ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

মানব মুক্তির লক্ষে আমরা যখন চিন্তা করি, ইতিহাসের পাতা থেকে বেছে বেছে এডভেঞ্চারে গা ভাসিয়ে, যে কোন বর্ণবাদী আন্দোলনকে সমর্থন করতে পারি না। মানুষ হিসেবে সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, অবিশ্বাসী ও সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেই হয়, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) রাজনীতির মুক্তির পথ খুঁজতে হয়।

প্রগতিশীল শব্দটির মধ্যেমে- বৈষম্যমুক্ত, শোষণমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার চিন্তা। মুক্তিকামী, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সক্ষম এবং সৃষ্টিশীল মানুষদেরকে বুঝতে পারি।

প্রথমে কয়েকটি উদাহরণ দেই-

‘অগ্রযাত্রা’ বলতে কি বুঝি?

পৃথিবীর মঙ্গল অগ্রযাত্রার চিন্তাগুলি যুগে যুগে ধারালো অস্ত্রের সম্মুখে ‘যুক্তি ও মুক্তির বাণী’ নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন। আদিকাল থেকেই সমাজপতিগণ তাদের সুযোগ-সুবিধা, ভোগ-বিলাস, আরাম-আয়েশের জন্য নতুন নতুন ফর্মুলা তৈরী করেন। অসহায়, নিপীড়িত মানুষকে দামিয়ে রাখার নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করতেও সক্ষম হয় তারা এবং তার প্রয়োগও করেছেন যা আজো চলমান। সমাজের ঐ স্বার্থন্বেষী মহলটি পৃথিবীর সুখ ভোগ করতে মানুষকেই পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। শাসক শ্রেণীর লোভী মানষপটের বিরুদ্ধে যেকোন লেখা বা বক্তব্য প্রদানকারীকে রাষ্ট্রদ্রোহী বা ধর্মদ্রোহী বলে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অহরহ নজির রয়েছে।

download

পৃথিবীতে যে কয়টি আলোক প্রদীপ আজো জ্বলজ্বলকে আলোকিত করছে আমাদের, সেই প্রদীপের প্রথম সূচনা কখনো মসৃণ হয়নি। দর্শন, ধর্ম বা সাম্যবাদের মহাপুরুষদের সৃষ্টি সব সময় তুচ্ছ করা হয়েছিল।

741312_534311849926658_661818523_o

যে প্রদীপ আলোক জ্বালাতে পৃথিবীতে জন্ম নেয়, তাকে কে থামাতে পেরেছে? প্রথমে বলতে হয় মিশরীয় সভ্যতা, আরব্য সভ্যতা, ভারতীয় দর্শন বর্তমান সমাজে ব্যপক প্রভাব বিস্তার করে আছে।

অভিযাত্রীরা সব সময় যুক্তি খুঁজে, তার সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলে যায়, তাদের সৃষ্টি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মহামূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আমাদের মহানবীর কথাই বলি, তিনি যখন বিদায় হজ্বের ভাষণ দেন, তখন কতজন মুসলিম ছিল পৃথিবীতে? তার দর্শন ও চিন্তার খুব সামন্যই আজ অবশিষ্ট আছে এটি সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণও আছে। তার পূর্বে ইহুদিদের মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন আব্রাহাম, এ বাংলায় গৌতম বুদ্ধ, শ্রী কৃষ্ণেরমত মহাপুরুষদেরকেও মানুষের মুক্তির পথ দেখাতে হয়েছিল।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, প্রাচীন সভ্যতার দর্শন আজ শাসকদের হাতিয়ার হিসবে ব্যবহৃত হচ্ছে, পথ পরিক্রমায় তাদের সৃষ্টিগুলি আজ বেহাত হয়ে গেছে।