ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমেরিকান সেনা বাহিনী ভেঙে দেয়ার প্রস্তাব কী হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কখনো দিয়েছিল? লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা কী মানবাধিকারের নাম বেচে খাওয়া এই সংস্থাটির চোখে পড়ে না? নাকি অন্য কোথাও সমস্যা? র‌্যাব ভেঙে দেয়ার প্রস্তাব দেয়ার সাহস এরা কোথায় পায়, যেখানে র‌্যাব বাংলাদেশ সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনী। আমেরিকার সিআইএ ভেঙে দেয়া হোক, যারা সারা দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এমন প্রস্তাব কোনদিন কী তুলেছিল এরা!

র‌্যাব গঠনের পর থেকে যে অভিযোগ এদের নামে, এরা সন্ত্রাসীদের ক্রস ফায়ার দেয়। এছাড়া কিছু দুর্নীতি জনিত দুর্ঘটনা ছাড়া বাহিনীটির সার্বিক কাজকর্ম দেশের মানুষের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা অনেক আগেই পেয়েছে। কালা জাহাঙ্গীর, হান্নান, ইমন, আসলাম ইত্যাদি টপ টেররদের বেশির ভাগই হয় মারা পড়েছে না হয় দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। বর্তমান সময়ে নানা কারণে র‌্যাব তাদের সেই গতি হারিয়েছে, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বার বার। কিন্তু আইন শৃংখলা রক্ষায় র‌্যাব এর বিকল্প কোনও বাহিনী এখনো তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার, বড় ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে র‌্যাব এর সফলতা আমার দেখেছি বহু বার।

সিআইএ এর পর বহির্দেশে বিশৃঙ্খলা, রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ, সাবটেজ, সরকারকে চাপে রাখা, গুপ্তচর বৃত্তি ইত্যাদি কাজে ইতিমধ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বেশ কুখ্যাতি অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। স্বাধীনতার বহু পূর্ব হতেই বাংলাদেশে ‘র’ অনেক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়তে সমর্থ হয়েছিল। যতদূর মনে পড়ে মাস দুয়েক আগে BBC বাংলা রেডিওতে মেহবুব- ই- ইলাহি নামে এক লোকের সাক্ষাত্কার শুনেছিলাম, যিনি ১৯৬৮ সালের দিকে বাংলাদেশে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গুপ্তচর হিসেবে কাজ শুরু করেন। পড়ে উনি পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগ দেন এবং অনেক দিন গুপ্তচর বৃত্তির পর ধরা খেয়ে দীর্ঘদিন জেল খাটেন।

বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে স্বাধীনতার পর যে গণহারে মেহবুব- ই- ইলাহীর মত গুপ্তচর ঢোকেনি তা নিশ্চয় না। সেখান থেকে কয়জন ধরা পড়েছে আর পড়েনি তাও আমরা জানিনা। ধরা না পড়া চর গুলো সেনা বাহিনীর শীর্ষ পদে উঠে আসাটাই স্বভাবিক। অতএব বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় এরকম কোনও সংস্থার হাত থাকাটা মোটেও অস্বভাবিক না।

র‌্যাব দেশের বাইরে কাজ না করলেও দেশের ভিতরে এদের নেটওয়ার্ক খুবই শক্তিশালী। যে কারণে অনেকের কাছেই এরা মাথা ব্যাথা। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী, গুপ্তচর, চোরা কারবারী ও অন্যান্য অপরাধীদের জন্য র‌্যাব বাধা হয়ে দাড়ায় মাঝে মধ্যেই। বিভিন্ন এনজিও নামধারী সংস্থা যারা মূলত মানব সেবার নামে অন্য উদ্দেশ্য( বিদেশীদের এজেন্ডা) বাস্তবায়নে কাজ করে তাদের জন্য ও র‌্যাব মাথা ব্যথার কারণ। অতএব এমন একটি বাহিনী থাকলে দেহের ভিতরে বিদেশী শক্তির প্রভাব হ্রাস পায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়।

এজন্য আমাদের দেশে অতি মাত্রায় সক্রিয় বিদেশী গোষ্ঠী গুলোর কাছে র‌্যাব প্রথম থেকেই সমস্যা। এই সক্রিয় গোষ্ঠী গুলোর মধ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ অন্যতম। রিসার্চ অণ্ড এনালাইসিস উইংস ( ‘র’ ) ভারতের পররাষ্ট্র নীতির নির্ধারক এবং বহির্বিশ্বে ভারতের প্রভাব তৈরি করা, অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য সব ধরনের কাজই করে এই সংস্থাটি। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সংকৃতিক, ধর্মীয়, শিক্ষা খাত, মিডিয়া, এনজিও এবং ব্যবসায় সংগঠনের নেতা পর্যন্ত এরা রিক্রুট করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে লোক নিয়োগ দিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে পৌছে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, অর্থ, এবং অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত রাখে। এভাবেই এরা দেশের ভেতরে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে। দেশের অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা নষ্ট করে প্রশাসন কে চাপে রাখা এদের পরিকল্পনার অন্যতম একটা দিক। র‌্যাব এর তত্পরতায় এরকম অনেক কিছুই নষ্ট হয়। ফলে র‌্যাব তাদের মাথা ব্যথার কারণ হতেই পারে।

আন্তর্জাতিক মিডিয়া, দেশী দালাল মিডিয়া এবং টাকা খাওয়ানো কিছু চর মানবাধিকার সংস্থা দিয়ে সারা বিশ্বে র‌্যাব এর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে এরা। একটি স্বাধীন দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি সংস্থা ভেঙে ফেলতে বলা কোনও ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। তারা সর্বোচ্চ তদন্ত দাবি করতে পারে। যেকোনো অপরাধের তদন্ত আমরা সাধারণ মানুষ ও চাই। দেশের প্রত্যেক টি বিষয়ে বিদেশীদের নাক গলানোর নিন্দা এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

শাহরিয়ান আহমেদ
০৫.০৭.২০১২