ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের জাতীয়  নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আদর্শিকভাবে বিপ্রতীপ অবস্থানের লোকজনদের মাথায় হাত বুলিয়ে কাছে টানতে চাইছে। ক্ষমতাসীনদের এই প্রয়াস কার্যকারণসূত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না বলেই অভিজ্ঞমহলের ধারণা। সামাজিক গতিশীলতা সম্পর্কে যেহেতু নিঃসংশয়ে কিছু বলা মুশকিল সেহেতু এখনই চূড়ান্ত উপসংহারে পৌঁছানো না গেলেও অন্য একটি বিবেচনা বাদ দেয়া যাচ্ছে না। সেই বিবেচনা হচ্ছে, দলের অভ্যন্তরে খাইখাই মার্কা লোকজনের দৌরাত্ম্য এবং সেই খাইখাই কে কেন্দ্র করে অন্তর্দলীয় কোন্দল।

ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় দেখা  যায়, ক্ষমতাসীন দল ভাল কাজ করলেও খাইখাইদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ ভোটাররা উল্টোমুখী হয়। অন্যদিকে অন্তর্দলীয় কোন্দলে তৈরি হয় ‘কোঁচের ছুরি কোঁচ’ কাটে পরিস্থিতি। তখন আওয়ামী লীগের পরাজয়ের জন্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দল নয় বরং নিজ দলই নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচন (১৯৯১ থেকে তারা যেসব নির্বাচনে) পরাজিত হয়েছে সবগুলো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা হুবহু একই রকম।

RmywAUdTpyNM

.

আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনপ্রিয় দল। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিজয় তার প্রমাণ। কিন্তু দলটি তার দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে বরাবরই ততটা যত্নবান না। কথাটি বলছি তার কারণ, সেই ১৯৫৪ সালের ‘যুক্তফ্রন্ট’- এ কেন নেজামে ইসলাম দলকে নেয়া হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্বয়ং সে প্রশ্ন করে দলের তৎকালীন শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে কোনো সদুত্তর পাননি। বিশেষত দলটি যখন ক্ষমতায় যায় তখন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এমনই উদগ্র হয়ে ওঠে যে, সেইসব উদরসর্বস্ব লোকের অপকর্মের দরুণ নিঃস্বার্থ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রাণপাত করা অর্জন নানান কূটতর্কে বিতর্কিত হয়ে মিথ্যা অপবাদে ভেসে যায়।

স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড আমাদের ওই কথাটি বেশ ভালভাবে মনে করিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যদি খাইখাইদের কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগী হয় তাহলে আদর্শিকভাবে বিপ্রতীপ অবস্থানের লোকজনদের কাছে টেনে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চিন্তা না করলেও চলবে। জনগণই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।