ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

হে আমার সহপ্রজন্ম, তোমরা যারা সাহিত্যে কেবলই বিনোদন খুঁজেছ, বইমেলাায় গিয়ে শুধু একটাই স্টলের সামনে ভিড় করেছ, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি। কালকে যে টাকমাথা ভদ্রলোক মারা গেছেন, তার সম্পর্কে কি একটু গুগল করতে ইচ্ছে হয় তোমাদের? আমার বয়সী যারা তাদেরকে ভয়ে ভয়ে বলছি, এতদিনে বোধহয় পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় বা নুরুলদীনের সারা জীবন পড়ার মত বয়সে এসেছ, ভায়েরা ও বোনেরা।

একটু নুরুলদীনের সারাজীবন পড়ে দেখ! দেখ কী পবিত্র দু:খে মনটা ছেয়ে যায়। পরানের গহীন ভিতরটা পড়ো, আশ্চর্য হয়ে দেখ তোমার দু:খটা কি আশ্চর্যভাবে ধারণ করে গেছেন সেই জাদুকর! বাজিকর মানে শাহরুখ খান নয়, বাচ্চো। আরো বড় বাজিকর আছে দুনিয়ায়। তাকে একটু জান!

ভারি লজ্জা লাগে যখন দেখি, সৈয়দ শামসুল হক বা হরিপদ দত্তের মত লেখক আমার প্রজন্মের কাছে এলিয়েনের মতই অচেনা। এই মানুষগুলো তোমাকে বিনোদিত করতে আসেন নি। এসেছিলেন নাড়িয়ে দিতে। মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষকে জাগিয়ে তুলতে! তোমার নাগরিক দেয়ালকে ভেদ করে যে অনুভূতি কোনদিন তোমার কাছে পৌঁছায় নি, যে কষ্ট তুমি কোনদিন তুমি কোনদিন পাও নি, কিংবা পেলেও যা ভাষা পায় নি- সেগুলো সব তিনি কাগজের গায়ে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। একবার তাকে পড়ে দেখ, দেখ পরাণের গহীন ভেতরে কেউ রুমাল নাড়ে কী না!
হয়তো চিত্‌কার করে তোমারও বলতে ইচ্ছে হবে- জাগো কবি, এই তো সবাই!

(সতকী‍র্করণ: প্লীজ, খেলারাম খেলে যা দিয়ে যেন শুরু করতে যেও না। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত)