ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

আমি সক্রিয় রাজনীতিতে কোন দিনই উৎসাহী ছিলাম না। এমনকি ছিলাম না কোন দিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রও। তাই আন্তর্জাতিক তো পরের কথা দেশীয় রাজনৈতিক ঘটনাবলীর উপর দুই চার লাইন লেখার কর্তৃত্ব (Authority) আমার আছে বলে বিশ্বাস করি না। কিন্তু তারপরও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে এ নিবন্ধখানা লিখতে বসলাম। আন্তর্জাতিক বলতে আমার দেশের নয়- বিদেশের। সুদূর পশ্চিম আফ্রিকার একটি ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়ার সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে কয়েকটি কথা লিখব বলে কি বোর্ডে হাত দিয়েছি। সক্রিয় রাজনীতিতে নিরাসক্ত ও রাজনৈতিক তত্ত্ব-প্রকল্পে অনভিজ্ঞ হয়ে কেন একটি আফ্রিকান দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে লিখতে বসেছি তার শানেনুজুলটা একটু বলাই যুক্তিসঙ্গত হবে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে এসে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাসহ প্রায় ত্রিশাধিক দেশের পুলিশ অফিসারদের সাথে কাজ করছি। পুলিশ মানেই তার নিজ নিজ দেশের সরকারের অধীন একটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সকল দেশের পুলিশই কোন না কোন ভাবে, কম আর বেশি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির রঙে রঞ্জিত হয়। আমার গাম্বিয়ান সহকর্মী আজা নিদি বেগি আমি নিয়াছি, মরিয়ম কিংবা সিদি কেউই এর ব্যতিক্রম নন।

আজ থেকে প্রায় ১৪ মাস আগে যখন গাম্বিয়ান পুলিশ অফিসারদের সাথে কাজ করা শুরু করি, আচর-ব্যবহার আর কথা-কাজে আমি তাদের সবাইকে তাদের ভূতপূর্ব (সেই সময় বর্তমান ছিলেন) রাষ্ট্রপতি জিম্মার সমর্থক হিসেবে পেয়েছি। বিষয়টাকে সমর্থক বলাতে হয়তো কিছুটা দূষণীয় হবে। কারণ ইতোপূর্বেই বলেছি যে পুলিশ সরকারের দলে রঞ্জিত। তাই এটা বলা ভালো যে তাদের রাষ্ট্রপতি (প্রাক্তন) জিম্মাকে নিয়ে উল্লসিত দেখেছি। দেশের নির্বাচন নিয়ে তারা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে প্রায়ই কথা বলত। চলতি রাষ্ট্রপতি জাম্মাহ এর প্রতি ওদের আবেগের আতিসহ্য দেখে একদিন আজাকে বলেই ফেললাম, তুমি কি বর্তমান রাষ্ট্রপতির সমর্থক? সে রাখঢাক না রেখেই তার অকুন্ঠ সমর্থনের কথা জানাল।

কিন্তু কয়েকদিন পর যখন নির্বাচন হল, তখন তার মুখখানা গোমরা দেখে বললাম, তবে কি হেরেই গেলে? আজা বলল, তাকে আর মানুষ চায় না, তাই হেরে গেছে। এর দুদিন পরে যখন গাম্বিয়ার ঘটনাবলী জটিলতার দিকে চলে যেতে লাগল, আমার গাম্বিয়ান সহকর্মীদের গোটা শরীরে হতাশার ভাব খোলাখুলিভাবেই দেখা যেতে লাগল। একদিন, আজা রাগান্বিত হয়ে তার সমর্থনের পরাজিত প্রার্থীকে গালাগালি করতে শুরু করল। কারণ, তিনি ক্ষমতা ছাড়তে চান না। বলাবাহুল্য, গাম্বিয়ান সহকর্মীদের দেশীয় ক্রাইসিস আমাকে গভীরভাবে আলোড়িত করল। কেন করল তা পাঠকমাত্রই বুঝে নিবেন।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিম্মা ২২ বছর আগে সামরিক অভ্যূত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন। কিন্তু সামরিক শাসক হলেও গাম্বিয়ানরা সেই সময় তো বটেই এমনকি গত ২২ বছরেও তাকে নিয়ে খুব অশান্তিতে ছিলেন না। কারণ  সামরিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে তিনি গাম্বিয়াকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে এসেছিলেন। সামরিক কমান্ডার জিম্বার নীতি ও শাসন রীতি গাম্বিয়ানদের মুগ্ধ করায় তারা এরপরেও তাকে বারংবার নির্বাচিত করেছিল। আর দেশি-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের কাছে ঐ সব নির্বাচন গ্রহণযোগ্যও হয়েছিল।

