ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 
পৃথিবীতে যত অপরাধ সংঘটিত হয় তার সবগুলোই আইনের আওতায় আসে না। বাস্তব ক্ষেত্রেও তা সম্ভব হয় না। আমেরিকা, ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতেও সংঘটিত সকল অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয় না। আমেরিকা যুক্ত রাষ্ট্রে সংঘটিত শতকরা ৩৭টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনুদ্ঘাটিত থেকে যায়। এ সব অনুদ্ঘাটিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অনেক আলোচিত হত্যাকাণ্ডও থাকে।কৃঞ্চাঙ্গ মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং(জুনিয়র) হত্যাকাণ্ডের জন্য একজনের ফাঁসি হলেও অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, লুথারের হত্যাকারীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন। এ মনে করা ব্যক্তিদের মধ্যে লুথারের ছেলেও রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এফ কনেডির হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হলেও সেই হত্যাকারীকে প্রকাশ্যে স্নাইপার সুটারগণ হত্যা করেছিল। তাই এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতারা এখনও অধরা রয়ে গেছে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডটিও একটি যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ এখনও হিমসিম খাচ্ছে। তবে এখনও রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি বলে যে কখনই তা হবে না- এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। অনেক জটিল মামলার রহস্য বহুদিন অনুদ্ঘাটিত থাকার পর সেগুলো শেষ পর্যন্ত উদ্ঘাটিত হয়েছিল।

একজন সামান্য বোমা-স্থাপনকারীকে (উনাবোম্বার) শনাক্ত করতে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইসহ সকল রাষ্ট্র ও স্থানীয় পুলিশের ২০ বছর সময় লেগেছিল। রাশিয়ার সিরিয়াল কিলার চিকাটিলোকে শনাক্ত করে গ্রেফতারে রাশিয়ার ১৮ বছর সময় লেগেছিল।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বহু হত্যাকাণ্ড পুলিশের খাতায় তদন্তাধীন রয়েছে। দিনের পর দিন প্রাপ্ত সূত্রগুলো যাচাই করে কোন প্রামাণ্য আলামত না পেয়ে নতুন সূত্রের সন্ধান করা হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের মুলতবি এসব মামলার অনেগুলোই অভিযোগপত্রের মাধ্যমে শেষ হয়। এগুলোর প্রেক্ষিতে আসামিদের শাস্তিও হয়। তাই সাগর-রুনি মামলার তদন্ত নিয়ে আমাদের আশাবাদি হওয়াই উচিৎ।