ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

bpsc

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সাথে সাক্ষাতের সময় বলেন যে তারা বিসিএস পরীক্ষা ইংরেজিতে গ্রহণেরও পরিকল্পনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আবার আলোচনা-সমালোচনাও চলছে। জনব শিশির ভট্টাচার্য্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অনলাইন পত্রিকার মতামত কলামে পিএসসির এ উদ্যোগকে, ‘ইংরেজি ভাষায় বিসিএস: বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির জন্যে অশনি সংকেত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন কিংবা উৎসাহিত হওয়ার তেমন কোন কারণ নেই। কারণ পিএসসি কর্তৃপক্ষের এ তথ্যটি ‘বহু পুরাতন ভাব নব আবিষ্কার’ ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার জানা মতে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা-ইংরেজি উভয়ই গোড়া থেকেই প্রচলিত। প্রশ্নপত্রের গোড়াতেই লেখা থাকত, পরীক্ষার্থীগণ চাইলে ইংরেজি কিংবা বাংলা যে কোন ভাষায় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

আমি নিজেও ২০তম বিসিএস এ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর উত্তর ইংরেজিতে করেছিলাম। ইংরেজিতে প্রশ্নের উত্তর করার পিছনে আমার মাথায় দুটো বিবেচনা কাজ করেছিল। প্রথমত, আমার হাতের লেখার গতি খুবই ধীর। কিন্তু এটা যে কেউ স্বীকার করবেন যে, বাংলার চেয়ে ইংরেজিতে লেখা দ্রুততর হয়। সাধারণ জ্ঞানের বিষয়গুলোর আমার জানা বিষয়গুলো পরীক্ষার খাতায় লিখতে গেলে প্রয়োজন দ্রুততর লেখার। দ্বিতীয়ত, আমার একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস ছিল যে ইংরেজিতে লিখলে পরীক্ষক আমাকে কিছুটা ব্যতীক্রমী পরীক্ষার্থী ভেবে ভাল নম্বর দিবেন। তবে ইংরেজিতে লেখার জন্য পরীক্ষকগণ আমাকে অপেক্ষাকৃত ভাল নম্বর দিয়েছিলেন কিনা জানি না। তবে সেই বিসিএস-এ আমি একটি ভাল ক্যাডার পেয়েছিলাম। তবে বাংলায় উত্তর করলে যে ভাল নম্বর পাওয়া যেত না তা সঠিক নয়। কারণ হাজার হাজার পরীক্ষার্থী তো বাংলায় উত্তর দিয়েই বিসিএস উৎরে গেছেন।

বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে তাই ইংরেজিকে নতুন করে প্রবর্তনের খবর নতুন কিছু নয়। এটা যারা বলছেন, সেটা কেবল চমক সৃষ্টির জন্যই বলছেন। অধিকন্তু এটার বিরোধিতা করারও কিছু নেই। এতে বাংলা ভাষার অবমাননাও হয় না, বাংলা ভাষা সঙ্কটের মধ্যেও পড়বে না।

ইংরেজিতে পরীক্ষা দিয়ে ইংরেজি মাধ্যম বা ভার্সনে পড়ুয়ারা যে বাংলা মাধ্যমে পড়ুয়াদের চেয়ে বেশি নম্বর পাবে বা তারা বিশেষ কিছু সুবিধা পাবে, এমন ভাবনা নিতান্তই অমূলক। কারণ বিসিএস পরীক্ষা কোন শিশুশ্রেণির পরীক্ষা নয় যে কেবল ভাষা পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষকের সহানুভূতি আদায় করা যাবে। এ পরীক্ষায় যে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে সেগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে কেউ যেমন ভাল নম্বর পেতে পারে না, তেমনি তার প্রকাশভঙ্গির দুর্বলতাও তাকে পিছিয়ে দিবে। যারা বাংলায় মনের ভাব সঠিক ও কারুকার্যমণ্ডিতভাবে প্রকাশ করতে পারেন না, তারা ইংরেজিতে সেটা পারবেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। আর মনের ভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারলে, কিংবা পরীক্ষার্থীর লেখার মধ্যে প্রাসঙ্গিকতা কিংবা তথ্য-যুক্তির পর্যাপ্ততা না থাকে তাহলে কেবল ইংরেজিতে লেখার জন্য বাংলা-মাধ্যমের পরীক্ষার্থী যারা তার লেখার মধ্যে প্রাসঙ্গিকতা ও তথ্য-যুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটিয়েছেন তাদের চেয়ে বেশি নম্বর পাবেন– এটা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই।

(৭ মার্চ, ২০১৭; ইউএন হাউজ, জুবা, দক্ষিণ সুদান)।