yahya-jammeh

কিন্তু তার পরও মিস্টার জিম্মা তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য ক্ষমতাসীনদের মতোই প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার অশুভ কর্ম থেকে বিরত থাকেননি। একদিকে জনসমর্থন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় শক্তি- সবকিছু মিলে জিম্মা তার প্রতিপক্ষদের কেবল কোনঠাসাই করেননি, একেবারে নিশ্চিহ্ন হবার দ্বারপ্রান্তে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। বিরোধী শিবিরে তো বটেই সাধারণ গাম্বিয়ানদের মনে তার সম্পর্কে যে একটি বিতৃষ্ণার ভাব ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হচ্ছিল আর দশটা ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতির মতো তিনিও তা উপলব্ধি করতে পারেননি।

তাই ২২ বছর পরের কোন নির্বাচনে যে তিনি হেরে যেতে পারেন এবং জনগণ যে পরিবর্তনে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে সেই খবরটা তার কাছে ছিল অজানা। তিনি  নির্বাচনের অল্পদিন পূর্বেও মন্তব্য করেছিলেন, তিনি গাম্বিয়া শাসনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাই শত কোটি বছর ধরেও সেই দায়িত্ব পালনে রাজি আছেন।

কিন্তু ২০১৬ সালের ১লা ডিসেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী নেতা আদম বারো যখন জনগণের রায়ে তাকে হারিয়ে দিলেন তখন তিনি একেবারে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ফেললেন। এ সময় তার হয়তো কিছুটা বোধোদয় হয়েছিল। এ নির্বাচনে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে বিরোধী কোয়ালিশনের নেতা আদম বারো পেলেন ৪৩.৩%, ইয়াহিয়া জিম্মা পেলেন ৩৯.৬% আর তৃতীয়জন পেলেন ১৭.১%।  তার মানে হল ৬০% ভোট পড়ল তার বিপক্ষে। অথচ ২০১১ সালের নির্বাচনেও তিনি পেয়েছিলেন ৭১.৫৪% ভোট।

পূর্বেই বলেছিলাম যে নির্বাচনে তার কিছুটা বোধোদয় ঘটেছিল। তাই নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হলে রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া সেটা মেনে নিলেন। ২২ বছরের এই গণতান্ত্রিক এক নায়কের এই মেনে নেয়া সারা বিশ্বের কাছে বড়ই বাহবা পেল। তাকে সবাই গণতন্ত্রের পক্ষে এক মহান নেতা বলেই ধরে নিলেন। কারণ ক্ষমতাসীন থেকে নির্বাচন করেও যে ক্ষমতাহীন হতে হয় সেটা তিনি প্রমাণ করলেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করা একজন সাধারণ মানুষও যে ২২ বছরের প্রতাপশালী রাষ্ট্রপতিকে তার গতিশীল থাকা অবস্থায় নির্বাচনে হারিয়ে দিতে পারেন- এসবই গণতন্ত্রের শিক্ষা, অনুশীলন ও মহাত্ম। আর জনগণের রায় মাথা পেতে নিয়ে বিজয়ীর অনুকূলে ক্ষমতা ত্যাগ করাই হল গণতান্ত্রিক নেতার বিশালত্ম।

কিন্তু ক্ষমতা বলে কথা! ফলাফল মেনে নেয়ার পরেই তিনি টের পেলেন যে তিনি আসলে ক্ষমতাহীন। কিন্তু সরকারি সৈন্য-সামন্ত, আমলা-মন্ত্রী এমনকি পার্লামেন্ট পর্যন্ত এখনও বহাল আছে। বহাল আছেন তিনিও রাষ্ট্রপতি হিসেবে। গাম্বিয়ান সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হওয়ারও দেড় মাস পর্যন্ত পূর্বের রাষ্ট্রপতিই ক্ষমতাসীন থাকেন। সেই অনুসারে তাকে তার পরবর্তী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে। আর ক্ষমতা হারিয়ে পাগলপ্রায় ইয়াহিয়া জিম্মা সংবিধানের এই প্রবিধানের সুযোগটুকুই গ্রহণ করতে চাইলেন।

