ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

তাঁকে স্বশরীরে প্রথম দেখার সুযোগ ঘটেছিলো ১৯৯৫-৯৬ এর দিকে। পুরো দিন-ক্ষণটা আমার মনে নেই। আমি তখন মফস্বলের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গণে কাজ করি।একদিন ওই পরিমণ্ডলের বড় ভাই, কবি এবং সংগঠক, সংবাদকর্মী মাহমুদুল হক ফয়েজ এর আমন্ত্রণ পেলাম। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শীতবিকেলের উঞ্চ আড্ডায় সৌম্য দর্শন ব্যক্তিটির সাথে আমি প্রথম পরিচিত হই।

11_Farhad-Mazhar_Mohammadpu

চুলের পেছন দিক দিয়ে ঝুটি বাঁধা ফরহাদ মজহার সেদিন আমাদের লালন ফকিরের অনেকগুলো গান গেয়ে শুনিয়েছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আরও ক’জন বাউল শিল্পী, তাঁদের গানও শুনেছিলাম। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতে গড়ানো সেই আড্ডা শুধু লালন সঙ্গীতে সীমাবদ্ধ ছিলোনা, সেদিন জেলা শহরের অনেক যুবার চিন্তার জগতে তিনি প্রচন্ড আলোড়ন তুলেছিলেন।তাঁর কবিতা, গান, ‘চিন্তা’ পত্রিকার রচনাগুলো পড়ে বলা যায় এক সময় অন্ধ ভক্তে পরিণতঃ হয়েছিলাম।

ক’দিন পরেই প্রকাশিত আমাদের পত্রিকার উপ-সম্পাদকীয়তে তাঁকে সে সময়ের তরুণ সম্প্রদায়ের মুক্তচিন্তার গুরু হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলাম।মনে পড়ে ওই লেখাটি যখন তাঁর হাতে পৌঁছালো তখন তাঁর কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রীয়া পাইনি। ভালো কি মন্দ কিছুই বলেননি, গম্ভীরভাবে শুধু চোখ বুলিয়েছিলেন। আমারতো তর সইছিলোনা।পরদিন তাঁর স্ত্রী ফরিদা আখতারকে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বলেছিলেন- ‘লেখাটি অতিরিক্ত হয়ে গেছে’।

বলা দরকা্র মাহমুদুল হক ফয়েজ- ফরহাদ মজহার এর আপন ছোট ভাই, যাঁর সাথে আমার আত্মিক সম্পর্কটা আরও আগে স্থাপিত হয়েছিলো। তিনি হেসে বলেছিলেন- ‘সাজ্জাদ, বিউটিফুল লিখেছো।’

তবুও মনটা ভরেনি, যাঁকে এবং যাঁর চিন্তা দর্শন নিয়ে লিখলাম তিনি কোন মন্তব্য করলেন না, তাঁর সহধর্মিনী করলেন সমালোচনা। সেই সমালোচনাটাকেই গ্রহণ করলাম. সেই থেকে পরিমিত লেখার নিরন্তর চেষ্টা।

মনে পড়ে শহরের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের আরও কয়েকজন বড় ভাই আবদুল আউয়াল, প্রয়াত নাট্যকর্মি মেসবাহ ভাই, কাজী খসরু, মাহমুদুল হক ফয়েজ, মিন্টু সারেং, আহমেদ জামিল মিতুন. শাহেদা পারভিনসহ আমরা বেশ ক’জন ‘মুক্ত চিন্তা ফোরাম’ নামক একটি নিয়মিত আড্ডার সূচনা করেছিলাম। মাইজদী সরকারি আবাসিক এলাকার শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়ে বসেছিলো প্রথম আড্ডা, তার পরেরগুলোর কথা ঠিক মনে নেই। তবে ফয়েজ ভাই এর সাথে যোগাযোগের সুবাধে ‘চিন্তা’ পত্রিকাটা নিয়মিত পড়তাম, এবং বলা যায় নিজের চিন্তা জগতে একটা নতুন জাগরণ অনুভব করেছিলাম ধীরে ধীরে।

