ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

আমার কর্মজীবনের একটা বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মেন্টরিং করা, মূল্যবোধের উপর সেশন নেওয়া। আমার মত একটা পাগলাটে মানুষের কাছে যারা পরামর্শ নিতে আসেন, তারা যে কতটা অসহায় সেটা বলাই বাহুল্য। গ্রাম থেকে গ্রামে, শহরের বিভিন্ন কোণে, সেশন নিতে গিয়ে আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি- মানুষের সমস্যা আর জটিলতার অন্যতম মূল উৎস হল- আত্মবিশ্বাসের অভাব। আমি প্রায়ই আমার নারী Participant- দের একটা প্রশ্ন করি- “আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে?” অধিকাংশই খুব অস্বস্তিভরে একটা হাসি দেয়।

অনেকের চোখে স্পষ্ট প্রতিবাদ এবং অবিশ্বাসের দৃষ্টি দেখি। আমি তখন মায়েদের দিকে তাকিয়ে বলি, “আপনার বাচ্চার কাছে যদি এই মুহুর্তে শাবানা বা ববিতাকে এনে দেওয়া হয়- বলা হয় যে, আজ থেকে এই সুন্দরী মহিলাটি তোমার মা- আপনার কি মনে হয় আপনার বাচ্চা আপনাকে ছেড়ে তার কাছে যাবে?” তখন সবাই একবাক্যে বলেন, “না, যাবে না।” তখন আমি বলি, “এবার কি বুঝলেন, পৃথিবীতে কোন একজনের চোখে আপনি সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত?” যে শিশুর মুখে কথা ফোটে নি, সে-ও তার কান্না দিয়ে বুঝিয়ে দেয়, তার মাকে সে অন্য কাউকে দিয়ে রিপ্লেস করবে না।
একই কথা, মায়ের ক্ষেত্রেও সত্য। তার চোখে তার সন্তানের চেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি আর কেউ নেই। এই কথাগুলো বলার একটা কারণ আছে। আপনি যতক্ষণ নিজেকে ভালবাসতে না পারবেন, ততক্ষণ অন্যকে ভালবাসা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না। যে মেয়ে নিজেকে সুন্দর ভাবে না, সে মেয়ে অন্য মেয়ের সৌন্দর্য অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারবে না। অন্যের সৌন্দর্য তার মনে কেবলই ঈর্ষা জাগাবে। সৌন্দর্য দর্শনের নির্মল আনন্দ জাগাবে না।
সাধে কি যীশু বলেছিলেন- “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাস”! তাঁর ভাষ্যমতে, এইটুকু করতে পারলেই পৃথিবীর সমস্ত আইন-কানুন মান্য করা হয়ে যায়। আসলেই তাই। নিজেকে যেভাবে ভালবাসেন, সেভাবে ভালবাসলে আপনি কোন মানুষকে কষ্ট দিতে পারবেন না। কিন্তু, আমরা পোস্ট-মর্ডান মানুষ যে নিজেকে ভালবাসতেই ভুলে গেছি! সারাক্ষণ inferiority complex আমাদের কুরে কুরে খায়।

সবশেষে , পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে বলি, মায়ের চোখ দিয়ে পৃথিবীটা দেখুন। নিজেকে আগে ভালবাসুন, তারপর বাকি সবাইকে ভালবাসতে পারবেন। যারা নিজেকে ভালবাসেন না, তারা অন্যকে সম্মান দিতে পারবেন না। তাদের দিন গুজরান হবে সাকিব আল হাসানের পোস্টে জ্ঞান বিতরণ করে, অশ্লীল কমেন্ট করে। কারণ নিজের মনের গহীনে তারা জানেন, এ জগতে কেউ তাদের পোছে না। সাকিবের পোস্টে কমেন্ট করে তাও যদি মানুষের দৃষ্টি কাড়া যায়। ভাল কাজ দিয়ে কারো নজর কাড়ার সাধ্য যেহেতু নেই, অতএব বিখ্যাত মানুষের গায়ে কাদা ছুঁড়ে কুখ্যাত হই। এইসব হীনম্মন্য মানুষের জন্য রইল আমার আন্তরিক সমবেদনা। এরা কি কোনদিন নিজের মায়ের চোখ দিয়ে নিজেকে দেখবেন? কী জানি!

slide