কিন্তু জনগণকে ধোকা দেয়ার তো একটা ছল-ছুতা চাই। নির্বাচন তো তার অধীনেই হয়েছে। তাই এ নির্বাচনে সূক্ষ্ম বা স্থূল কারচুপি কোনটাই তিনি বলতে পারছেন না। তাই তিনি ঘোষণা করলেন, যদিও তিনি প্রথমে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন যে নির্বাচনে বহু ত্রুটি ছিল যে গুলোর ভুল ফলের জন্যই  তিনি পরাজিত হয়েছেন। আসলে জনগণ তাকে ভোট দিয়েছেন কিন্তু নির্বাচন কমিশনের হিসাবের গরমিলের জন্যই তার প্রাপ্ত ভোট কমে গেছে। এ জন্য তিনি দুষলেন নির্বাচনে ভোটদানের মান্ধাতার আমলের মার্বেল কৌশলকে।

মার্বেল পদ্ধতি গাম্বিয়ান নির্বাচনের একটি অনন্য পদ্ধতি। এখানে ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ভোটারদের একটি করে মার্বেল দেয়া হয়। এ মার্বেল ফেলা হয় বিশেষভাবে নির্মিত একটি ড্রামে। প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য একটি করে ড্রাম থাকে। ড্রামের মুখ সিলগালা থাকে। উপর দিকে একটি পাইপের এক পাশে একটি ছিদ্র থাকে যেখান দিয়ে মার্বেলটি পাইপে ঢুকে দিলে তা ড্রামের একটি নির্দিষ্ট স্থানে পড়ে। পড়ার সাথে সাথে তা টুং করে শব্দ করে। এ শব্দ থেকে বোঝা যায় যে তার ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে। কেউ যদি একধিক মার্বেল কোনভাবে ড্রামে ফেলতে চায়, এই শব্দ শুনেই  সেটা ধরা পড়বে।

মার্বের মার

এভাবে একটার পর একটা ড্রাম পূর্ণ হলে সেগুলো যথাস্থানে রাখা হয়। মার্বেল গণনার জন্য ছক-খোদাই করা কাঠের তক্তা ব্যবহার করা হয়। তক্তার উপর জ্যামিতিক আকৃতিতে গর্তগুলো সাজানো থাকে। প্রত্যেক গর্তে একটি করে মার্বেল রেখে গণনা করলে তা যেমন দ্রুত হয়, তেমনি সবাই, বিশেষ করে প্রার্থীর এজেন্টরা দুই নম্বরী হলে সেটা সহজেই ধরে ফেলতে পারে।

বলা বাহুল্য, এ মার্বেল পদ্ধতি চালু হয়েছিল ১৯৬৫ সালে  স্বাধীন গাম্বিয়ার প্রথম নির্বাচনেই। গাম্বিয়ার সেই সময় অধিকাংশ নাগরিক অশিক্ষিত হওয়ায় এ মার্বেল পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এখন পর্যন্ত এ মার্বেল পদ্ধতিকে পরিত্যাগ করার কথা কেউ ভাবেনি। কিন্তু জনরায়ে হেরে যাওয়ার পর সেই প্রার্থীই এ পদ্ধতির গুষ্ঠী উদ্ধার করছেন, যিনি এ পদ্ধতিতেই পূর্ববর্তী সকল নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।

পরাজিত ইয়াহিয়া জিম্মার  আর একটি অভিযোগ হল, নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। ভোটার টার্নআউট বেশি হলে তিনি অবশ্যই জিততেন। আর সবকিছু মিলে তিনি ফলাফল প্রত্যাখান করলেন। একটি জাতীয় নির্বাচনকে প্রথমে মেনে নিয়ে তার কয়েকদিন পর তা প্রত্যাখান করার পিছনে যে যুক্তিই তিনি দেখান না কেন, তা যে নিতান্তই হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য সেটা গাম্বিয়ার জনগণসহ সারা বিশ্ব বুঝতে পারলেও পরাজিত এই ক্ষমতালোভী ইয়াহিয়া বুঝতে পারেননি।

