাস মূর্খরা’ ভুলে গেলেও আমরা ভুলিনি। আমরা ভুলে যাইনি আক্ষরিক অর্থেই সেটা ছিলো দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে জয়লাভ করে কিভাবে বাংলার মসনদকে রাজাকার আলবদরদের হাত থেকে আপনি রক্ষা করেছিলেন, আমরা ভুলে যাইনি। ওই নির্বাচনকে ঘিরে যে যতো প্রশ্নই তুলুকনা কেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রদীপ্ত বাংলার মানুষকে রক্ষায় সে সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক ছিলো, এবং সেখানেই ছিলো আপনার গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শীতার পরিচয়। সেদিন আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করতে না পারলে যুদ্ধাপরাধীরা হয়তো জেল থেকে বেরিয়ে এতোদিনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে, পাকিস্তানের পতাকা ওড়াতো। আপনি তাদের বিচার কার্যকর করেছেন, দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন, বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছেন।

২০১৯ সালে আরেকটি নির্বাচন আসন্ন। সেই নির্বাচনকে ঘিরে আপনার বর্তমান অবস্থান এবং পরিকল্পনাটাও আমাদের কাছে কম-বেশী পরিস্কার।ওই নির্বাচনকে ঘিরে আপনার প্রতিপক্ষ দুটি পথ সামনে নিয়ে এগুচ্ছে। একটি তাদের ভাষায় ও মতো করে সমঝোতা, আর দ্বিতীয়টি নির্বাচনে না গিয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাস চালিয়ে নির্বাচনকে ভন্ডুল করার চেষ্টা। তাদের দোসর শ্রেণী যারা এতোকাল ঘাপটি মেরে ছিলো, তারা আবারও সংঘঠিত হচ্ছে। সিমান্তের ওপর থেকে অস্ত্র- গোলাবারুদ মজুত করছে। এদের আস্তানা এখুনি ধ্বংশ করে না দিতে পারলে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আরেকবার মরনপণ সন্ত্রাসে লিপ্ত হতে পারে। কাজেই এ বিষয়েও আপনাকে সজাগ ও সতর্ক হতে হবে।সন্ত্রাসের ভয়ে তাদের সাথে সমঝোতার পথ বেছে নেয়াটা হবে বোকামি। কারণ ওদের রাজনৈতিক মেরুদন্ড ইতোমধ্যেই ভেঙ্গে গিয়েছে, সুতরাং তাকে জোড়া লাগানোর সুযোগ না দেয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে- সন্ত্রাস করে তারা যেমন ২০১৩ সালে পারেনি, এবারও পারবেনা। হয়তো আবারও কিছু রক্তক্ষয় হবে, স্থায়ীত্বটাও বেশী হতে পারে – কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের সন্ত্রাসকে প্রত্যাক্ষাণ করবে। কারণ জনগন ভালো আছে। আপনি জানেন- বাঙালি জাতি মুলতঃই শান্তিকামি, তাদের পেটে ভাত, পরণে কাপড় আর মাথার উপর আশ্রয় থাকলে ওরা শান্তিতে ঘুমাতে চায়,  শুধু শুধু ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত হতে চায়না। শুধুমাত্র দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেলে ওদের চেয়ে ভয়ঙ্কর পৃৃথিবীতে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবেনা।তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ১৯৭১ এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। যখন পৃখিবীর সবচেয়ে সুশিক্ষিত এবং আধুনিক অস্ত্রধারী সেনাবাহিনী ওদের হাতে বেদম মার খেয়ে পালাতে হয়েছে।

সাথে আমরা এও জানি- নির্বাচনের ফলাফল যাই হোকনা কেন, কে ক্ষমতায় যাবে, কে যেতে পারবেনা, সেক্ষেত্রে বিশ্বরাজনীতির একটা যোগসূত্র থেকেই যাবে। শেখের বেটি বুঝে শুনে কাজ করবেন বলেই বিশ্বাস করি। প্রত্যাশা করি আগামি আরও অন্তত পাঁচটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে জয়লাভ করতে হবে। তা না হলে ২০৪১ সালের সোনার বাংলা আমরা দেখতে পাবোনা। চোরেরা তার আগেই সব সোনা চুরি করে বিদেশে পাচার করে দিবে। জেনে রাখবেন, শুধু দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করলেই হবেনা, আমাদের একটা বৃহত সংখ্যক ‘ইতিহাস মূর্খ’ জনগোষ্ঠীকে‘ অক্ষর’ জ্ঞান দান খুবই জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা সেই বাংলাদেশের। যেদেশে সরকারি এবং বিরোধী উভয় দলে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের ধারক এবং বাহক রাজনৈতিক দল। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা সংসদের একটি চেয়ারেও কোনো প্রতিক্রীয়াশীল চক্রের একজন কুলাঙ্গার গিয়ে বসুক, এটা আমরা চাইনা। আমরা চাই ২০১৯ সালের নির্বাচনের পর যে সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসবে- সেটি হবে ‘ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রদীপ্ত বিপ্লবী সরকার।’ যেটা আমরা ২০১৫ সালেই চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা আমরা পাইনি। পাইনি বলেই এখনো আমাদেরকে গভীর রাতে খেঁকশিয়ালের ‘হুক্কা-হুয়া’ ধ্বণী শুনতে হয়।

