ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

মন ভেঙে যায় যখন শুনি কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা। পেশাগত কাজ করতে গিয়ে প্রায় সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হচ্ছে সাংবাদিকরা। সাংবাদিক সুরক্ষায় দেশে বিশেষ কোনো আইন নেই। গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য, ২০১২ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানির পশ্চিম রাজা বাজারের একটি পাঁচ তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর ও এটিএন বাংলার জেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনির ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দু-পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রাহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন দৈনিক সমকালের শাহজাদপুরে প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল। ২০১৬ সালে ৬ নভেম্বর ঢাকার চকবাজারে অবৈধ পলিথিন ব্যাগ তৈরি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে সেখানে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হামলার শিকার হন যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শাকিল হাসান ও ক্যামেরাম্যান শাহীন আলম।

২০১৫ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে আলোকচিত্র সাংবাদিক আসিফ মাহমুদ অভি ঢাকার বাইতুল আমান জামে মসজিদের সামনে এক ব্যক্তিকে এক দল যুবকের মারধরের সময় ছবি তুলতে গেলে হামলার শিকার হন।

received_1362361567215836

সাংবাদিকদের উপর হামলা কি কারণ? এই বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয়।

যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি শাকিল হাসান বলেন, “গনমাধ্যমের উপর হামলার প্রধান কারণ হচ্ছে যে সমস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা অবৈধভাবে কাজ করে। আমার উপর হামলা হয়েছে অবৈধ পলিথিন নিয়ে নিউজ করতে গিয়েছিলাম একারণে। এক্ষেত্রে যারা অবৈধভাবে কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে যখন সংবাদ হয়, তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সংবাদ প্রকাশের পর তারা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়। তারপর মারধর ও হত্যা পর্যন্ত করে থাকে।”

সাংবাদিকতা দিন দিন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সাংবাদিকতা কমানোর জন্য সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এবং সাংবাদিকের যে সংগঠনগুলো আছে তাদের সাংবাদিকদের অধিকার আদায় জন্য ও সাংবাদিক রক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারের উচিত সাংবাদিকদের ইনসুরেন্স দেওয়া। বিশ্বের উন্নত দেশে সাংবাদিকদের ইন্সুরেন্স থাকে যাদের উপর হামলা হয় বা অঙ্গ হানি হয় বা তার জীবন হুমকির মুখে পরে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠান পক্ষ থেকে বা সরকারের পক্ষ থেকে। আর যারা ঘটনা ঘটায় তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়।

সবচেয়ে বড় বিষয়টি হল বিচার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক কাজী নাফিয়া রহমান বলেন, “সাংবাদিকদের উপর বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ সময়ই এসব হামলার সাথে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকে। ফলে এসব ঘটনার বিচার হয় না বললেই চলে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে উস্কে দিচ্ছে।”

“প্রত্যেকটি ঘটনার যথাযথ বিচার হলে অনাকাঙ্খিত ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে সবচেয়ে বড় কাজটি হবে সমাজ মানসিকতায় পরিবর্তন আনা। কারণ সাংবাদিকের উপর সহিংস হয়ে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করা যায় না। গণমাধ্যম সমাজের আয়না স্বরুপ, এর কর্মীদের উপর হামলা না করে প্রভাবশালীরা নিজেদের সংশোধন করলেই বৃহত্তর সমাজ উপকৃত হবে।”

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ না করে, গণমাধ্যমের দর্পনে কোন চেহারা দেখাবেন; সেটি নির্ধারণ করা উচিত তাদের। কারণ কেউ ভাল কাজ করলে গণমাধ্যমে তা ইতিবাচকভাবেই আসে, আর খারাপ কাজ করে ইতিবাচক কাভারেজ প্রত্যাশা করা যায় না। আর সেটিকে পেশিশক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা বর্বরতার শামিল।

এ ধরনের কিছু ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরাও বিতর্কিত হচ্ছেন। কিছু ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে দেখা যায়। আবার কিছু ঘটনায় নিরীহ সাংবাদিকের বিপক্ষে গিয়ে কিছু সাংবাদিককে ক্ষমতাবানদের তাবেদারি করতে দেখা যায়। এই দুই ধরনের সাংবাদিকই গণমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর। এদের বিরুদ্ধেও গণমাধ্যমকে সোচ্চার হতে হবে।