Image processed by CodeCarvings Piczard ### FREE Community Edition ### on 2016-12-12 14:45:24Z | | ‘

তিনি ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করেন।  এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে যান আদালতে যে আদালত তিনি কেবল নিজে নিয়ন্ত্রণই করতেন না, এই মুহূর্তে সেই আদালত পূর্ণাঙ্গও নয়। আদালত পূর্ণাঙ্গ করতে হলে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তার মানে হচ্ছে জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাত্তা না পেয়ে তিনি আদালতকে ব্যবহার করার ব্যর্থ চেষ্টাও করেন। আর সেটাও যখন হল না, তখন তিনি দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করলেন।

কিন্তু তাতেও তার শেষ রক্ষা হল না। তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না বুঝতে পেরে নির্বাচিত প্রার্থী জনাব আদম বারো বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। একটি সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ সেনেগালে গেলেন। আর নির্ধারিত দিনে সেনেগালের গাম্বিয়ান দূতাবাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন। এর অর্থ হল ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারিতে গাম্বিয়ায় দুজন রাষ্ট্রপতি ক্ষমতায় থাকলেন। একজন নির্বাচিত ও নির্বাসিত অন্যজন পরাজিত ও ক্ষমতাসহ দেশে রাষ্ট্রপতির ভবনে।

ইতোমধ্যে অবশ্য চলল শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ। প্রথম দিকে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও পশ্চিম আফ্রিকান কমিউনিটি সেনেগালের নেতৃত্বে গাম্বিয়ায় প্রবেশ করে নাছোড়বান্দা ইয়াহিয়াকে জোরপূর্বক তাড়ানোর হুমকি দিল। কিন্তু পরে রফা হল যে ইয়াহিয়া নির্বাসনে যাবেন এবং তা পশ্চিম আফ্রিকান কমিউনিটি লিডারদের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই।

২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি ইয়াহিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে ইকুইটোরিয়াল গিনির উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ বিমানে করে রওয়ানা হন। ১লা ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই নাটকের অন্তিম অঙ্ক অভিনীত হল ২২ বছরের শাসকের জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই।

২২ বছরের ক্ষমতায় রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া জাম্মাহ গাম্বিয়াকে একটি স্থিতিশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সামরিক শাসক হয়েএ তিনি জাতিকে একাধিক সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছিলেন। তার নীতি ও শাসন গাম্বিয়ানদের শেষ পর্যন্ত সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাই তারা তাকে নির্বাচনে প্রত্যাখান করেছেন। কিন্তু জনগণের প্রত্যাখানকে তিনি পাল্টা প্রত্যাখান করে গাম্বিয়াকে একটি বড় ধরনের জটিলতায় ফেলে দিতে চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার শেষ রক্ষা হয়নি, শেষ রক্ষা হল গাম্বিয়ান জনগণের।

গাম্বিয়ান কলিগ

২৬ জানুয়ারি, ২০১৭ সেনেগাল থেকে দেশে ফিরে নতুন রাষ্ট্রপতি বিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মানবাধিকারসহ অন্যান্য অপরাধসমূহ উদ্ঘাটনের জন্য একটি ট্রুথ ও রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ কথা ঠিক যে পরাজিত ইয়াহিয়া ক্ষমতায় থাকার জন্য তার ক্ষমতাকে নানাভাবে ব্যবহার করেছেন। নির্বাচনকে তার পক্ষে নেয়ার জন্য তিনি বিরোধীদের দমন করেছেন। গুম, খুন, নির্যাতন, নির্বাসন সব কিছুই ছিল তার কৌশলের মধ্যে। কিন্তু গাম্বিয়ার জনগণ তার সব দোষকেই হয়তো ক্ষমা করে দিত, নতুন রাষ্ট্রপতি তার প্রতি হয়তো প্রতিহিংসা পরায়ণও হতেন না। কিন্তু স্বৈর শাসকদের ক্ষমতাহীনতার যে ভীতি তা থেকে তিনি কিছুতেই মুক্ত হতে পারেননি। কিন্তু যে ভীতি দূর করার জন্য তিনি ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকতে চেয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত তাই তাকে বিচারের সম্মুখীন করার পথ পরিষ্কার করল। (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইউএন হাউজ, দক্ষিণ সুদান)।