ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

ক্ষুধা মেটানোর জন্য আমরা অনেক কিছুই করি। সম্ভবত এই ক্ষুধার যন্ত্রণা না থাকলে মানুষ কাজ-কর্ম তেমন একটা করতেন না। কেউ ক্ষুধা নিবারণের জন্য চুরি করছে। কেউ ছ্যাঁচড়ামি করছে। কেউ অফিসে কাজ করে। কেউ আদালতে। এমন অনেক কিছুই করছে এই ক্ষুধার জন্য। অর্থাৎ ক্ষুধা মেটানোটা মানুষের মৌলিক একটি অধিকার। সে যেভাবেই হোক ক্ষুধা মেটাবেই।

এই ক্ষুধার মতোই যৌনতাও একটি ক্ষুধা। এটি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে এই ক্ষুধাটা কেউ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মেটায় না। বিশেষ করে বাঙালি সমাজ। কারণ, আমরা পেটে ক্ষুধা আর মুখে শরম নিয়ে বসে থাকতেই ভালোবাসি। আমাদের লজ্জা কিঞ্চিৎ বেশি। তাই বলে ভুখা থাকে? না। যেভাবেই হোক ক্ষুধা নিবারণ সে করবেই, করবে।

আমাদের সমাজ যৌন ক্ষুধাটা কখনোই ভালো চোখে দেখে না। সমাজ বুঝতেও চায় না, প্রতিটি জীবনের অন্যতম একটি চাহিদার একটি যৌন-কাম-বাসনা। একে বাদ রেখে জীবন ধারণ অসম্ভব। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ক্ষুধার জন্য পুরুষের বেলায় কিছু যায় আসে না। যখন-তখন ইচ্ছে হলেই তারা ব্রোথেলে যেতে পারে বা অন্য কোন উপায়ে অন্যত্র মিটিয়ে নিতে পারে। আর নারীর বেলায় যত দোষ নন্দ ঘোষ।

আমাদের পুরুষ সমাজের এমন একটা ভাব, যেন নারীর যৌন চাহিদা থাকতে নেই! তাদের এসব থাকবে কেন! তারা কেবল পুরুষের জন্য! পুরুষ চাহিবা মাত্রই নারীকে স্বীয় বিছানায় আসতে হবে, শুতে হবে ইচ্ছে বা অনিচ্ছায়! পুরুষের তৃপ্তি মেটানোটাই যেন নারীর একমাত্র কাজ! নারী তৃপ্ত হোক বা না হোক তাতে কিছু আসে যায় না। নারী যেন মানুষ নয়। তার যেন কোন চাওয়া নেই। তার কিছু পেতে নেই!

22-1437557709-bedroom1

এই সমাজে হাজার হাজার নারী আছে, যারা স্বামী দ্বারা যৌন-কাম-বাসনায় তৃপ্ত নন। তারপরও তারা স্বামীর সাথে থাকছেন। সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলতে পারেন, স্বামী যদি যৌন-অক্ষম হবে, তাহলে সন্তান জন্ম দিল কিভাবে? এমন প্রশ্ন যারা করবেন, এই লেখাটি তাদের জন্য নয়। এই লেখার ভাবার্থও তারা বুঝবেন না। সুতরাং তার প্রশ্ন তো দূরের কথা, লেখাটি পড়া থেকেও বিরত থাকুন।

আমার ছেলে বন্ধুর চেয়ে মেয়ে বন্ধুর সংখ্যাটাই একটু বেশি ছিল এখনও আছে। আর এরা প্রত্যেকেই আমার থেকে অনেকটা সিনিয়র। তবে এরা কেউ নাস্তিক, মুক্তমনা বা অত্যাধুনিক নন। তবে তারা মানুষ। ভীষণ রকমভাবে ভালো মানুষ। এ লেখায় এদের মধ্য থেকে দু’জনের বর্ণনা তুলে ধরি ছদ্ম নাম ব্যবহার করে।

