ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, ধর্ম বিষয়ক

 
index

ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আবারো বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ ও সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্লগারদের নিরাপত্তা ও সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে ব্লগার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা। বাংলাদেশের গ্রামীণ অংশে ব্লগার কথাটি পরিচিতি পায় শাহবাগ আন্দোলন শুরু হও্য়ার পর। প্রথম দিকে এই আন্দোলনের সাথে ব্লগাররাও মানুষের মনে ভালোবাসার আসন গড়ে নিতে সক্ষম হয় । কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচারে শীঘ্রই দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে থাকে ব্লগার মানে নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী একটি বিশেষ গোষ্ঠী । গ্রামের সহজ সরল লেখাপড়া না জানা মানুষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রী প্রাপ্তরাও ব্লগারদের ব্যাপারে এমন নেতিবাচক ধারনা পোষণ করতে থাকে।

আন্দোলনের প্রাক্কালে গ্রামে গিয়ে এক মহিলার কাছে শুনতে পাই হাসিনা সরকার নাস্তিক ব্লগারদের সাথে যোগ দিয়ে দেশটাকে কাফের রাষ্ট্রে পরিণত করছে। তাই হাসিনাকে এবার ভোট দেওয়া যাবেনা। সে কার কাছে শুনেছে জানতে চাইলে উত্তরে বলে জনৈক মসজিদের ইমামের কাছে । পারিবারিক এক দোয়া অনুষ্ঠানে ইমাম সাহেব মোনাজাতে নাস্তিক ব্লগার ও সরকারের হাত থেকে দেশকে হেফাজতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিল। মোনাজাত শেষে তার কাছে ব্লগারদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। একটা ব্যাপার পুরোপুরি না জেনে সেটার ব্যাপারে মন্তব্য করা ইসলামে কতটুকু বৈধ সেই উত্তরও তার কাছে ছিল না। তবে যারা সাধারন মানুষকে এই ব্যাপারে বিক্ষিপ্ত করে তুলেছে তারা সবাই জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত এটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার। সাধারন মানুষকে বিক্ষিপ্ত করে সরকারকে হটিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। সরকার হয়ত জনমত বুঝে, তাদের কলম যোদ্ধাদের ত্যাগ করে। ইসলাম বিরোধী লেখার কারণে কয়েকজন ব্লগারকে জেলে পুরে।

ব্লগারদের হাতে থাকে শুধু কলম । বাংলাদেশ এখনো মুক্তবুদ্ধি চর্চার উর্বর ভূমি হয়ে ওঠেনি। কোপার্নিকাস , গ্যালিলিও দের মতো অভিজিত , হুমায়ন আজাদ দের জীবন দান হয়তো একদিন সার্থক হবে। কারণ হাজার বছরের গড়ে ওঠা সংস্কৃতি কিছু মাথা মোটা শকুনের থাবায় ধ্বংস হতে পারে না। তাই দিনশেষে যুক্তির শাণিত প্রকাশ, হয়ত কোন শকুনের থাবায় জীবন দান, শাহবাগে প্রতিবাদ , আবার লেখা। একদিন বিজয়!!!!