ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

দীপজেলা ভোলার মনপুরা উপজেলায় অমাবশ্যা ও লঘুচাপের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে ভাঙ্গা বেড়ীবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে সাত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে রমজানে দুর্ভোগ পড়েছে উপজেলার দুই ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

20170611_160930

উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের কুলাগাজীর তালুক, ঈশ্বরগঞ্জ, কাউয়ারটেক, আন্দিরপাড় গ্রাম ও হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, সোনারচর, চরযতিন গ্রাম জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও প্রায় তিন শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। পানিবন্দি বেশিরভাগ মানুষের রান্না ঘরের চুলায় হাড়ি না উঠায় না খেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনযাপন করছে।

 

20170611_160708

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মেঘনার পানি বিপদসীমার ২০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, জেলায় ১৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়াও লঘুচাপের কারনে তিন নম্বর সর্তকতা সংকেত জারি করা হয়েছে।

20170611_155518

পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতির কারনে এ সমস্যার তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পানিবন্দি কয়েকজন এলাকাবাসী। তারা বলেন, আমরা রমযান মাসে জোয়ারে ডুবছি। গত তিন বছর ধরে পাউবো ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় বছরের ছয় মাস সকাল-রাতে পানিবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়। গত দুইদিন ধরে না খেয়ে রোযা রাখতে হচ্ছে।

হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান দিপক চৌধুরী দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

বেড়িবাধ মেরামতের ক্ষেত্রে বর্ষাকে বাধা উল্লেখ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, বর্ষায় ভাঙ্গা বেড়ীবাঁধের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তারপরও মেশিনের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করার জন্য ঠিকাদারদের বলা হয়েছে।

আর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও পাউবোকে অবহিত করার কথা জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হাওলাদার।