রিক্তা (ছদ্মনাম) : উচ্চ শিক্ষিতা ও চোখ জুড়ানো সুন্দরী সে। তার বিয়ে হওয়ার এক বছর পর্যন্ত খুব ভালো ছিল সে। তার স্বামীর প্রতি তার কোন অভিযোগ ছিল না। স্বামী খুবই ভালো মানুষ, এখনও। তার বিবাহিত জীবনে একটি মেয়ে সন্তান এসেছে। সন্তান জন্মাবার পর থেকেই তার স্বামী তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তবে যৌন সম্পর্ক তাদের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু, রিক্তা হ্যাপি নন। তার স্বামীর কাছে যৌন চাহিদা মানেই নিজের তৃপ্তি। স্ত্রী তৃপ্ত হল কি না? সে খেয়াল তার নেই।

সে চায় তার স্বামী কাছে আসুক আগের মতো। কিন্তু, কিছুতেই চেনা স্বামীটিকে খুঁজে পায় না সে। যৌনতা মানেই যে বীর্য নির্গমন নয়, যৌনতাও যে একটি আর্ট, সেটা তার স্বামীর মধ্যে একবিন্দুও নেই। বেশ ক’বার ভেবেছিল সংসার ছাড়বে। পারে নি, নিন্দাকাটার ভয়ে। আবার এ-ও চেয়েছে, অন্যত্র সম্পর্ক করে কিছুটা সুখী হতে। তা-ও পারে নি। সে পারে নি তার স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে। তবে কয়েকবার সম্পর্ক করেছিল সে। সেটা আর দেখা বা কাছে যেতে পারে নি। বিবেক আটকে দিয়েছিল। ফিরে এসেছিল সে। রিক্তা এখনও আছে হাসি হাসি মুখ নিয়ে। ফেসবুকে একের পর এক সেলফি আপলোড করে হাসি মুখে। দেখে সবাই ভাবে তার মতো অমন সুখী আর কেউ নেই!

রিক্তার মত একই অবস্থা মিতার (ছদ্মনাম) : সে তার বিবাহিত জীবনের ২৫ বছরে তার স্বামীর কাছ থেকে ১ থেকে দেড় মিনিটের বেশি যৌন সুখ উপভোগ করতে পারে নি। অথচ এই মিতাকে ভালোবেসে এক ব্যবসায়ী তার জীবনের পুরো সময়টাই সিঙ্গেল হয়ে রইলেন। কিন্তু এরপরও মিতা তার সংসার ছাড়তে পারেনি।

শুধু রিক্তা বা মিতাই নন, আমাদের চারপাশে অনেক নারী আছেন, সমাজ-সংসার আর নিন্দার কাটার ভয়ে দিনের পর দিন এই যৌন-ক্ষুধায় কষ্ট করছেন। যৌন সুখ কী? তা এখনও অনুধাবন করতে পারে নি। হাজার ইচ্ছে থাকলেও তারা শৃঙ্খল ভাঙতে পারছে না। কেউ কেউ ভাঙলেও অনেকে মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছেন আর ‘ভালো আছি’ মার্কা একটা সাইনবোর্ড মুখে ঝুলিয়ে রাখেন। কারণ, নারী আজও পুরুষের মত এতটা স্বার্থপর হতে পারে নি।

একজন নারী তার নিজের প্রয়োজন মেটানোর আগে দশবার ভাবে তাকে ঘিরে থাকা মানুষগুলোর কথা। সে ভাবে, তার সুখের জন্য আপনজনদের মাথা যেন নিচু না হয়। যার ফলে নারী সয়ে যেতে পারে, বয়ে যেতে পারে না পাওয়া যন্ত্রণাগুলো। তার ভেতরে দগদগে ক্ষতগুলো আড়াল করতে পারে সে মুখে মেক-আপ, স্নো, পাউডার মেখে সুখী সুখী হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে রেখে।

এবার বলুন তো, তাদের মত যদি পুরুষরা হতো। কোন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর কাছ থেকে যৌন সুখ না পেতেন, তাহলে তিনি কী করতেন? নিশ্চয় ব্রোথেল কিংবা বান্ধবী অথবা দ্বিতীয় বিয়ে করতে নিশ্চয় দ্বিধা করত না? তাহলে কী দাঁড়ালো? নারীর তুলনায় পুরুষ ভীষণ রকম স্বার্থপর?