‘চিন্তা’র সূত্রেই ফরহাদ মজহার এর এনজিও ‘উবিনিগ’(উন্নয়ন বিষয়ে নীতি নির্ধারনী গবেষণা) এবং ‘নয়া কৃষি আন্দোলন’ এর সাথে পরিচিত হলাম। ফয়েজ ভাই সোনাপুরের অদূরে নোয়াখালী ইউনিয়নে অবস্থিত তাঁর খামার বাড়িতে নিয়ে গেলেন একদিন। সেখানে নিজ চোখে দেখেছিলাম, বিষ-সার ছাড়াই কীভাবে ভালো ফলন হতে পারে তার নমূনা এবং একই সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশের সব কিছুকে অক্ষুণ্য রেখেই চাষাবাদ, মৎস ও গবাদী পশুপালন করা যায় কি করে। ফয়েজ ভাই আমাদের দেখিয়েছিলেন একটা লতা গুল্মকেও হত্যা না করে কি করে বৃক্ষচা্ষ করা যায়।‘চিন্তা’ ‘নয়াকৃষি’ ‘উবিনীগ’ এর স্রস্টা্ ফরহাদ মজহার আমার কাছে তখন আরাধ্য গুরু, নব চেতনার পথ প্রদর্শক।

মনে আছে, একবার রাজধানীতে আসার পর দুরু দুরু বুকে শ্যামলীস্থ তাঁর উবিনীগ অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে ঢোকার সময় সত্যি অনেক নার্ভাস লেগেছিলো। লালন সাধকেরা লালনের আখড়ায় যাওয়ার পর যে আবেগ আর উৎকন্ঠার শিকার হন, আমার কাছেও বিষয়টা ছিলো সেরকম। তখন ‘উবিনীগ’ অফিসটা আমার কাছে ছিলো তীর্থভূমির মতো, আর ফরহাদ মজহার ছিলেন তীর্থ পুরুষ।

ছিয়ানব্বইতেই জেলা শহরের আরেক সাংস্কৃতিক পুরোধা ব্যক্তিত্ব মরহুম আবদুল গফুর এর কন্যার সাথে আমার বিয়ে হয়। আমার শ্বশুর কবি এবং নাট্যকার, শাশুড়ি উম্মে কুলসুম জাহানারা বেগম কবি এবং প্রবন্ধ লেখক, স্ত্রী লায়লা তারেক কবি, আবৃত্তিকার, নাট্যাভিনেত্রী, পরবর্তিতে টিভি নাট্যকার। শ্বশুরালয়ের একই পাড়ায় ফরহাদ মজহার এর পিতৃ ভিটা। অথচ তাঁদের চেয়েও আমি ছিলাম মজহার পরিবারের বেশী কাছের মানুষ। যদিও সেটা ফয়েজ ভাই, ভাবী, তাঁদের বাচ্চা বৃষ্টি, রোদ্র এর সাথে। তাঁর প্রয়াত বড় ভাই এর দুই মেয়ে জয়া এবং কেয়া ছিলো আমাদের সংগঠন ‘প্রাঙ্গণ’ এর সদস্য। ফরহাদ মজহার এর আরেক ভাই ফয়সাল ভাই এর দেখা পেতাম ঈদে চাঁদে।

মনে পড়ে বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই বিআরডিবি ট্রেনিং সেন্টারে আউয়াল ভাইয়ের এনআরডিএস আয়োজিত লিঙ্গ সমতা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে নতুন বউকে নিয়ে গিয়েছিলাম। বিয়ের পর আমার লক্ষ্য ছিলো আউয়াল ভাইয়ের এনজিওতে কাজ করবো, নতুবা ফরহাদ মজহার এর উবিনীগ কিংবা চিন্তায়। কিন্তু কোথাও জায়গা হলোনা, গিয়ে ঠেকলাম চট্টগ্রামের এক ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এজেন্সীতে।

