ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক, মতামত-বিশ্লেষণ

 

উকিলিকস এর বিষয়টি ভালোভাবে বুঝার পর জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে খুব কাছের লোক মনে হয়। লোকটাকে আমার নিজস্ব সম্পত্তি ভাবতে শুরু করি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এন্ড কোং এর প্রতি পঞ্জীভূত ক্ষোভ কিংবা ঘৃনা থেকে এরকম ভাবনার উদয়। এটা আমার নিরীহ স্বীকারোক্তি। একটি রাষ্ট্র কিভাবে পুরো পৃথিবীর উপর নাক অপচয় করতে পারে, সেটা দেখে হিংসাও হয়। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি কতোটা গ্লোবাল রূপ পেলে এরকম ক্ষমতা অর্জন সম্ভব! আর ঠিক তার উপর যে টেক্কা খেলতে পারে, সেইতো সবার গা মচমচে হিরো হবে- এটা খুব স্বাভাবিক।

অবশ্য বাংলাদেশের অনিচ্ছার ধন ঢাকা শহরে বসে থেকে উইকিলিকস কিংবা জুলিয়ানকে নিয়ে একেবারেই গভীর ভাবনা ভাবার আগে খুব হুঁশিয়ার হতে হয়। কারণ আমাদেরতো একজন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নেই। ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে কেবল জর্জ ডব্লিও বুশ আর ওসামা বিন লাদেন দেখি। কিছু মানুষ মনে হয় এ লজ্জা মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা বাংলাদেশের এক হতভাগ্য কুলাংগারের সাথে জুলিয়ানের তুলনায় নেমেছে। কিছুদিন ধরে দৈনিক আমারদেশ পত্রিকায় এ রকম ঝি কুত কুত খেলা চলছে। কুত কুতের একেক লাফে তারা দেশ মহাদেশ পেরিয়ে জুলিয়ানের কান ধরে টেনে নিয়ে আসছে বাংলাদেশে।

সামহোয়ার ইন ব্লগে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটা লেখা পড়লাম, যার শিরোনাম “উইকিলিকস এবং আমারদেশ” “জুলিয়ান ও মাহমুদুর রহমান”! লজ্জা আর লজ্জা! দৈনিক আমারদেশ এর ২৭ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মদ তানজীর নামে এক ভদ্দরলোক লিখেন “উইকিলিকস এবং আমারদেশ”(www.amardeshonline.com/pages/details/2010/12/27/60020)। পড়ি আর হাসি। হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পড়ে যাই। আবার উঠি, আবার পড়ি, আবার হাসি, আবার চেয়ার থেকে পড়ি!

একজন মাহমুদুর রহমানের মতো ভাড়াটে চাটুকার সম্পাদকের সাথে অশ্বতরুন অ্যাসাঞ্জের কিংবা দৈনিক আমারদেশ এর মতো দলীয় সাইনবোর্ড পত্রিকার সাথে মেধাবী উইকিলিকস এর তুলনা দেখে থম ধরে বসে থাকি আমার ১৭ ইঞ্চি মনিটরের সামনে।

আহ! জুলিয়ান!
উহ! মাহমুদুর রহমান!