একাত্তরের মতোই ২০১৩-১৪ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে ছিলো। আমরা কৃতজ্ঞ। বিপদে হাত বাড়িয়ে দেয়া বন্ধুর জন্যে কৃতজ্ঞতাবোধের অংশ হিসেবে আমাদের যা করার দরকার, আমার মনে হয় আমরা তার চেয়ে বেশীই করেছি।

ক’দিন বাদেই আপনি ভারত সফরে যাচ্ছেন। শুনতে পাচ্ছি সেখানে আমাদের কাঙ্খিত তিস্তার পানিতো পাবোইনা, উপরন্তু একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরী হচ্ছে, যেটি স্বাক্ষর করতে হবে আপনাকে। আপনি মোদীজিকে পরিস্কার বলে দিবেন- বিভিন্ন বৈরী সময়ে ভারতের সহযোগিতার কথা বাংলাদেশ কোনদিন ভুলে যায়নি, যাবেওনা। তাই বলে উনারা যাই চান, তাই দিতে বাংলাদেশের জনগন প্রস্তুত নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ভারত সহযোগিতা না করলে সেটা হয়তো প্রলম্বিত হতো, সেটা ঠিক, কিন্তু স্বাধীনতা সূর্য্য ঠিকই আমরা ছিনিয়ে আনতাম, একথাও সত্য।

ভারতকে ভুলে গেলে চলবেনা- পাকিস্তানপন্থীরা যখনি এদেশে ক্ষমতায় এসেছে, তখন জঙ্গিবাদী এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও জামাই আদরে প্রশিক্ষণের জায়গা ছিলো এদেশের মাটি। স্মরণ করিয়ে দিবেন ‘কারা কাদের জন্যে জাহাজ ভর্তি করে অস্ত্র এনেছিলো এবং যার মধ্যে মাত্র ১০ ট্রাক অস্ত্র অসাবধানতায় লোকচক্ষূর সামনে চলে এসেছিলো।’ এদেশ ছিলো ভারতীয় বিচ্ছিন্যতাবাদী এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর নিরাপদ আস্তানা। আপনার সরকার তাদের সমুলে উৎখাত করে কার্যত অখন্ড ভারতের অস্তিত্বকে অক্ষূণ্য রেখেছে। সুতরাং অখন্ড ভারত চাইলে বাংলাদেশের ক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জঙ্গী উথ্থান রোধে অন্যান্য দেশের চাইতে বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের সাফল্য সর্বজনবিদিত।

আমরা নামমাত্র শুল্কে ভারতকে জলে এবং স্থলে ট্রানজিট দিয়েছি, প্রতি বছরে ভারতের হাজার কোটি টাকা পরিবহন খরচ বাঁচিয়ে দিচ্ছি, যা তাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি, সিমান্তে হত্যা সহ্য করছি, তিস্তা সহ অসংখ্য নদীতে বাঁধ দিয়ে দৃশ্যতঃ ভারত আমাদের দেশের অনেক এলাকাকে মরুভূমি বানিয়ে রেখেছে।

আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আমেরিকা, চীন, রাশিয়া যার কাছ থেকেই সমরাস্ত্র কিনিনা কেন, ওটা আমাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার। আমরা সাবমেরিন কিনেছি দেশের প্রতিরক্ষায় এবং আমাদের বিশাল সমূদ্রসীমার পাহারা দেয়ার প্রয়োজনে। তাতে ভারতের গোস্বা হওয়ার কিছু নাই, কারণ আমরা তাদের শত্রু চীনকে আমাদের বাড়িতে অথবা দোরগোড়ায় ঘাঁটি করতে দাওয়াত করিনি, কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্যে যুদ্ধাস্ত্র কিনিনি। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং বহিঃশত্রু আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষার জন্যে সাধ্যমতো সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো আমাদের নিজস্ব বিষয়।

সুতরাং, কোনো মুচলেকা দিয়ে সমর্থন আদায় নয়। বরং ভারত নিরপেক্ষ থাকুক, আগামি নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আবারও আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনবে। দেশী বিদেশী কোনো প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে বাংলার মানুষ ভয় পায়না। এটা নিশ্চয়ই আপনার জানা কথা। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, তৃণমূলে দল শক্তিশালী থাকলে আওয়ামীলীগকে ঠেকায় কে?

তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে ভারত আর্ন্তজাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং তিস্তার পানি প্রাপ্তির জন্যে কারো দয়া অনুকম্পা কিংবা শর্ত প্রযোজ্য নয়। ভারত যদি আমাদের সত্যিকারার্থে বন্ধু মনে করে, তাহলে তাদের অখন্ডতার স্বার্থেই আমাদের অবদান সমূহকে মনে রাখতে হবে। তিস্তা সহ অন্যান্য নদীর উপর তৈরী বাঁধ ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এসব বাঁধ তাদের দেশের জন্যেই বিপদ ডেকে এনেছে। উজানে পলি জমে গিয়ে প্রতি বছরই বন্যা হচ্ছে সেখানে, বিষয়টি তাদের অনুধাবন করতে হবে।

ভারতকে মনে রাখতে হবে- এদেশের যেসকল দল বা মানুষ ভারতকে বন্ধু বলে ভাবে তাদের স্বার্থ বিরোধী কিছু করা হবে পরোক্ষভাবে ভারতের নিজের পায়ে কুড়াল মারা, আমরা চাই আপনি একথা তাদের স্মরণ করিয়ে দেন।

তড়িঘড়ি করে কোনো অসম চুক্তি নয়। পর্যাপ্ত বিচার বিশ্লেষণ এবং দেশের মানুষের পাল্ স বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সুতরাং আপনি বলে আসুন- আওয়ামীলীগ আগামি নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসলে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে।

বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি বিনত শ্রদ্ধা রেখে  কিছু পরামর্শ দিয়ে শেষ করবো। আপনি যথাস্থানে আবেগ দেখান, কিন্তু আবেগকে কখনো প্রশ্রয় দিবেননা। খোলা ময়দানে বর্হিরাষ্ট্র সম্পর্কে কোনো বক্তব্য রাখবেন না। এমনকি প্রধান বিরোধী দল কিংবা তাদের নেতা-নেত্রী সম্পর্কেও না। প্রয়োজনে দলের বাকিরা সবাই সরব থাকুক,  এসব বিষয়ে আপনি সংযত থাকুন। কারণ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে  আপনার নিরবতার মাঝে একটা সৌম্য সৌন্দর্য্য এবং গাম্ভীর্য্য আছে, যেটা দলমত নির্বিশেষে সবারই ভালো লাগে। আপনি শুধু আওয়ামীলীগের  সভানেত্রী নন, এদেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর প্রধানমন্ত্রী, শেষ ভরসাস্থল, বাঙালি জাতির আশা ও আকাঙ্খার সর্বশেষ আশ্রয় স্থল।ভবিষ্যতের উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, রূপকার ও কান্ডারী।সুতরাং এদেশের সব শ্রেণী, পেশা ও মতাদর্শের সাধারণ মানুষ কেউবা মনে মনে, কেউবা প্রকাশ্যে আপনার কাছেই আশ্রয় ও ভরসা খোঁজে।

সঙ্গত কারণে কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ আপনি করতেই পারেন, কিন্তু সেটা অপ্রকাশ্য থাকাই শ্রেয়। প্রকাশ্য থাকুক সব মানুষের জন্যে ভালোবাসা। মনে রাখবেন শুধু উন্নয়ন দিয়ে নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ভালোবাসা আদায় করতে পারলেই কেবল আপনি তাদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিতে পারবেন, তাদের নয়নের মণি হতে পারবেন। আমি মনে করি এর চেয়ে বড়ো রাজনৈতিক কৌশল আর হতে পারেনা।অতিতের তিক্ততা ভুলে গিয়ে কাদের সিদ্দিকি, ড. কামাল হোসেন এর মতো কিছু মানুষকে কাছে টানলে আপনার লাভ হবে, লোকসান হবেনা গ্যারান্টি দিলাম। জানি, আপনার এই সিদ্ধান্তে দলের মধ্যে কেউ কেউ আপত্তি তুলবেন, কিন্তু তারাও এক সময় সাধুবাদ জানাবে, যদি তাদের সাথে এই ব্যক্তিবর্গের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে পারেন। তাদের সবাইকে নিয়ে একসাথে বসেন।

অন্যান্য দেশের কুটনীতিকে কুটনীতি দিয়ে মোকাবেলা করুন, যে কুটনৈতিক কারিশমা অনেক আগেই বিশ্ববাসী আপনার মাঝে দেখেছে, সেই কারিশমা খাটাতে পিছপা হবেননা। বঙ্গবন্ধুর পর বর্তমান বিশ্বে আর কাউকেতো আমি দেখিনা, যে কিনা রাজনীতি এবং কুটনীতিতে আপনার সমকক্ষ হতে পারে।

লেখকঃ প্রজন্ম একাত্তর, গণমাধ্যমকর্মী।

slide