চট্টগ্রামে থাকাকালীনও ‘চিন্তা’ পড়তাম।এভাবেই ফরহাদ মজহার সবসময় আমার সাথে ছিলেন। তারপর দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হতে থাকলে ফরহাদ মজহারের ভূমিকা ধীরে ধীরে আমাকে বিস্মিত করতে থাকে। আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যখন তিনি সমানে দিগন্ত টেলিভিশনের টকশোতে সরব, সেখানে তিনি বিএনপি জামাতের স্তুতি করছেন। একটা অস্বস্তি নিয়ে বিষয়গুলো ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। মনে করলাম, সবারই তো মুক্তভাবে চিন্তার অধিকার যেমন আছে, তেমনি আছে মুক্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার। তাঁর যুক্তিতে তিনি যা করছেন, সেটাই হয়তো তাঁর জন্যে সঠিক ছিলো।

এরই মধ্যে কেটে গেছে অনেক সময়। ২০০১ থেকে আমি ঢাকায়।মঞ্চ এবং বেতার ছেড়ে টিভি মিডিয়ায় থিতু হওয়ার চেষ্টা করছি। ঠিক তখনি কাদের মোল্লার বিচারকে ঘিরে শাহবাগ টগবগ করে ফুটতে আরম্ভ করলো। আমিও সেই অগ্নীস্রোতে মিলেমিশে একাকার। আমার ভেতরের আগুনটাতে কে যেন হঠাৎ পানি ঢেলে দিলো যখন আমার মুক্তচিন্তার দীক্ষাগুরু লিখলেন- ‘ফাঁসির রায় ছাড়া শাহবাগ ঘরে ফিরবে না। আদালতের ওপর এ অন্যায় চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। …পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে রাজপথে ক্ষমতা জারি রেখে ও রায়ের ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে শাহবাগ আদালতের দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ হয়ে আদালতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থান মূলত আদালত অবমাননা নয়, রীতিমতো বিচারব্যবস্থা ভেঙে ফেলার শামিল হয়ে উঠেছে ।’

আমি তো ভাষা খুঁজে পাইনা তিনি কী করে এমনটা লিখলেন? তিনি কি জানেন না মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায়। সেই সরকারই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, সুতরাং যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে যারাই দাঁড়াবে, তাদের সুরক্ষা দেয়া সেই সরকারেরই পবিত্র দায়িত্ব।

 

 

আমি আরও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম তিনি যখন আবারো লিখলেন- ‘যারা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছেন, তারা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়েছেন ইসলামের সঙ্গে বাঙালি জাতীয়তাবাদের। খেয়াল করতে হবে ‘বাঙালি’ বা ‘মুসলমান’ এই দুইয়ের মধ্যে কোন্‌ পরিচয় প্রধান সেটা এখানে আমাদের তর্কের বিষয় নয়। রাজনৈতিকতা ও রাষ্ট্রের বিচার করার ক্ষেত্রে এই তর্ক অপ্রাসঙ্গিক। তর্কের বিষয় হচ্ছে, যে পরিচয় সামাজিক পরিসরে থাকার কথা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে থিতু হওয়ার বিষয়, তাকে রাজনীতি ও রাষ্ট্রের স্তরে টেনে আনা হয়েছে।’

একসময় তিনিই আমাদেরকে লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দীক্ষা দিয়েছিলেন, এখন কি করে  এভাবে সাম্প্রদায়িক চিন্তা করেন, কিভাবে তিনি গণজাগরণমঞ্চকে হেয় প্রতিপন্ন করে হেফাজতের মঞ্চে গিয়ে বসেন? আমার মননে এবং চিন্তায় এতোদিন ধরে পূজ্য ফরহাদ মজহার ক্রমশঃ গুরুত্ব অস্তিত্ব দুটোই হারাতে শুরু করলেন। এবং আমরাতো তাঁর নব্য চিন্তাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমানিত করে ঠিকই জয় নিয়ে ফিরে এলাম।

জেলা শহরে গেলে প্রায়ই ফয়েজ ভাই্‌ এর সাথে দেখা হয়, কিন্তু সচেতনভাবেই তাঁর বড় ভাই ফরহাদ মজহার প্রসঙ্গ তুলিনা। তিনিও এড়িয়ে যান।

এভাবেইতো কতক বছর কেটে গেলো। তারপর হঠাৎ টক অব দ্যা কান্ট্রি আমাদের এক সময়ের মুক্ত চিন্তার পথিকৃৎ সেই ফরহাদ মজহার। পরিবারের দাবী- সেদিন ভোর বেলায় তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার পর অপহৃত হয়েছেন। এক মূহুর্ত বিলম্ব না করে বিএনপি নেতা রিজভী বিবৃতি দিয়ে দিলেন ফরহাদ মজহারকে সরকারের মদদপুষ্ট বাহিনী অপহরণ করেছে। এরই মধ্যে ফরহাদ মজহার তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে বলেছেন তিনি অপহৃত হয়েছেন, প্রথমে ৩৫ লাখ এরপর ২০ লাখ টাকা দিলে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা যাবে।আমি ভাবছিলাম রিজভীর কথামতে সরকারের নিশ্চয়ই টাকার অভাব পড়েছে, যে কারণে ফরহাদ মজহারের মতো মানুষকে অপহরণ করাতে হলো।

কিন্তু না, দেখলাম আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাঁর মোবাইল ট্র্যাক করলো। কখনো তিনি আরিচা, কখনো যশোর, সর্বশেষ খুলনা। র‌্যাব পুলিশ পারেতো খুলনার প্রতিটা বাড়ি তল্লাসি করে। রাত ১০টায় এক রেস্টুরেন্টের মালিক র‌্যাবকে জানালেন তিনি তাঁর রেস্টুরেন্টে খেতে দেখেছেন ফরহাদ মজহারকে। গতোকাল রাত সাড়ে এগারোটায় র‌্যাব তাঁকে হানিফ পরিবহন থেকে উদ্ধার করলো। সেখানকার এক পুলিশ অফিসার বললো তাঁর মধ্যে কোনো অপহরণ হওয়ার চিহ্ন নেই, কারণ তাঁর ব্যাগে মোবাইল, মোবাইলের চার্জার এবং গেন্জি। আবার সিসিটিভি ফুটেজে নাকি দেখা গেছে তিনি কোনো ব্যাগ ছাড়াই ঘর থেকে বের হচ্ছেন।

তাঁকে ঢাকায় আনা হলো, পরিবার বললো চোখ বেঁধে তাঁকে গাড়িতে তোলা হয়েছে। তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। এরপর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী এবং ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় নিজ জিম্মায় তিনি ফিরেছেন, যিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফরহাদ মজহার এর মুক্তচিন্তা, উবিনীগ নয়া কৃষি, হঠাৎ ডানপন্থী হয়ে পড়া সব মন থেকে মুছে গেছে বহু আগে। এই ঘটনার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কোনো উপস্থিতি নেই মিডিয়ায়। আকম্মিক আবির্ভাব এবং সেটায় ‍পুরো দেশময় তোলপাড়। এই ঘটনায় বেশ কিছু দিক আমাকে চিন্তামুক্তির বদলে চিন্তাযুক্ত করে দিয়েছে, অন্তত কিছু বিষয়ের যখন সুরাহা খুঁজে পেলামননা।

১। ঘটনা ঘটার সাথে-সাথেই বিএনপি সরকারকে অভিযুক্ত করে বসলো কেন? নাকি বিএনপি আগে থেকে জানতো অথবা বরাবর তারা যেটা করে, যেমন চাঁদে সাঈদীকে দেখা, হাওড়ের পানিতে ইউরেনিয়াম দেখা, টেকসই উন্নয়ন না হওয়ায় পাহাড় ধস, অবৈধ সরকার হওয়ায় মৃত্যুর মিছিল… এরকম অবৈজ্ঞানিক বুলি।

২। কেউ বলছে ভারতে মুসলিম কিশোর হত্যা বিষয়ে মুখ খোলার পরদিনই তিনি অপহরণের শিকা্র হয়েছেন, এটি সরকারের কোনো বিশেষ এজেন্সি করেছে অথবা ‘র’ এর এজেন্টরা করেছে, কোনটা সঠিক, নাকি কোনটাই না? ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে পরিস্থিতি আনস্টেবল করে লাভটা কার?

৩। কেউ বলছেন ঘটনার আগের রাতেই তারেক জিয়া ফেসবুকে লাইভ বক্তৃতা দিয়েছেন, পরদিন সকালেই এই ঘটনা। তবে কি এটা বিএনপির নতুন কোনো প্লট এর সচনা? নাকি জঙ্গি গোষ্ঠী অর্থ সংগ্রহের জন্যে অপহরণ বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে?

৪। নাকি পরিবাগের ৭ তলা থেকে কাজের বুয়াকে ফেলে দেয়ার ঘটনা, চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা, গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণে মৃত্যুর ঘটনা থেকে সাধারণের চোখ ফেরানোর অপকৌ্শল?

৫। ফরহাদ মজহারের টিকেটে ‘গফুর’ লেখা কেন?

৬। ফরহাদ মজহার কি বুঝেশুনেই সানাউল্যাহ মিয়াকে আইনজীবী হিসেবে নিয়েছেন যিনি খালেদা জিয়ারও আইনজীবী?

৭। হয় অপহরণ নতুবা আত্মগোপনের চেষ্টা কিছু একটাতো হয়েছে, কিন্তু সেটা কেউ পরিস্কার করে বলছেনা কেন? রহস্যটা কোথায়? একটা ঘটনার এতো ধূম্রজাল কেন?

jessore-bus_tiket

(ছবিসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম)

এতোগুলো ’কেন’র উত্তর কে দিবে? আমি এপ্রিল থেকে প্রহর গুনছি- রাজধানীতে পরিবহন ‘সিটিং’ চলবে নাকি ‘চিটিং’ চলবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিআরটি এর তিন মাস কবে শেষ হবে? নাকি এই তিনমাস অপেক্ষার ঘোষণাটা আসলে পাবলিককে ঘুম পাড়িয়ে রাখার অপকৌশল মাত্র? রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের শিকার পরিবারগুলো পুর্নবাসন সহায়তা কবে পাবে, মৌলভীবাজারে পানিবন্দি মানুষগুলো এখনো পর্যাপ্ত ত্রান পাচ্ছেনা কেন? এবার বরষার শুরুতেই বন্যা, জানিনা সামনে কি আছে, আমাদের খাদ্য মজুতের কি অবস্থা?  বর্তমান নির্বাচন কমিশন কি আদৌ একটি প্রশ্নবিহীন নির্বাচনের আয়োজন করতে পাবরে? সেই নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় আসবে? বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে শেখ হাসিনা আর কত ছাড় দিবেন? এ বছরের প্রাকৃতিক বিপর্যয়টা আসন্ন নির্বাচনের নিয়ামক হয়ে পড়ে কিনা? সিএনএনকে খেপিয়ে ট্রাম্প এর কি লাভ? জলবায়ু চুক্তি থেকে আমেরিকার ফিরে আসায় হকিং এর ভবিষ্যতবাণী যদি ফলে যায়? ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক কোনদিকে গড়াচ্ছে? মোদি আমেরিকা-রাশিয়া ফেলে ইসরাইল থেকে কেন অস্ত্র কিনতে চায়- সেই সব কথা।

ফরহাদ মজহারের ভিন্ন মত থাকতেই পারে, সেই মত আমাদের কারও কারও পছন্দ নাও হতে পারে। ভিন্ন মত প্রকাশ তাঁর সাংবিধানিক অধিকার এবং এ কারণে তাঁর যে কোনো ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ‘নয়া কৃষি’র প্রবক্তা, যা সারা বিশ্বে সমাদৃত, তাঁর ‘চিন্তা’ প্রকাশনা এদেশে মুক্ত চিন্তার পথিকৃত, এর বাইরে তিনি একজন অসাধারণ ভালো কবি এবং সুলেখক। দেশের আর সব নাগরিকের মতোই মুক্ত মত প্রকাশের অধিকার তাঁর রয়েছে। তিনি যদি কোনো অপরাধের শিকার হন, সরকারের উচিত হবে তাঁকে সুরক্ষা দেয়া এবং অপরাধিদের বিচার করা। এটাতো দৃশ্যমান যে সরকার সেই পথেই এগুচ্ছে।

তবুও বুঝিনা রোম যখন পোড়ে, তখন নিরো কি করে বাঁশি বাজায়? ঘর পোড়ার মধ্যে কি করে এক শ্রেণী বার বার আলু পুড়ে থেতে চেষ্টা করে?

লেখকঃ গণমাধ্যমকর্মী।